০২:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
বিদ্যুৎ খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা নিয়ে সতর্ক সিপিডি, নতুন জীবাশ্মভিত্তিক প্রকল্পে ‘না’ বলার আহ্বান মোহন রাইহানকে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেবে ২ মার্চ, স্থগিতের পর নতুন সিদ্ধান্ত মার্কিন চাপ: চীনা চিকিৎসা জাহাজকে সেবা দিতে দিল না চিলি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নকল নগ্ন ছবি ঘিরে তোলপাড়: কঠোর অনলাইন আইন চান স্প্যানিশ নারী অধিকারকর্মী পাক- আফগান যুদ্ধে পাকিস্তানের পাশে থাকবে আমেরিকা ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন দপ্তরে অ্যানথ্রপিকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার বন্ধ, প্রতিরক্ষা দপ্তরের চোখে ‘সরবরাহ শৃঙ্খল ঝুঁকি’ উপহার হিসেবে নতুন স্নাইপার রাইফেল, কন্যাকে সামনে এনে শক্তির বার্তা দিলেন কিম জেল খানায় আরো এক ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যূ চীনা প্রযুক্তিকে বিশ্বমঞ্চের কেন্দ্রে তুলছে প্রদর্শনী রোবট তিন বছর পর ঝড় তুলে ফিরল ব্ল্যাকপিংক, ‘ডেডলাইন’ ঘিরে সিউলে গোলাপি উন্মাদনা

বয়স বাড়লেই কি স্বাদ–গন্ধ কমে যায়? কারণ, ঝুঁকি ও করণীয় জানুন বিস্তারিত

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন আসে। তারই একটি হলো স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতি কমে যাওয়া। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ষাটের পর এই পরিবর্তন অনেকের ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক। তবে সব ক্ষেত্রে বিষয়টি কেবল বয়সজনিত নয়। এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে আরও নানা শারীরিক সমস্যা। তাই উপসর্গকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়।

স্বাদ–গন্ধ কমার স্বাভাবিক ব্যাখ্যা
মানুষের নাক ও জিহ্বার সংবেদনশীল কোষ বয়সের সঙ্গে ধীরে ধীরে কম কার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে খাবারের স্বাদ আগের মতো তীব্র লাগে না, পরিচিত গন্ধও মৃদু হয়ে যায়। অনেক সময় এটি ধীরে ধীরে ঘটে, তাই অনেকে বুঝতেও পারেন না কখন পরিবর্তন শুরু হয়েছে।

বয়স বাড়লে বন্ধুত্ব কমে নাকি বদলে যায় সংজ্ঞা!

যেসব কারণে সমস্যা বাড়তে পারে
শুধু বয়স নয়, নাক ও সাইনাসের নানা সমস্যা যেমন অ্যালার্জি, সাইনাসের প্রদাহ বা নাকে পলিপ থাকলে স্বাদ ও গন্ধ কমে যেতে পারে। ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, সাধারণ সর্দি-কাশি কিংবা করোনাজনিত সংক্রমণও বড় কারণ হিসেবে দেখা গেছে।

কিছু ওষুধ যেমন উচ্চ রক্তচাপের নির্দিষ্ট ওষুধ বা হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। দাঁতের সমস্যা, ধূমপান, মাথা বা মুখে আঘাত—এসবও ঝুঁকি বাড়ায়।

এ ছাড়া মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের কিছু রোগ যেমন আলঝেইমারস বা পারকিনসনস রোগের ক্ষেত্রেও স্বাদ–গন্ধের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

জীবনযাত্রায় প্রভাব কতটা
স্বাদ ও গন্ধ কমে গেলে খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যায়। এতে পুষ্টিহীনতা তৈরি হতে পারে। অনেকেই খাবার সুস্বাদু করতে অতিরিক্ত লবণ বা চিনি ব্যবহার শুরু করেন, যা উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে মানসিক প্রভাবও পড়ে। একঘেয়েমি, হতাশা বা অবসাদ তৈরি হতে পারে। ফলে বিষয়টি শুধু ইন্দ্রিয়গত সমস্যা নয়, সামগ্রিক জীবনমানের সঙ্গেও জড়িত।

বয়স বাড়ে, শক্তি কমে… কিন্তু ক্ষুধা আর কষ্ট কখনো কমে না।

কবে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন
যদি হঠাৎ করে স্বাদ ও গন্ধ কমে যায়, অথবা দীর্ঘদিন ধরে উন্নতি না হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা দিলে উপসর্গ কমে আসে।

যদি কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হয়, চিকিৎসক ওষুধ পরিবর্তন করতে পারেন। নাক–সাইনাস বা দাঁতের সমস্যা থাকলে তারও চিকিৎসা সম্ভব। ধূমপান ছাড়লে অনেক সময় গন্ধের অনুভূতি কিছুটা ফিরে আসে।

করোনার পর স্বাদ–গন্ধ হারানো
করোনাজনিত সংক্রমণের পর অনেকেই স্বাদ ও গন্ধ হারানোর অভিজ্ঞতা পেয়েছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উন্নতি হয়। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে মাসের পর মাস এই সমস্যা স্থায়ী হতে পারে।

এ অবস্থায় ধৈর্য রাখা জরুরি। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।

করোনা ছাড়াও যে ভিটামিনের অভাবে হারাতে পারেন স্বাদ-গন্ধ

ঘ্রাণ প্রশিক্ষণ থেরাপি কী
যদি মূল কারণের চিকিৎসার পরও উন্নতি না হয়, তাহলে ঘ্রাণ প্রশিক্ষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করা যেতে পারে। এতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট চারটি ভিন্ন গন্ধ ১০ থেকে ২০ সেকেন্ড করে দিনে দুইবার অন্তত তিন মাস ধরে শোঁকার অনুশীলন করা হয়। এতে ধীরে ধীরে ঘ্রাণশক্তি ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

প্রয়োজনে অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞ, কান-নাক-গলা বিশেষজ্ঞ বা স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার কথাও বলা হয়।

স্বাদ–গন্ধ কমে যাওয়া অনেক সময় স্বাভাবিক বয়সজনিত পরিবর্তন হলেও, এটি শরীরের অন্য কোনো সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। তাই উপসর্গ অবহেলা না করে সচেতন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

বিদ্যুৎ খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা নিয়ে সতর্ক সিপিডি, নতুন জীবাশ্মভিত্তিক প্রকল্পে ‘না’ বলার আহ্বান

বয়স বাড়লেই কি স্বাদ–গন্ধ কমে যায়? কারণ, ঝুঁকি ও করণীয় জানুন বিস্তারিত

১২:৫১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন আসে। তারই একটি হলো স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতি কমে যাওয়া। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ষাটের পর এই পরিবর্তন অনেকের ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক। তবে সব ক্ষেত্রে বিষয়টি কেবল বয়সজনিত নয়। এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে আরও নানা শারীরিক সমস্যা। তাই উপসর্গকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়।

স্বাদ–গন্ধ কমার স্বাভাবিক ব্যাখ্যা
মানুষের নাক ও জিহ্বার সংবেদনশীল কোষ বয়সের সঙ্গে ধীরে ধীরে কম কার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে খাবারের স্বাদ আগের মতো তীব্র লাগে না, পরিচিত গন্ধও মৃদু হয়ে যায়। অনেক সময় এটি ধীরে ধীরে ঘটে, তাই অনেকে বুঝতেও পারেন না কখন পরিবর্তন শুরু হয়েছে।

বয়স বাড়লে বন্ধুত্ব কমে নাকি বদলে যায় সংজ্ঞা!

যেসব কারণে সমস্যা বাড়তে পারে
শুধু বয়স নয়, নাক ও সাইনাসের নানা সমস্যা যেমন অ্যালার্জি, সাইনাসের প্রদাহ বা নাকে পলিপ থাকলে স্বাদ ও গন্ধ কমে যেতে পারে। ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, সাধারণ সর্দি-কাশি কিংবা করোনাজনিত সংক্রমণও বড় কারণ হিসেবে দেখা গেছে।

কিছু ওষুধ যেমন উচ্চ রক্তচাপের নির্দিষ্ট ওষুধ বা হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। দাঁতের সমস্যা, ধূমপান, মাথা বা মুখে আঘাত—এসবও ঝুঁকি বাড়ায়।

এ ছাড়া মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের কিছু রোগ যেমন আলঝেইমারস বা পারকিনসনস রোগের ক্ষেত্রেও স্বাদ–গন্ধের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

জীবনযাত্রায় প্রভাব কতটা
স্বাদ ও গন্ধ কমে গেলে খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যায়। এতে পুষ্টিহীনতা তৈরি হতে পারে। অনেকেই খাবার সুস্বাদু করতে অতিরিক্ত লবণ বা চিনি ব্যবহার শুরু করেন, যা উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে মানসিক প্রভাবও পড়ে। একঘেয়েমি, হতাশা বা অবসাদ তৈরি হতে পারে। ফলে বিষয়টি শুধু ইন্দ্রিয়গত সমস্যা নয়, সামগ্রিক জীবনমানের সঙ্গেও জড়িত।

বয়স বাড়ে, শক্তি কমে… কিন্তু ক্ষুধা আর কষ্ট কখনো কমে না।

কবে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন
যদি হঠাৎ করে স্বাদ ও গন্ধ কমে যায়, অথবা দীর্ঘদিন ধরে উন্নতি না হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা দিলে উপসর্গ কমে আসে।

যদি কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হয়, চিকিৎসক ওষুধ পরিবর্তন করতে পারেন। নাক–সাইনাস বা দাঁতের সমস্যা থাকলে তারও চিকিৎসা সম্ভব। ধূমপান ছাড়লে অনেক সময় গন্ধের অনুভূতি কিছুটা ফিরে আসে।

করোনার পর স্বাদ–গন্ধ হারানো
করোনাজনিত সংক্রমণের পর অনেকেই স্বাদ ও গন্ধ হারানোর অভিজ্ঞতা পেয়েছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উন্নতি হয়। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে মাসের পর মাস এই সমস্যা স্থায়ী হতে পারে।

এ অবস্থায় ধৈর্য রাখা জরুরি। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।

করোনা ছাড়াও যে ভিটামিনের অভাবে হারাতে পারেন স্বাদ-গন্ধ

ঘ্রাণ প্রশিক্ষণ থেরাপি কী
যদি মূল কারণের চিকিৎসার পরও উন্নতি না হয়, তাহলে ঘ্রাণ প্রশিক্ষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করা যেতে পারে। এতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট চারটি ভিন্ন গন্ধ ১০ থেকে ২০ সেকেন্ড করে দিনে দুইবার অন্তত তিন মাস ধরে শোঁকার অনুশীলন করা হয়। এতে ধীরে ধীরে ঘ্রাণশক্তি ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

প্রয়োজনে অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞ, কান-নাক-গলা বিশেষজ্ঞ বা স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার কথাও বলা হয়।

স্বাদ–গন্ধ কমে যাওয়া অনেক সময় স্বাভাবিক বয়সজনিত পরিবর্তন হলেও, এটি শরীরের অন্য কোনো সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। তাই উপসর্গ অবহেলা না করে সচেতন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।