০৭:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
রুমিন ফারহানার বক্তব্যে ‘অশালীন অঙ্গভঙ্গি’ নিয়ে সংসদে উত্তেজনা, নিন্দা জানালেন বিরোধীদলীয় নেতা থুসিডিডিস ফাঁদ: যুক্তরাষ্ট্র–চীন যুদ্ধকে বৈধতা দিতে তৈরি এক ভ্রান্ত বয়ান ইতালির গির্জার বাইরে গুলিতে নিহত ২ ভারতীয়, বৈশাখী উৎসবের পরই হামলা ডিমে লোকসান, চাপে পোলট্রি খাত—প্রতি ডিমে ২ টাকা ক্ষতি, ছোট খামারিদের টিকে থাকা অনিশ্চিত চীনের ‘স্থলভিত্তিক বিমানবাহী’ প্রযুক্তি: মাইক্রোওয়েভে উড়ন্ত ড্রোন চার্জ, যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার পথে, তবে ‘সহনশীলতায়’ এগিয়ে তেহরান: বিশ্লেষণ টাটা ট্রাস্টে বড় বিতর্ক: বেআইনি নিয়োগের অভিযোগ, প্রশাসক বসানোর দাবি তুললেন মেহলি মিস্ত্রি ইউরোপ-আমেরিকার সম্পর্কের ভাঙন: বন্ধুত্ব থেকে দূরত্বের নতুন বাস্তবতা হরমুজ প্রণালী সংকটে চীনের দিকে ঝুঁকছে বিশ্ব, জ্বালানি ঘাটতি সামলাতে রাশিয়ার প্রস্তাব চীনের সহায়তা বাড়লেও আফ্রিকায় তহবিল ঘাটতি রয়ে গেছে

ইরান যুদ্ধেই উন্মোচিত ব্রিটেনের দুর্বল সামরিক শক্তি, চাপ বাড়ছে স্টারমারের ওপর

ইরান যুদ্ধেই উন্মোচিত ব্রিটেনের দুর্বল সামরিক শক্তি, চাপ বাড়ছে স্টারমারের ওপর

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্রিটেনের সামরিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে সামরিক খাতে কাটছাঁটের ফলে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যে দুর্বলতা তৈরি হয়েছে, তা এই সংঘাতেই সামনে চলে এসেছে। এতে করে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ আরও বেড়েছে।

কিয়ার স্টারমার: আইনজীবী থেকে প্রধানমন্ত্রী

যুদ্ধেই ধরা পড়ল প্রস্তুতির ঘাটতি

ইরান সংঘাতের শুরুতে সাইপ্রাসে ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে ব্রিটেনকে একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লেগে যায়। অন্যদিকে ফ্রান্স, গ্রিস ও ইতালি কয়েক দিনের মধ্যেই নিজেদের যুদ্ধজাহাজ পাঠায়। এই বিলম্বই ব্রিটেনের প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়।

এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার জন্ম দেয়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব থেকেও ব্রিটিশ নৌবাহিনী নিয়ে কটাক্ষ করা হয়েছে, যা ব্রিটেনের সামরিক ভাবমূর্তিতে আঘাত হেনেছে।

How the Iran War has exposed the absurd state of the UK's Armed Forces

নৌবাহিনীর আকার কমেছে অর্ধেকেরও বেশি

বর্তমানে ব্রিটিশ রয়্যাল নেভিতে কর্মী সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার। তাদের হাতে রয়েছে দুটি বিমানবাহী রণতরী এবং মোট ১৩টি ডেস্ট্রয়ার ও ফ্রিগেট। অথচ ১৯৯১ সালে এই সংখ্যা ছিল অনেক বেশি—প্রায় ৬২ হাজার কর্মী, তিনটি বিমানবাহী রণতরী এবং প্রায় ৫০টি যুদ্ধজাহাজ।

এই দীর্ঘমেয়াদি পতনের পেছনে রয়েছে প্রতিরক্ষা বাজেটে ধারাবাহিক কাটছাঁট। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে যেখানে জিডিপির প্রায় ৩.৮ শতাংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয় করা হতো, সেখানে ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় প্রায় ২.৩ শতাংশে।

বিমানবাহিনী ও সেনাবাহিনীতেও একই চিত্র

রয়্যাল এয়ার ফোর্সে বর্তমানে প্রায় ১৫০টি যুদ্ধবিমান রয়েছে, যা ১৯৯১ সালের প্রায় ৭০০টির তুলনায় অনেক কম। কর্মী সংখ্যাও ৮৮ হাজার থেকে কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১ হাজারে।

অন্যদিকে স্থলবাহিনীর সদস্যসংখ্যা ১৯৯১ সালের ১ লাখ ৪৮ হাজার থেকে কমে এখন প্রায় ৭৪ হাজারে নেমে এসেছে। যুদ্ধ ট্যাঙ্কের সংখ্যাও প্রায় ১,২০০ থেকে কমে বর্তমানে কার্যকর অবস্থায় রয়েছে মাত্র ১৫০টি।

Iran war exposes weakened state of Britain's armed forces | The Jerusalem  Post

নতুন পরিকল্পনা, কিন্তু সময় লাগবে

ব্রিটিশ সরকার ইতিমধ্যে নতুন যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। টাইপ ২৬ ও টাইপ ৩১ শ্রেণির নতুন ফ্রিগেট আগামী কয়েক বছরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে পুরনো জাহাজ অবসরে যাওয়ার আগেই নতুনগুলো পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ায় সাময়িকভাবে নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও চাপে পড়েছে।

প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ

প্রধানমন্ত্রী স্টারমার দাবি করেছেন, তার সরকার শীতল যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি।

ইরান যুদ্ধ সরাসরি ব্রিটেনকে জড়ায়নি, তবে এই সংঘাত দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বাস্তব অবস্থা সামনে এনে দিয়েছে। ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে—ভবিষ্যতের বড় সংঘাতে ব্রিটেন কতটা প্রস্তুত?

জনপ্রিয় সংবাদ

রুমিন ফারহানার বক্তব্যে ‘অশালীন অঙ্গভঙ্গি’ নিয়ে সংসদে উত্তেজনা, নিন্দা জানালেন বিরোধীদলীয় নেতা

ইরান যুদ্ধেই উন্মোচিত ব্রিটেনের দুর্বল সামরিক শক্তি, চাপ বাড়ছে স্টারমারের ওপর

০৫:৫১:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ইরান যুদ্ধেই উন্মোচিত ব্রিটেনের দুর্বল সামরিক শক্তি, চাপ বাড়ছে স্টারমারের ওপর

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্রিটেনের সামরিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে সামরিক খাতে কাটছাঁটের ফলে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যে দুর্বলতা তৈরি হয়েছে, তা এই সংঘাতেই সামনে চলে এসেছে। এতে করে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ আরও বেড়েছে।

কিয়ার স্টারমার: আইনজীবী থেকে প্রধানমন্ত্রী

যুদ্ধেই ধরা পড়ল প্রস্তুতির ঘাটতি

ইরান সংঘাতের শুরুতে সাইপ্রাসে ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে ব্রিটেনকে একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লেগে যায়। অন্যদিকে ফ্রান্স, গ্রিস ও ইতালি কয়েক দিনের মধ্যেই নিজেদের যুদ্ধজাহাজ পাঠায়। এই বিলম্বই ব্রিটেনের প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়।

এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার জন্ম দেয়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব থেকেও ব্রিটিশ নৌবাহিনী নিয়ে কটাক্ষ করা হয়েছে, যা ব্রিটেনের সামরিক ভাবমূর্তিতে আঘাত হেনেছে।

How the Iran War has exposed the absurd state of the UK's Armed Forces

নৌবাহিনীর আকার কমেছে অর্ধেকেরও বেশি

বর্তমানে ব্রিটিশ রয়্যাল নেভিতে কর্মী সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার। তাদের হাতে রয়েছে দুটি বিমানবাহী রণতরী এবং মোট ১৩টি ডেস্ট্রয়ার ও ফ্রিগেট। অথচ ১৯৯১ সালে এই সংখ্যা ছিল অনেক বেশি—প্রায় ৬২ হাজার কর্মী, তিনটি বিমানবাহী রণতরী এবং প্রায় ৫০টি যুদ্ধজাহাজ।

এই দীর্ঘমেয়াদি পতনের পেছনে রয়েছে প্রতিরক্ষা বাজেটে ধারাবাহিক কাটছাঁট। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে যেখানে জিডিপির প্রায় ৩.৮ শতাংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয় করা হতো, সেখানে ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় প্রায় ২.৩ শতাংশে।

বিমানবাহিনী ও সেনাবাহিনীতেও একই চিত্র

রয়্যাল এয়ার ফোর্সে বর্তমানে প্রায় ১৫০টি যুদ্ধবিমান রয়েছে, যা ১৯৯১ সালের প্রায় ৭০০টির তুলনায় অনেক কম। কর্মী সংখ্যাও ৮৮ হাজার থেকে কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১ হাজারে।

অন্যদিকে স্থলবাহিনীর সদস্যসংখ্যা ১৯৯১ সালের ১ লাখ ৪৮ হাজার থেকে কমে এখন প্রায় ৭৪ হাজারে নেমে এসেছে। যুদ্ধ ট্যাঙ্কের সংখ্যাও প্রায় ১,২০০ থেকে কমে বর্তমানে কার্যকর অবস্থায় রয়েছে মাত্র ১৫০টি।

Iran war exposes weakened state of Britain's armed forces | The Jerusalem  Post

নতুন পরিকল্পনা, কিন্তু সময় লাগবে

ব্রিটিশ সরকার ইতিমধ্যে নতুন যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। টাইপ ২৬ ও টাইপ ৩১ শ্রেণির নতুন ফ্রিগেট আগামী কয়েক বছরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে পুরনো জাহাজ অবসরে যাওয়ার আগেই নতুনগুলো পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ায় সাময়িকভাবে নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও চাপে পড়েছে।

প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ

প্রধানমন্ত্রী স্টারমার দাবি করেছেন, তার সরকার শীতল যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি।

ইরান যুদ্ধ সরাসরি ব্রিটেনকে জড়ায়নি, তবে এই সংঘাত দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বাস্তব অবস্থা সামনে এনে দিয়েছে। ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে—ভবিষ্যতের বড় সংঘাতে ব্রিটেন কতটা প্রস্তুত?