০৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
সংখ্যালঘু হত্যাকাণ্ডের মাসিক গড় ৩৩ শতাংশ বেড়েছে, নিরাপত্তাহীনতা কাটেনি: ঐক্য পরিষদ মেহেরপুরে এনসিপির পদযাত্রার আগে নাহিদ-হাসনাতদের ছবিসহ কুশপৌত্তলিকা, লেখা ছিল ‘এদের প্রতিহত করুন, এদের ঘৃণা করুন’ জঙ্গল ছালিমপুরে পানিতে বিষাক্ত রাসায়নিক, ৫৪ জনের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা গোলের লড়াইয়ে মেসি-আলভারেজ, ভোট নিচ্ছে ফিফা লেইপজিগের ট্রান্সফার কৌশলের নতুন বিস্ময়, দিয়োমান্দেকে বিক্রি করে ১২০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি আয়ের পথে ইউরোপের দলবদল বাজারে তৎপরতা বেড়েছে, প্রিমিয়ার লিগে রেকর্ড ব্যয়, স্পেনে অপেক্ষাকৃত সংযত ক্লাবগুলো পিরলোর নীরবতা ভাঙা: ‘ইতালির প্রতি ভালোবাসা কোনো চাকরির ওপর নির্ভর করে না’ পদ্মা সেতুতে ইটিসি টোল আদায় ১০ কোটি টাকা ছাড়াল, নিবন্ধিত যানবাহন এক হাজারের বেশি চীনের শেয়ারবাজারে সিএক্সএমটির ঝড়, এক দিনেই মূল্য বেড়ে ৫৩০ শতাংশ তেহরান–ওয়াশিংটন উত্তেজনা কমার আশায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যের আহ্বান

আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯৮৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের বীর শহীদ এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা সেলিম-দেলোয়ারের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদের সেমিনার কক্ষে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ১৯৮২-৯০ সালের ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতা আসাদুল্লাহ তারেক এবং সঞ্চালনা করেন ১৯৯০ সালের ছাত্রনেতা রাজু আহমেদ।

স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ছাত্রনেতা ও ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, জাসদ নেতা মোহাম্মদ মহসীন, মনসুরুল হাই সোহন, ডা. সরদার ফারুক, সাংবাদিক কিবরিয়া চৌধুরী, আবু সালেহ আহমেদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য হুমায়ুন মুজিব, সৈয়দ হারুন-অর-রশিদ, অশোক ধর, ন্যাপ নেতা নাছিমা হক রুবি, গণতন্ত্রী পার্টির নেতা খায়রুল ইসলাম, মিনহাজ উদ্দিন সেলিম, খান মোহাম্মদ রুস্তম আলী এবং স্বদেশ পার্টির সভাপতি ও জাতীয় ছাত্রদল নেতা রফিকুল ইসলাম মন্টু প্রমুখ।

এরশাদবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপট

বক্তারা বলেন, ১৯৮২ সালের ছাত্র আন্দোলন গড়ে উঠেছিল সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে। ক্ষমতা দখলের পর এরশাদ সরকারের ঘোষিত মজিদ খানের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। এই পরিষদ ১০ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে, যার মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ করা এবং বিজ্ঞানভিত্তিক একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা।

১৯৮৩ সালে ছাত্রদের আন্দোলনের সময় সামরিক সরকার মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে জাফর, জয়নাল, আইয়ুব, দীপালী সাহাসহ বহু ছাত্র নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ড ছাত্র আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত ও তীব্র করে তোলে এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের রূপ নেয়।

শহীদ সেলিম-দেলোয়ারের আত্মত্যাগ

বক্তারা স্মরণ করেন, ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ ঘোষিত শ্রমিক ধর্মঘটের সমর্থনে ২৮ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে একটি বিশাল মিছিল বের হয়। মিছিলটি ফুলবাড়িয়া অতিক্রম করার সময় সামরিক শাসনের প্রতীক হয়ে ওঠা একটি ট্রাক মিছিলের উপর তুলে দেওয়া হয়। এই নির্মম ঘটনায় শহীদ হন সেলিম-দেলোয়ার এবং অসংখ্য ছাত্রকর্মী আহত হন।

এই ঘটনা ছাত্র-শ্রমিক ঐক্যকে আরও দৃঢ় করে। শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের নেতৃত্বে শ্রমিক শ্রেণির আন্দোলন এবং ছাত্র সমাজের সংগ্রাম মিলিত হয়ে স্বৈরাচারবিরোধী বৃহত্তর গণআন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে।

গণঅভ্যুত্থান ও এরশাদ পতন

বক্তারা বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য এবং ৮, ৭ ও ৫ দলের সমন্বয়ে গণঅভ্যুত্থান গড়ে ওঠে। এর ফলেই পতন ঘটে এরশাদের সামরিক শাসনের। শহীদ সেলিম-দেলোয়ারসহ আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের রক্তই সেই গণঅভ্যুত্থানের শক্তি জুগিয়েছিল।

ঐক্যের অঙ্গীকার

স্মরণসভায় বক্তারা দেশের সব প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। শহীদ সেলিম-দেলোয়ারের আত্মত্যাগকে তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণা হিসেবে তুলে ধরেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংখ্যালঘু হত্যাকাণ্ডের মাসিক গড় ৩৩ শতাংশ বেড়েছে, নিরাপত্তাহীনতা কাটেনি: ঐক্য পরিষদ

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যের আহ্বান

০৫:৪৫:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯৮৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের বীর শহীদ এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা সেলিম-দেলোয়ারের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদের সেমিনার কক্ষে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ১৯৮২-৯০ সালের ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতা আসাদুল্লাহ তারেক এবং সঞ্চালনা করেন ১৯৯০ সালের ছাত্রনেতা রাজু আহমেদ।

স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ছাত্রনেতা ও ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, জাসদ নেতা মোহাম্মদ মহসীন, মনসুরুল হাই সোহন, ডা. সরদার ফারুক, সাংবাদিক কিবরিয়া চৌধুরী, আবু সালেহ আহমেদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য হুমায়ুন মুজিব, সৈয়দ হারুন-অর-রশিদ, অশোক ধর, ন্যাপ নেতা নাছিমা হক রুবি, গণতন্ত্রী পার্টির নেতা খায়রুল ইসলাম, মিনহাজ উদ্দিন সেলিম, খান মোহাম্মদ রুস্তম আলী এবং স্বদেশ পার্টির সভাপতি ও জাতীয় ছাত্রদল নেতা রফিকুল ইসলাম মন্টু প্রমুখ।

এরশাদবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপট

বক্তারা বলেন, ১৯৮২ সালের ছাত্র আন্দোলন গড়ে উঠেছিল সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে। ক্ষমতা দখলের পর এরশাদ সরকারের ঘোষিত মজিদ খানের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। এই পরিষদ ১০ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে, যার মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ করা এবং বিজ্ঞানভিত্তিক একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা।

১৯৮৩ সালে ছাত্রদের আন্দোলনের সময় সামরিক সরকার মিছিলে নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে জাফর, জয়নাল, আইয়ুব, দীপালী সাহাসহ বহু ছাত্র নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ড ছাত্র আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত ও তীব্র করে তোলে এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের রূপ নেয়।

শহীদ সেলিম-দেলোয়ারের আত্মত্যাগ

বক্তারা স্মরণ করেন, ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ ঘোষিত শ্রমিক ধর্মঘটের সমর্থনে ২৮ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে একটি বিশাল মিছিল বের হয়। মিছিলটি ফুলবাড়িয়া অতিক্রম করার সময় সামরিক শাসনের প্রতীক হয়ে ওঠা একটি ট্রাক মিছিলের উপর তুলে দেওয়া হয়। এই নির্মম ঘটনায় শহীদ হন সেলিম-দেলোয়ার এবং অসংখ্য ছাত্রকর্মী আহত হন।

এই ঘটনা ছাত্র-শ্রমিক ঐক্যকে আরও দৃঢ় করে। শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের নেতৃত্বে শ্রমিক শ্রেণির আন্দোলন এবং ছাত্র সমাজের সংগ্রাম মিলিত হয়ে স্বৈরাচারবিরোধী বৃহত্তর গণআন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে।

গণঅভ্যুত্থান ও এরশাদ পতন

বক্তারা বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য এবং ৮, ৭ ও ৫ দলের সমন্বয়ে গণঅভ্যুত্থান গড়ে ওঠে। এর ফলেই পতন ঘটে এরশাদের সামরিক শাসনের। শহীদ সেলিম-দেলোয়ারসহ আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের রক্তই সেই গণঅভ্যুত্থানের শক্তি জুগিয়েছিল।

ঐক্যের অঙ্গীকার

স্মরণসভায় বক্তারা দেশের সব প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। শহীদ সেলিম-দেলোয়ারের আত্মত্যাগকে তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণা হিসেবে তুলে ধরেন।