০৮:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান-ইসরায়েল সংকট: কারা এই সংঘাতের প্রধান খেলোয়াড় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান হামলায় এশিয়া জুড়ে উদ্বেগ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরান সংকট তীব্র, ট্রাম্প বললেন শাসন বদলের সুযোগ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে ফ্লাইট স্থগিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরান কাঁপছে, লক্ষ্য শীর্ষ নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার জবাবে উপসাগরীয় দেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, আবুধাবিতে নিহত ১ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে আতঙ্ক ও পালানোর হিড়িক পাকিস্তান-আফগান তালেবান সংঘর্ষে উত্তেজনা চরমে, কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার পাকিস্তানের আফগান হামলা ‘খোলা যুদ্ধ’কে দীর্ঘস্থায়ী সংকটে রূপ দিতে পারে

রাজনৈতিক বিবেচনায় দায়ের গণমামলা পুনর্মূল্যায়নের দাবি, অসুস্থ আটক বুদ্ধিজীবীদের জামিনে মুক্তির আহ্বান

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক বিবেচনায় দায়ের হওয়া গণমামলায় আটক বুদ্ধিজীবী, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের বিনা বিচারে দীর্ঘদিন কারাবন্দি রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের ৩০ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তারা অসুস্থ ও জামিনবঞ্চিত ব্যক্তিদের মানবিক কারণে অবিলম্বে মুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

গণমামলার বিস্তার ও হয়রানির অভিযোগ

বিবৃতিতে বলা হয়, গণঅভ্যুত্থানের পর কয়েক হাজার মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে কিছু মামলায় আসামির সংখ্যা ১২০০ থেকে ২০০০ পর্যন্ত। এত বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিকে একসঙ্গে আসামি করাকে তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। অনেক ক্ষেত্রে পেশাগত দায়িত্ব পালন কিংবা ভিন্নমত প্রকাশের কারণে ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এমন অভিযোগও উঠে এসেছে যে, অনেকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকলেও তাদের জামিন দেওয়া হয়নি। ফলে তারা দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে আছেন।

অসুস্থতা ও মানবাধিকার উদ্বেগ

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকে সত্তর থেকে আশির বেশি বয়সী। কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, যা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় তাদের শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি ঘটছে বলে উদ্বেগ জানানো হয়। সাবেক মন্ত্রী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গবেষক, অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ ও পেশাজীবী নেতারাও এ তালিকায় রয়েছেন।

স্বাক্ষরকারীরা বলেন, জামিন পাওয়া একজন অন্তরীণ ব্যক্তির আইনগত ও সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে সেই অধিকার উপেক্ষিত হচ্ছে। বহু মামলায় এখনো তদন্ত সম্পন্ন হয়নি, চার্জশিট দাখিল করা হয়নি। ফলে কার্যত বিনা বিচারে মানুষ কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন।

সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার ও একাধিক মামলার প্রসঙ্গ

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা কিংবা ভিন্নমত প্রকাশের কারণে কয়েকজন সাংবাদিককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে গ্রেপ্তারের পর তাদের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। একটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর অন্য মামলায় আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।

সরকারের প্রতিশ্রুতি ও পুনর্মূল্যায়নের আশ্বাস

বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বেআইনি নিপীড়ন বন্ধে দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও গণমাধ্যমে বলেছেন, সরকার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া বহু গণমামলা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, কেউ যেন বিনা কারণে শাস্তি না পায় তা নিশ্চিত করা হবে।

স্বাক্ষরকারীরা সরকারের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, অবিলম্বে অসুস্থ ও দীর্ঘদিন জামিনবঞ্চিত বুদ্ধিজীবী, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক এবং অন্যান্য পেশাজীবীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করে জামিনে মুক্তি দেওয়া হোক। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী, শিক্ষক, গবেষক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ দেশের ৩০ জন বিশিষ্ট নাগরিক।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান-ইসরায়েল সংকট: কারা এই সংঘাতের প্রধান খেলোয়াড়

রাজনৈতিক বিবেচনায় দায়ের গণমামলা পুনর্মূল্যায়নের দাবি, অসুস্থ আটক বুদ্ধিজীবীদের জামিনে মুক্তির আহ্বান

০৬:৩৬:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক বিবেচনায় দায়ের হওয়া গণমামলায় আটক বুদ্ধিজীবী, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের বিনা বিচারে দীর্ঘদিন কারাবন্দি রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের ৩০ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তারা অসুস্থ ও জামিনবঞ্চিত ব্যক্তিদের মানবিক কারণে অবিলম্বে মুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

গণমামলার বিস্তার ও হয়রানির অভিযোগ

বিবৃতিতে বলা হয়, গণঅভ্যুত্থানের পর কয়েক হাজার মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে কিছু মামলায় আসামির সংখ্যা ১২০০ থেকে ২০০০ পর্যন্ত। এত বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিকে একসঙ্গে আসামি করাকে তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। অনেক ক্ষেত্রে পেশাগত দায়িত্ব পালন কিংবা ভিন্নমত প্রকাশের কারণে ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এমন অভিযোগও উঠে এসেছে যে, অনেকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকলেও তাদের জামিন দেওয়া হয়নি। ফলে তারা দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে আছেন।

অসুস্থতা ও মানবাধিকার উদ্বেগ

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকে সত্তর থেকে আশির বেশি বয়সী। কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, যা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় তাদের শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি ঘটছে বলে উদ্বেগ জানানো হয়। সাবেক মন্ত্রী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গবেষক, অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ ও পেশাজীবী নেতারাও এ তালিকায় রয়েছেন।

স্বাক্ষরকারীরা বলেন, জামিন পাওয়া একজন অন্তরীণ ব্যক্তির আইনগত ও সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে সেই অধিকার উপেক্ষিত হচ্ছে। বহু মামলায় এখনো তদন্ত সম্পন্ন হয়নি, চার্জশিট দাখিল করা হয়নি। ফলে কার্যত বিনা বিচারে মানুষ কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন।

সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার ও একাধিক মামলার প্রসঙ্গ

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা কিংবা ভিন্নমত প্রকাশের কারণে কয়েকজন সাংবাদিককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে গ্রেপ্তারের পর তাদের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। একটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর অন্য মামলায় আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।

সরকারের প্রতিশ্রুতি ও পুনর্মূল্যায়নের আশ্বাস

বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বেআইনি নিপীড়ন বন্ধে দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও গণমাধ্যমে বলেছেন, সরকার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া বহু গণমামলা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, কেউ যেন বিনা কারণে শাস্তি না পায় তা নিশ্চিত করা হবে।

স্বাক্ষরকারীরা সরকারের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, অবিলম্বে অসুস্থ ও দীর্ঘদিন জামিনবঞ্চিত বুদ্ধিজীবী, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক এবং অন্যান্য পেশাজীবীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করে জামিনে মুক্তি দেওয়া হোক। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী, শিক্ষক, গবেষক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ দেশের ৩০ জন বিশিষ্ট নাগরিক।