ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। বিশেষ করে নির্বাচনের পর সহিংসতা, রাজনৈতিক গ্রেপ্তার, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন ঘটনার কারণে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
শনিবার প্রকাশিত এমএসএফের ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় হতাহত
প্রতিবেদনে বলা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা না ঘটলেও ফলাফল ও গণভোটের ফল ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা, সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ এবং নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও সংগৃহীত উপাত্ত অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনী সহিংসতার ১৩৬টি ঘটনায় মোট ৭৯৯ জন ক্ষতিগ্রস্ত হন। এর মধ্যে এক শিশুসহ ৫ জন নিহত এবং ৭৯৪ জন আহত হন।
এই ১৩৬টি ঘটনার মধ্যে ৬৫টি নির্বাচন-পূর্ব সময়ে ঘটে, যাতে আহত হন ৩৮৫ জন। নির্বাচনের দিন ১৪টি ঘটনায় ৯৮ জন আহত হন। আর নির্বাচনের পর ৫৭টি ঘটনায় এক শিশুসহ ৫ জন নিহত এবং ৩১১ জন আহত হন।
রাজনৈতিক গ্রেপ্তার
এমএসএফ জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সরকার পতন-সংক্রান্ত মামলায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ৪০ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে কোটা সংস্কার আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন
ফেব্রুয়ারিতে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ২৫৩টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা জানুয়ারির তুলনায় চারটি কম। এ মাসে ৩৩টি ধর্ষণের ঘটনা, ১২টি সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এমন ৫টি ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের শিকারদের মধ্যে ৬ জন কিশোরী এবং প্রতিবন্ধী নারীও রয়েছেন।
সীমান্ত পরিস্থিতি ও উদ্বেগ
সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এমএসএফ। সংস্থাটি জানায়, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে ভারতীয় নাগরিকদের হাতে ৬ জন বাংলাদেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

এ ছাড়া বঙ্গোপসাগর থেকে ২৮ জেলেসহ একটি বাংলাদেশি মাছ ধরার নৌকা ভারতীয় কোস্টগার্ড আটক করে। কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত এলাকা থেকে ৯৫টি গবাদিপশু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে বিএসএফের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকা থেকে ৭ জন বাংলাদেশি যুবককে আটক করা হয়।
অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় অজ্ঞাত জলদস্যুদের গুলিতে ২ জন জেলে আহত হন। গত মাসে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হওয়া টেকনাফের এক শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
এ ছাড়া কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদী থেকে ফেরার পথে ৫ জন জেলেকে তাদের ট্রলারসহ আরাকান আর্মি আটক করে।
জবাবদিহি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার আহ্বান
এমএসএফ বলেছে, এসব ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর জবাবদিহি, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















