০৯:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬
শেয়ারবাজারে বড় ধস: ডিএসইতে সূচক কমলো ১৩৮ পয়েন্ট, সিএসইতেও ব্যাপক পতন মধ্যপ্রাচ্যে যেতে না পারা কর্মীদের সহায়তায় হটলাইন চালু ইরানে হামলা ও খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ঢাকায় জামায়াতের সমাবেশ গালফ অঞ্চলের কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ঢাকায় রুমমেটকে হত্যা করে দেহ খণ্ড-বিখণ্ড: রাজধানীজুড়ে আতঙ্ক সীমান্ত হত্যা বন্ধে ভারতের প্রতি কড়া বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যপ্রাচ্যে যেতে না পারা কর্মীদের সহায়তায় হটলাইন চালু রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের আঘাত, কড়া জবাবের হুঁশিয়ারি সৌদি আরবের ট্রাম্পের বেইজিং সফর অনিশ্চিত, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার প্রভাব বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা ইরান হামলা নিয়ে রুশ বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা: ‘এতে শুরু হতে পারে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক যুদ্ধ’

রাশিয়ার তেলের মজুত ৬০ বছরের বেশি, জানালেন উপপ্রধানমন্ত্রী

রাশিয়ার হাতে বর্তমানে প্রায় ৩১ বিলিয়ন টন উত্তোলনযোগ্য তেলের মজুত রয়েছে। বর্তমান উৎপাদন হারে এই মজুত আগামী ৬০ বছরেরও বেশি সময় চলবে বলে জানিয়েছেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক।

সিরিয়াস ফেডারেল টেরিটরিতে বক্তব্য
শুক্রবার সিরিয়াস ফেডারেল টেরিটরিতে এক কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নোভাক এই তথ্য তুলে ধরেন। সেখানে তিনি তেল শিল্প, বৈশ্বিক জ্বালানি প্রবণতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়ার অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, উত্তোলনযোগ্য তেলের মজুতে রাশিয়ার অবস্থান বিশ্বে চতুর্থ। সৌদি আরব, ইরান ও ইরাকের পরেই রয়েছে রাশিয়া। তার ভাষ্য অনুযায়ী, লাভজনকভাবে উত্তোলনযোগ্য তেলের বর্তমান মজুত দিয়ে অন্তত ৬২ বছর উৎপাদন চালানো সম্ভব।

তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এর অর্থ এই নয় যে ছয় দশক পর রাশিয়ার তেল শেষ হয়ে যাবে। কারণ প্রতি বছর নতুন অনুসন্ধান ও খননের মাধ্যমে অতিরিক্ত মজুত যুক্ত হচ্ছে।

বৈশ্বিক মজুতের তুলনা
রাশিয়ার হিসাব অনুযায়ী, উত্তোলনযোগ্য তেলের দিক থেকে ইরাকের মজুত প্রায় ১৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন টন, ইরানের ২১ দশমিক ৭ বিলিয়ন টন এবং সৌদি আরবের ৪০ দশমিক ৯ বিলিয়ন টন। বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের উপযোগী মোট তেলের মজুত প্রায় ১৭৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন টন।

দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য
নোভাক বলেন, দেশের জন্য ৩০ থেকে ৫০ বছরের নিশ্চিন্ত তেল মজুত ধরে রাখা একটি প্রধান লক্ষ্য। এই ভারসাম্য বজায় রাখতে নিয়মিত নতুন কূপ খনন ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ব জ্বালানি ব্যবস্থায় তেলের অংশীদারিত্ব এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ। বিশেষ করে পরিবহন ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের কারণে নিকট ভবিষ্যতেও তেলের চাহিদা শক্তিশালী থাকবে বলে তার ধারণা।

নিষেধাজ্ঞার মাঝেও স্থিতিশীলতা
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়ার তেল খাত স্থিতিশীল রয়েছে বলে দাবি করেন নোভাক। তার মতে, বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশই আসে রাশিয়া থেকে।

নতুন ক্ষেত্রের সন্ধান
বর্তমানে রাশিয়ায় প্রায় ৩,৫০০টি তেলক্ষেত্র চালু রয়েছে। এর মধ্যে সাখালিন, আর্কটিক শেলফ এবং পূর্ব সাইবেরিয়ার ক্ষেত্রগুলো উল্লেখযোগ্য।

সম্প্রতি রুশ জ্বালানি কোম্পানি গ্যাজপ্রম নেফট ইয়ামাল উপদ্বীপে নতুন একটি তেলক্ষেত্র আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। ‘কনটোরোভিচ’ নামে পরিচিত এই ক্ষেত্রের ভূতাত্ত্বিক মজুত আনুমানিক ৫৫ মিলিয়ন টন, যা গত তিন দশকের মধ্যে ওই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার।

ক্ষেত্রের আকারে পার্থক্য
রাশিয়ায় ৩০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন টন উত্তোলনযোগ্য মজুত থাকা ক্ষেত্রকে ‘বড়’ হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু ইউরোপের অনেক দেশের জন্য কনটোরোভিচের মতো ক্ষেত্র বিশাল সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে।

উদাহরণ হিসেবে পোল্যান্ডের ‘ওলিন ইস্ট’ ক্ষেত্রের কথা উল্লেখ করা যায়, যা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এবং গত এক দশকে ইউরোপের অন্যতম বড় আবিষ্কার হিসেবে বিবেচিত। অথচ সেখানে উত্তোলনযোগ্য মজুত মাত্র ২২ মিলিয়ন টন, যা কনটোরোভিচের অর্ধেকেরও কম।

জনপ্রিয় সংবাদ

শেয়ারবাজারে বড় ধস: ডিএসইতে সূচক কমলো ১৩৮ পয়েন্ট, সিএসইতেও ব্যাপক পতন

রাশিয়ার তেলের মজুত ৬০ বছরের বেশি, জানালেন উপপ্রধানমন্ত্রী

০৭:২২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

রাশিয়ার হাতে বর্তমানে প্রায় ৩১ বিলিয়ন টন উত্তোলনযোগ্য তেলের মজুত রয়েছে। বর্তমান উৎপাদন হারে এই মজুত আগামী ৬০ বছরেরও বেশি সময় চলবে বলে জানিয়েছেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক।

সিরিয়াস ফেডারেল টেরিটরিতে বক্তব্য
শুক্রবার সিরিয়াস ফেডারেল টেরিটরিতে এক কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নোভাক এই তথ্য তুলে ধরেন। সেখানে তিনি তেল শিল্প, বৈশ্বিক জ্বালানি প্রবণতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়ার অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, উত্তোলনযোগ্য তেলের মজুতে রাশিয়ার অবস্থান বিশ্বে চতুর্থ। সৌদি আরব, ইরান ও ইরাকের পরেই রয়েছে রাশিয়া। তার ভাষ্য অনুযায়ী, লাভজনকভাবে উত্তোলনযোগ্য তেলের বর্তমান মজুত দিয়ে অন্তত ৬২ বছর উৎপাদন চালানো সম্ভব।

তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এর অর্থ এই নয় যে ছয় দশক পর রাশিয়ার তেল শেষ হয়ে যাবে। কারণ প্রতি বছর নতুন অনুসন্ধান ও খননের মাধ্যমে অতিরিক্ত মজুত যুক্ত হচ্ছে।

বৈশ্বিক মজুতের তুলনা
রাশিয়ার হিসাব অনুযায়ী, উত্তোলনযোগ্য তেলের দিক থেকে ইরাকের মজুত প্রায় ১৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন টন, ইরানের ২১ দশমিক ৭ বিলিয়ন টন এবং সৌদি আরবের ৪০ দশমিক ৯ বিলিয়ন টন। বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের উপযোগী মোট তেলের মজুত প্রায় ১৭৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন টন।

দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য
নোভাক বলেন, দেশের জন্য ৩০ থেকে ৫০ বছরের নিশ্চিন্ত তেল মজুত ধরে রাখা একটি প্রধান লক্ষ্য। এই ভারসাম্য বজায় রাখতে নিয়মিত নতুন কূপ খনন ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ব জ্বালানি ব্যবস্থায় তেলের অংশীদারিত্ব এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ। বিশেষ করে পরিবহন ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের কারণে নিকট ভবিষ্যতেও তেলের চাহিদা শক্তিশালী থাকবে বলে তার ধারণা।

নিষেধাজ্ঞার মাঝেও স্থিতিশীলতা
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়ার তেল খাত স্থিতিশীল রয়েছে বলে দাবি করেন নোভাক। তার মতে, বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশই আসে রাশিয়া থেকে।

নতুন ক্ষেত্রের সন্ধান
বর্তমানে রাশিয়ায় প্রায় ৩,৫০০টি তেলক্ষেত্র চালু রয়েছে। এর মধ্যে সাখালিন, আর্কটিক শেলফ এবং পূর্ব সাইবেরিয়ার ক্ষেত্রগুলো উল্লেখযোগ্য।

সম্প্রতি রুশ জ্বালানি কোম্পানি গ্যাজপ্রম নেফট ইয়ামাল উপদ্বীপে নতুন একটি তেলক্ষেত্র আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। ‘কনটোরোভিচ’ নামে পরিচিত এই ক্ষেত্রের ভূতাত্ত্বিক মজুত আনুমানিক ৫৫ মিলিয়ন টন, যা গত তিন দশকের মধ্যে ওই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার।

ক্ষেত্রের আকারে পার্থক্য
রাশিয়ায় ৩০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন টন উত্তোলনযোগ্য মজুত থাকা ক্ষেত্রকে ‘বড়’ হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু ইউরোপের অনেক দেশের জন্য কনটোরোভিচের মতো ক্ষেত্র বিশাল সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে।

উদাহরণ হিসেবে পোল্যান্ডের ‘ওলিন ইস্ট’ ক্ষেত্রের কথা উল্লেখ করা যায়, যা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এবং গত এক দশকে ইউরোপের অন্যতম বড় আবিষ্কার হিসেবে বিবেচিত। অথচ সেখানে উত্তোলনযোগ্য মজুত মাত্র ২২ মিলিয়ন টন, যা কনটোরোভিচের অর্ধেকেরও কম।