মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাব পড়তে যাচ্ছে বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুই প্রতিষ্ঠান আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের আসন্ন বৈঠকে। বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনে একত্রিত হলেও এই বৈঠকের ওপর স্পষ্ট ছায়া ফেলেছে যুদ্ধ পরিস্থিতি, যা ইতোমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন ধাক্কা
করোনা মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধের পর এটি তৃতীয় বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া এবং বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতির গতি শ্লথ হয়ে পড়ছে। ফলে আগের তুলনায় প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হয়েছে এবং মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ানো হয়েছে।
প্রবৃদ্ধি কমার আশঙ্কা
সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে প্রায় ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে, যা আগে ৪ শতাংশ ধরা হয়েছিল। যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে এই হার আরও কমে ২ দশমিক ৬ শতাংশে নামার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা খারাপ পরিস্থিতিতে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত যেতে পারে।

খাদ্য নিরাপত্তায় নতুন সংকট
যুদ্ধের কারণে সার সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় কৃষি উৎপাদনে প্রভাব পড়ছে। এর ফলে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ অতিরিক্ত খাদ্য সংকটে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি বিশেষ করে দরিদ্র ও আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
সংকট মোকাবিলায় তৎপরতা
এই পরিস্থিতিতে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক দ্রুত সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্বল্প আয়ের ও জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য জরুরি সহায়তার চাহিদা ২০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক প্রয়োজনে কয়েক মাসের মধ্যে কয়েক দশক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সহায়তা জোগাড় করতে পারে।
মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির ভারসাম্য
বিশ্বের দেশগুলো এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। একদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, অন্যদিকে প্রবৃদ্ধিও ধরে রাখতে হবে। একই সঙ্গে আগামী বছরগুলোতে বিপুল সংখ্যক নতুন কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনার প্রভাব
এর মধ্যে আবার যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সমন্বয়ের ক্ষেত্রে জি-২০ জোটের কার্যকারিতাও কমে গেছে, ফলে একযোগে সংকট মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়ছে।
অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারগুলোকে সীমিত ও লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমানো যায়। তবে অতিরিক্ত বড় পদক্ষেপ নিলে তা উল্টো মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে বিশ্ব অর্থনীতি এক অনিশ্চিত সময়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে যুদ্ধ, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাজারের চাপ মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

























