পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী আবহে এবার নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে সাধারণ এক বাঙালি খাবার—ঝালমুড়ি। এই খাবার ঘিরেই শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ।
মোদির ঝালমুড়ি বিরতি নিয়ে মমতার কটাক্ষ
বীরভূম জেলার মুরারাই বিধানসভা এলাকায় এক নির্বাচনী সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঝাড়গ্রামে ঝালমুড়ি খাওয়ার ঘটনাকে ‘সাজানো নাটক’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, হঠাৎ করে নির্ধারিত কর্মসূচির বাইরে কোনও দোকানে থামলে সেখানে আগে থেকেই ক্যামেরা কীভাবে প্রস্তুত ছিল। তাঁর অভিযোগ, পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার লোকজনই ঝালমুড়ি প্রস্তুত করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ১০ টাকার নোট হাতে দেখা গেছে—যা তিনি বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন না। তাঁর দাবি, পুরো ঘটনাই নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে সাজানো হয়েছে।

ভাইরাল ভিডিও এবং জনমত
এর আগে ঝাড়গ্রামে একটি জনসভা শেষে এক বিক্রেতার দোকানে থেমে ঝালমুড়ি খাওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা তীব্র হয়।
বাবুল সুপ্রিয়র অভিজ্ঞতা ও পাল্টা মন্তব্য
এই প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, এক সময় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে ঝালমুড়ি খাওয়ার সময় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিলেন। সেই সুযোগে তিনি পূর্ব-পশ্চিম মেট্রো প্রকল্পের জট কাটাতে সাহায্য চান এবং মুখ্যমন্ত্রী তা করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, বহুদিন ধরে স্থগিত থাকা এই প্রকল্প পরে স্বাভাবিকভাবে চালু হয়। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী সেই সময় রাজনৈতিক সীমারেখা ছাড়িয়ে একই ধরনের সহযোগিতা দেখাননি এবং তাঁর ঝালমুড়ি খাওয়ার ঘটনাও মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে ঝালমুড়ি
পুরো ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে, সাধারণ এক খাবারও নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত হতে পারে। ঝালমুড়িকে ঘিরে এই বিতর্ক এখন পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















