পশ্চিমবঙ্গের এক মহিলার ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার ঘটনায় দ্রুত শুনানির নির্দেশ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে যাতে তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই আদালত এই নির্দেশ দেয়।
ঘটনার পটভূমি
মনোয়ারা খাতুন, ৫৬ বছর বয়সি এক ব্যবসায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল এবং এরপর থেকে প্রতিটি নির্বাচনে তিনি ভোট দিয়েছেন। এছাড়া ২০১৫ সাল থেকে তাঁর একটি বৈধ পাসপোর্টও রয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক যাচাই প্রক্রিয়ার পর তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়, যা নিয়ে তিনি আপত্তি জানান।

আইনি পদক্ষেপ ও আদালতের নির্দেশ
নিজের নাম বাদ পড়ায় মনোয়ারা খাতুন গত ৩ এপ্রিল আপিল ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন। কিন্তু এখনো সেই আবেদন শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে তোলা হলে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, যাতে আপিল ট্রাইব্যুনাল তাঁর আবেদন দ্রুত এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি করে।
আদালত স্পষ্টভাবে জানায়, আবেদনকারীর আপিল দ্রুত শুনানি করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে তিনি আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন।
আবেদনকারীর দাবি
মনোয়ারা খাতুন তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেন, তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত এবং একাধিক কোম্পানির পরিচালক ও অংশীদার হিসেবে কাজ করছেন। এর মধ্যে রয়েছে নির্ভরযোগ্য এফএমএস প্রাইভেট লিমিটেড, সঞ্চিত বিনিময় প্রাইভেট লিমিটেড এবং সঞ্চিত বিনিময় এলএলপি।
তিনি দাবি করেন, সমস্ত শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও অন্যায়ভাবে ২৭ মার্চ ২০২৬ প্রকাশিত ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আদালতের কাছে অনুরোধ জানান, সাতগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম পুনর্বহাল করা হোক অথবা অন্তত তাঁর আপিল দ্রুত শুনানি করে তাঁকে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হোক।
ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন
এই ঘটনাকে ঘিরে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া এবং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। আদালতের এই হস্তক্ষেপ নির্বাচনের আগে বিষয়টির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















