১০:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্টকে অপসারণে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ, রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে ট্রাম্পের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রায়, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরানোর পথ খুলল রাশিয়ার যুব ফুটবল দলের ফেরার ইঙ্গিত, নতুন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পথ খুলছে ফিফা ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক পদ বাতিল, বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশ সিরাজগঞ্জে যমুনার স্রোতে ভেসে প্রাণ গেল দুই মাদ্রাসাছাত্রের খেলাপি ঋণের চাপে ‘মোট শকে’ ব্যাংকিং খাত, সংসদে রেজা কিবরিয়ার কঠোর সমালোচনা ৪৩তম বিসিএসের নন-ক্যাডার মেধাতালিকা ৬০ দিনের মধ্যে প্রকাশের নির্দেশ হাইকোর্টের চুয়াডাঙ্গায় বাড়ির গ্রিলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু খাগড়াছড়িতে অস্ত্র-গুলিসহ আটক ৩ ইউপিডিএফ কর্মী তালেবান বিধিনিষেধে কর্মসংস্থান সংকুচিত, ব্যবসার পথে আফগান নারীরা

চীনের জ্বালানি কৌশল নতুন করে ভাবনায়, হরমুজ সংকটে আমদানি নির্ভরতার ঝুঁকি সামনে

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীর জাহাজ চলাচল সংকট চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে বেইজিং এখন তার সামগ্রিক জ্বালানি কৌশল পুনর্মূল্যায়নের পথে এগোচ্ছে, কারণ দীর্ঘমেয়াদে এটি অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং রাষ্ট্রীয় পরিষদের (স্টেট কাউন্সিল) একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আহ্বান করেন, যেখানে জ্বালানি নিরাপত্তা ও খাতের রূপান্তর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এই বৈঠকে উপপ্রধানমন্ত্রী ডিং শুয়েসিয়াং-সহ শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তাকে জাতীয় স্থিতিশীলতার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অস্থিরতা এবং চীনের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার প্রেক্ষাপটে সতর্কতা ও প্রস্তুতি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

China's economic reforms hinge on creative and courageous changes, state  media says in warning of a 'wasted opportunity' | South China Morning Post

বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও চীনের সতর্কতা
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর থেকেই বৈশ্বিক তেল ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে চীনকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

প্রথম প্রান্তিকের তথ্য বলছে, সংঘাত ও হরমুজ সংকটের প্রভাব সত্ত্বেও চীনের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। এই সময়ে দেশটির জিডিপি ৫ শতাংশ হারে বেড়েছে। যুদ্ধের আগে তেল মজুত করার কৌশল এই স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আমদানি নির্ভরতা: বড় কৌশলগত দুর্বলতা
তবে চীনের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো তেলের ওপর অতিরিক্ত আমদানি নির্ভরতা। দেশটি তার মোট তেলের প্রায় ৭০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে, যার একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। ফলে এই রুটে কোনো বিঘ্ন সরাসরি জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার আহ্বান
এই প্রেক্ষাপটে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান-এর সঙ্গে আলোচনায় হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার আহ্বান জানান। এটি ছিল এই সংকট নিয়ে তার প্রথম প্রকাশ্য অবস্থান, যা বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে।

শি জিনপিংয়ের সৌদি সফর: মার্কিন প্রভাব বলয়ে চীনের ধাক্কা - BBC News বাংলা

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর
চীন এখন আমদানি নির্ভরতা কমাতে জ্বালানি কাঠামো পরিবর্তনের দিকে জোর দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের সমাধান হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো।

বায়ু বিদ্যুৎ, সৌর শক্তি, জলবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন বিকল্প জ্বালানি উৎসের উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি উৎপাদন ও ব্যবহারে সবুজ ও নিম্ন-কার্বন রূপান্তর ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কয়লা ও জীবাশ্ম জ্বালানির বাস্তবতা
তবে বাস্তবতা হলো, চীন এখনও পুরোপুরি কয়লার ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে পারছে না। তাই আপাতত পরিষ্কার ও দক্ষ পদ্ধতিতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আধুনিকীকরণ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ গ্রিড উন্নয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।

CMGbangla - বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষে চীন এপ্রিল ২০, সিএমজি বাংলা  ডেস্ক: বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে চীন এবং একই সঙ্গে ...

বাজার সংস্কার ও প্রণোদনা
সবুজ জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহ দিতে জাতীয় বিদ্যুৎ বাজার সংস্কারের মাধ্যমে উৎপাদক ও ব্যবহারকারীদের প্রণোদনা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কৌশলগত মজুত ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
চীনের শীর্ষ অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকারী সংস্থার প্রধান ঝেং শানজিয়ে জানিয়েছেন, দেশটি খাদ্য ও জ্বালানির কৌশলগত মজুত আরও শক্তিশালী করবে।

এর পাশাপাশি তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো এবং রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

সব মিলিয়ে, চীন এখন একদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব রূপান্তরের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্টকে অপসারণে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ, রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে

চীনের জ্বালানি কৌশল নতুন করে ভাবনায়, হরমুজ সংকটে আমদানি নির্ভরতার ঝুঁকি সামনে

০৭:০২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীর জাহাজ চলাচল সংকট চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে বেইজিং এখন তার সামগ্রিক জ্বালানি কৌশল পুনর্মূল্যায়নের পথে এগোচ্ছে, কারণ দীর্ঘমেয়াদে এটি অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং রাষ্ট্রীয় পরিষদের (স্টেট কাউন্সিল) একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আহ্বান করেন, যেখানে জ্বালানি নিরাপত্তা ও খাতের রূপান্তর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এই বৈঠকে উপপ্রধানমন্ত্রী ডিং শুয়েসিয়াং-সহ শীর্ষ নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তাকে জাতীয় স্থিতিশীলতার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অস্থিরতা এবং চীনের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার প্রেক্ষাপটে সতর্কতা ও প্রস্তুতি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

China's economic reforms hinge on creative and courageous changes, state  media says in warning of a 'wasted opportunity' | South China Morning Post

বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও চীনের সতর্কতা
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর থেকেই বৈশ্বিক তেল ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে চীনকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

প্রথম প্রান্তিকের তথ্য বলছে, সংঘাত ও হরমুজ সংকটের প্রভাব সত্ত্বেও চীনের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। এই সময়ে দেশটির জিডিপি ৫ শতাংশ হারে বেড়েছে। যুদ্ধের আগে তেল মজুত করার কৌশল এই স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আমদানি নির্ভরতা: বড় কৌশলগত দুর্বলতা
তবে চীনের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো তেলের ওপর অতিরিক্ত আমদানি নির্ভরতা। দেশটি তার মোট তেলের প্রায় ৭০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে, যার একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। ফলে এই রুটে কোনো বিঘ্ন সরাসরি জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার আহ্বান
এই প্রেক্ষাপটে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান-এর সঙ্গে আলোচনায় হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার আহ্বান জানান। এটি ছিল এই সংকট নিয়ে তার প্রথম প্রকাশ্য অবস্থান, যা বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে।

শি জিনপিংয়ের সৌদি সফর: মার্কিন প্রভাব বলয়ে চীনের ধাক্কা - BBC News বাংলা

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর
চীন এখন আমদানি নির্ভরতা কমাতে জ্বালানি কাঠামো পরিবর্তনের দিকে জোর দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের সমাধান হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো।

বায়ু বিদ্যুৎ, সৌর শক্তি, জলবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন বিকল্প জ্বালানি উৎসের উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি উৎপাদন ও ব্যবহারে সবুজ ও নিম্ন-কার্বন রূপান্তর ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কয়লা ও জীবাশ্ম জ্বালানির বাস্তবতা
তবে বাস্তবতা হলো, চীন এখনও পুরোপুরি কয়লার ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে পারছে না। তাই আপাতত পরিষ্কার ও দক্ষ পদ্ধতিতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আধুনিকীকরণ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ গ্রিড উন্নয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।

CMGbangla - বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষে চীন এপ্রিল ২০, সিএমজি বাংলা  ডেস্ক: বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে চীন এবং একই সঙ্গে ...

বাজার সংস্কার ও প্রণোদনা
সবুজ জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহ দিতে জাতীয় বিদ্যুৎ বাজার সংস্কারের মাধ্যমে উৎপাদক ও ব্যবহারকারীদের প্রণোদনা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কৌশলগত মজুত ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
চীনের শীর্ষ অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকারী সংস্থার প্রধান ঝেং শানজিয়ে জানিয়েছেন, দেশটি খাদ্য ও জ্বালানির কৌশলগত মজুত আরও শক্তিশালী করবে।

এর পাশাপাশি তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো এবং রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

সব মিলিয়ে, চীন এখন একদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব রূপান্তরের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।