চলতি অর্থবছরে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতিতে পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। যদিও এই সময়ে রাজস্ব আদায়ে ১১ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে, তবুও বড় ঘাটতি সরকারের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যখন আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো আমদানি শুল্ক কমানোর জোর দাবি জানায়।
প্রাক-বাজেট বৈঠক ও প্রস্তাব
প্রাক-বাজেট আলোচনার অংশ হিসেবে ব্যবসায়ী নেতারা এনবিআর চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তারা দেশীয় শিল্পকে শক্তিশালী করা এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে একাধিক প্রস্তাব তুলে ধরেন।
এই আলোচনায় নেতৃত্ব দেয় তিনটি সংগঠন—ব্যাটারি প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি, ইলেকট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন এবং ট্রান্সফরমার ও সুইচগিয়ার প্রস্তুতকারক সমিতি।

শুল্ক কমানোর প্রধান দাবি
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মূল দাবি ছিল বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিকস খাতে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশের ওপর আরোপিত আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো।
তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ হারে যে শুল্ক রয়েছে, তা কমিয়ে ১ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা উচিত। এই সুবিধা বৈদ্যুতিক পাখা, এলইডি বাতি, সার্কিট ব্রেকার, ট্রান্সফরমার ও ব্যাটারি উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করার দাবি জানানো হয়।
ব্যাটারি খাতে অতিরিক্ত প্রণোদনা
ব্যাটারি শিল্পের পক্ষ থেকে লিথিয়াম-আয়ন ও সোডিয়াম-আয়ন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ব্যবহৃত ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার খাতে কর-সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াবে বলে তারা মনে করে।
দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য
এই প্রস্তাবগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ উৎপাদনকে উৎসাহ দেওয়া, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা দেওয়া এবং সাধারণ ভোক্তাদের জন্য পণ্যের দাম সহনীয় রাখা।

এনবিআরের সতর্ক বার্তা
ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব গ্রহণের কথা জানালেও এনবিআর চেয়ারম্যান সতর্ক অবস্থান নেন। তিনি বলেন, কর অব্যাহতির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। ব্যবসার প্রয়োজনে কিছু সমন্বয় করা যেতে পারে, তবে অতিরিক্ত ছাড় দিলে রাজস্ব ব্যবস্থায় ফাঁক তৈরি হয়।
রাজস্ব ঘাটতির চিত্র
এনবিআরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা, যেখানে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা।
তবে ইতিবাচক দিক হলো, আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রাজস্ব আদায় ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়েছে। এই প্রবৃদ্ধি আগামী বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















