চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের দুই বৃহৎ শক্তি। পারস্পরিক সম্মান, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং উভয়ের জন্য লাভজনক সহযোগিতার ভিত্তিতেই দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের মুখপাত্র লু ছিনজিয়ান।
বার্ষিক অধিবেশনের আগে সংবাদ সম্মেলন
চীনের জাতীয় আইনসভা ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস (এনপিসি) বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বুধবার একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। বার্ষিক অধিবেশন শুরুর একদিন আগে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে এনপিসির চতুর্দশ মেয়াদের চতুর্থ অধিবেশনের মুখপাত্র লু ছিনজিয়ান সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক জানতে চান, ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফরের প্রেক্ষাপটে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ভবিষ্যতে কোন দিকে এগোতে পারে। বিশেষ করে এ বছর দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের আরও বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে চীনের অবস্থান কী।

পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার বার্তা
লু ছিনজিয়ান বলেন, বিশ্বের দুই গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত একে অপরকে সম্মান করা, শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করা এবং উভয়ের জন্য লাভজনক সহযোগিতা জোরদার করা।
তিনি বলেন, চীনের শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার উল্লেখ করেছেন যে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত অংশীদার ও বন্ধু হিসেবে কাজ করা। ইতিহাসের অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান বাস্তবতা—উভয়ই এ পথের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
তার ভাষায়, একে অপরকে সফল হতে সহায়তা করা এবং একসঙ্গে সমৃদ্ধ হওয়ার যে দৃষ্টিভঙ্গি—তা বাস্তবে অর্জন করা সম্ভব।
শীর্ষ পর্যায়ের কূটনীতির গুরুত্ব
লু ছিনজিয়ান বলেন, চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপ্রধানদের কূটনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর বিকল্প নেই। গত বছর থেকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছেন।

এই যোগাযোগ দুই দেশের সম্পর্ককে একটি স্থিতিশীল পথে পরিচালিত করেছে এবং সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে নতুন গতি সঞ্চার করেছে। সামগ্রিকভাবে দুই দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল ও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে, যা দুই দেশের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয়ের কাছেই স্বাগত।
সহযোগিতায় লাভ, সংঘাতে ক্ষতি
লু ছিনজিয়ান বলেন, বাস্তবতা প্রমাণ করে যে সহযোগিতার মাধ্যমে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই লাভবান হয়, আর সংঘাত উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।
তিনি বলেন, দুই দেশের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে যে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে তা আন্তরিকভাবে বাস্তবায়ন করা হলে এবং সমতা, পারস্পরিক সম্মান ও পারস্পরিক লাভের নীতিতে কাজ করা হলে সম্পর্ক আরও স্থিতিশীলভাবে এগোতে পারবে।
তার মতে, দুই দেশের উচিত সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়ানো এবং সমস্যার তালিকা ছোট করা।
যোগাযোগ বাড়াতে প্রস্তুত চীন
চীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন স্তরে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ বাড়াতে প্রস্তুত বলেও জানান লু ছিনজিয়ান। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব।

তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, চীনের নিজস্ব নীতি ও সীমারেখা রয়েছে। দেশটি সবসময়ই তার সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষা করবে।
আইনসভাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ
লু ছিনজিয়ান দুই দেশের আইনসভাগুলোর মধ্যকার যোগাযোগের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত বছর এনপিসি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের একটি প্রতিনিধিদলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট সদস্যদের সঙ্গে সংলাপ বজায় রাখা হয়েছে এবং এনপিসির একটি যুব প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্র সফরও করেছে।
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্যদের মধ্যে সাধারণভাবে একটি উপলব্ধি রয়েছে—মুখোমুখি হওয়া দূরে সরে থাকার চেয়ে ভালো, আর সংলাপ বিচ্ছিন্নতার চেয়ে বেশি কার্যকর।

ভবিষ্যৎ সম্পর্কের প্রত্যাশা
লু ছিনজিয়ান বলেন, চীনের জাতীয় গণকংগ্রেস যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ ও বিনিময় অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত। আইনসভাগুলোর দৃষ্টিকোণ থেকেও চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে স্থিতিশীল ও ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস চীন এবং চীনের উন্নয়নকে বস্তুনিষ্ঠ ও যুক্তিসঙ্গতভাবে মূল্যায়ন করবে এবং দুই দেশের জনগণের বন্ধুত্ব ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















