সরকারি কর্মঘণ্টার মধ্যে বাইরে রোগী দেখলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পেশাগত নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিল করা হবে বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে অনিয়ম বন্ধ করতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সরকারি সময়ে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখা, চিকিৎসক তলব
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, শরীয়তপুরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের এক চিকিৎসক সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখার অভিযোগে মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে। তিনি স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মঘণ্টার মধ্যেই রোগী দেখছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
মন্ত্রণালয়ে তলব করার পর প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ওই চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে এবং বিভাগীয় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে তার পেশাগত নিবন্ধন স্থগিত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

অন্য চিকিৎসকদের জন্য সতর্কবার্তা
এই ঘটনার উদাহরণ থেকে অন্য চিকিৎসকদের শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা কর্মঘণ্টার সময় নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
তিনি আরও জানান, শরীয়তপুরের যে বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি হাসপাতালে শৃঙ্খলা ফেরাতে নজরদারি
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যাতে সরকারি ওষুধ সঠিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং চিকিৎসকেরা নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন, সে বিষয়টি বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে সরকারি কর্মঘণ্টার মধ্যে কোনো চিকিৎসক কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে তার লাইসেন্স স্থগিতসহ কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে নতুন নিয়োগ পরিকল্পনা
স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করতে সরকার মাঠপর্যায়ে বিপুলসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ধাত্রী, ফার্মাসিস্ট ও প্রযুক্তিবিদসহ বিভিন্ন পদে প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই নিয়োগের মধ্যে প্রায় আশি শতাংশই নারী হবেন বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















