০৭:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
ইরানপন্থী সমাবেশের আশঙ্কা, লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল নিষিদ্ধ করলেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমানিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর অনুমোদন হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ; তেল ছাড়তে প্রস্তুত জাপান ও জার্মানি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই থাইল্যান্ডের জাহাজে হরমুজ প্রণালীতে অজ্ঞাত হামলা, নিখোঁজ তিন নাবিক ইরান যুদ্ধে বেসামরিক ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ পোপ লিওর তেলের বাজারে অস্থিরতা: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার সুপারিশ আইইএর ইরানে নতুন করে ‘ব্যাপক হামলা’ শুরু করেছে ইসরাইল, একই সঙ্গে বৈরুতেও আঘাত ইরান যুদ্ধ: যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৭টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত প্রয়োজন হলে সৌদি আরবের পাশে থাকবে পাকিস্তান

ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের রক্তাক্ত বাস্তবতা: অপরাধের ঢেউয়ে নিরাপত্তাহীন এক সম্প্রদায়

ইসরায়েলে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি নাগরিকদের জন্য ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে দৈনন্দিন জীবন। দেশটিতে অপরাধ ও সহিংসতার যে ঢেউ তৈরি হয়েছে, তার সবচেয়ে বড় শিকার হয়ে উঠেছেন এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। হত্যাকাণ্ড, অবৈধ অস্ত্র ও সংগঠিত অপরাধচক্রের বিস্তার এখন অনেক ফিলিস্তিনি নাগরিকের কাছে জীবনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।

প্রতিদিনের মৃত্যুর মিছিল

চলতি বছরের শুরু থেকে গড় হিসেবে প্রায় প্রতিদিনই একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি দুই দিনে আলাদা আলাদা ঘটনায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক হলেও দেশে নথিভুক্ত হত্যাকাণ্ডের প্রায় আশি শতাংশই তাদের মধ্যে ঘটছে। গত বছর অপরাধ সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় অন্তত দুই শতাধিক ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হন।

রাষ্ট্র ও বৈষম্যের দীর্ঘ ইতিহাস

বিশ্লেষকদের মতে, এই সহিংসতার পেছনে শুধু অপরাধচক্র নয়, দীর্ঘদিনের কাঠামোগত বৈষম্যও বড় ভূমিকা রাখছে। ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর বহু বছর ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ওপর সামরিক শাসন ছিল। জমি, অর্থনৈতিক সুযোগ, বাজেট বরাদ্দসহ নানা ক্ষেত্রে তারা বৈষম্যের মুখে পড়েছেন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই বৈষম্য বিভিন্ন আইন ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, সাংস্কৃতিক প্রতীক ব্যবহার কিংবা প্রশাসনিক সুযোগ—সব ক্ষেত্রেই ফিলিস্তিনি নাগরিকদের সীমাবদ্ধতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

Thousands rally in Tel Aviv against Netanyahu's new Gaza plan, demand  release of hostages | Reuters

সংগঠিত অপরাধচক্রের বিস্তার

ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত শহর ও এলাকাগুলোতে শক্তিশালী অপরাধচক্রের বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। চাঁদাবাজি, সুদের কারবার, অস্ত্র ও মাদক পাচারের মতো অপরাধের মাধ্যমে এসব চক্র নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে।

অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পাওয়া কঠিন হওয়ায় মানুষ বাধ্য হয়ে অবৈধ ঋণদাতাদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। এতে অপরাধচক্রের প্রভাব আরও বাড়ছে।

নিরাপত্তাহীন জীবনের বাস্তবতা

যুদ্ধ পরিস্থিতি বা নিরাপত্তা সংকটের সময় এই বৈষম্য আরও প্রকট হয়ে ওঠে। ইসরায়েলের অনেক ফিলিস্তিনি এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র বা নিরাপত্তা অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। কিছু বড় শহরেও জনসাধারণের জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র নেই।

এছাড়া হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়াতেও বড় ধরনের বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে। ইহুদি নাগরিকদের হত্যাকাণ্ডের বেশিরভাগ মামলার সমাধান হলেও ফিলিস্তিনি ভুক্তভোগীদের ক্ষেত্রে মামলার নিষ্পত্তির হার অনেক কম।

রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক দলগুলো আসন্ন নির্বাচনে একজোট হওয়ার পরিকল্পনা করছে। তাদের দাবি, নিরাপত্তা ও সমঅধিকার নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠবে।

একজন ফিলিস্তিনি নাগরিকের পরিবারের সদস্য বলেন, প্রতিদিন গুলির শব্দ শোনা এখন তাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। পরিবারের মানুষ হারানোর পর অনেকেই ভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের একটাই দাবি—হত্যাকাণ্ড বন্ধ হোক এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা ফিরে পাক।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানপন্থী সমাবেশের আশঙ্কা, লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল নিষিদ্ধ করলেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের রক্তাক্ত বাস্তবতা: অপরাধের ঢেউয়ে নিরাপত্তাহীন এক সম্প্রদায়

০৫:৪৭:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

ইসরায়েলে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি নাগরিকদের জন্য ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে দৈনন্দিন জীবন। দেশটিতে অপরাধ ও সহিংসতার যে ঢেউ তৈরি হয়েছে, তার সবচেয়ে বড় শিকার হয়ে উঠেছেন এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। হত্যাকাণ্ড, অবৈধ অস্ত্র ও সংগঠিত অপরাধচক্রের বিস্তার এখন অনেক ফিলিস্তিনি নাগরিকের কাছে জীবনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।

প্রতিদিনের মৃত্যুর মিছিল

চলতি বছরের শুরু থেকে গড় হিসেবে প্রায় প্রতিদিনই একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি দুই দিনে আলাদা আলাদা ঘটনায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক হলেও দেশে নথিভুক্ত হত্যাকাণ্ডের প্রায় আশি শতাংশই তাদের মধ্যে ঘটছে। গত বছর অপরাধ সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় অন্তত দুই শতাধিক ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হন।

রাষ্ট্র ও বৈষম্যের দীর্ঘ ইতিহাস

বিশ্লেষকদের মতে, এই সহিংসতার পেছনে শুধু অপরাধচক্র নয়, দীর্ঘদিনের কাঠামোগত বৈষম্যও বড় ভূমিকা রাখছে। ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর বহু বছর ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ওপর সামরিক শাসন ছিল। জমি, অর্থনৈতিক সুযোগ, বাজেট বরাদ্দসহ নানা ক্ষেত্রে তারা বৈষম্যের মুখে পড়েছেন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই বৈষম্য বিভিন্ন আইন ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, সাংস্কৃতিক প্রতীক ব্যবহার কিংবা প্রশাসনিক সুযোগ—সব ক্ষেত্রেই ফিলিস্তিনি নাগরিকদের সীমাবদ্ধতার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

Thousands rally in Tel Aviv against Netanyahu's new Gaza plan, demand  release of hostages | Reuters

সংগঠিত অপরাধচক্রের বিস্তার

ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত শহর ও এলাকাগুলোতে শক্তিশালী অপরাধচক্রের বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। চাঁদাবাজি, সুদের কারবার, অস্ত্র ও মাদক পাচারের মতো অপরাধের মাধ্যমে এসব চক্র নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে।

অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পাওয়া কঠিন হওয়ায় মানুষ বাধ্য হয়ে অবৈধ ঋণদাতাদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। এতে অপরাধচক্রের প্রভাব আরও বাড়ছে।

নিরাপত্তাহীন জীবনের বাস্তবতা

যুদ্ধ পরিস্থিতি বা নিরাপত্তা সংকটের সময় এই বৈষম্য আরও প্রকট হয়ে ওঠে। ইসরায়েলের অনেক ফিলিস্তিনি এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র বা নিরাপত্তা অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। কিছু বড় শহরেও জনসাধারণের জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র নেই।

এছাড়া হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়াতেও বড় ধরনের বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে। ইহুদি নাগরিকদের হত্যাকাণ্ডের বেশিরভাগ মামলার সমাধান হলেও ফিলিস্তিনি ভুক্তভোগীদের ক্ষেত্রে মামলার নিষ্পত্তির হার অনেক কম।

রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক দলগুলো আসন্ন নির্বাচনে একজোট হওয়ার পরিকল্পনা করছে। তাদের দাবি, নিরাপত্তা ও সমঅধিকার নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠবে।

একজন ফিলিস্তিনি নাগরিকের পরিবারের সদস্য বলেন, প্রতিদিন গুলির শব্দ শোনা এখন তাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। পরিবারের মানুষ হারানোর পর অনেকেই ভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের একটাই দাবি—হত্যাকাণ্ড বন্ধ হোক এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা ফিরে পাক।