ভারতের বিভিন্ন শহরে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসের ঘাটতি রেস্তোরাঁ ও ছোট ব্যবসাগুলোর ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। গৃহস্থালি ব্যবহারের গ্যাসকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে, ফলে অনেক রেস্তোরাঁ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শহরজুড়ে রেস্তোরাঁ খাতে উদ্বেগ
বেঙ্গালুরু, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ের হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকদের সংগঠনগুলো জানিয়েছে, রান্নার কাজে ব্যবহৃত উনিশ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডার সরবরাহ গত কয়েক দিনে উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর হয়ে গেছে, কোথাও কোথাও পুরোপুরি বন্ধও রয়েছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বহু খাবারের দোকান সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বেঙ্গালুরুর হোটেল মালিকদের সংগঠন সরকারকে জানিয়েছে, দ্রুত সরবরাহ পুনরায় চালু না হলে বহু প্রতিষ্ঠান দশ মার্চ থেকেই কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে। সংগঠনের মতে, বেশিরভাগ হোটেল ও রেস্তোরাঁয় সাধারণত দুই থেকে তিন দিনের বেশি গ্যাস মজুত থাকে না। ফলে সরবরাহ বন্ধ হলে রান্নাঘর চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা ও সরবরাহ শঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এই পথ দিয়েই ভারতের বড় অংশের এলপিজি সরবরাহ আসে। ফলে আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যাহত হলে দেশের বাজারেও সরবরাহে চাপ পড়ে।
মুম্বাইয়ে গ্যাস বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গৃহস্থালি সিলিন্ডারের জন্য অপেক্ষার সময় প্রায় আট দিনে পৌঁছেছে। কিছু এলাকায় বাণিজ্যিক সিলিন্ডার সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে অনেক রেস্তোরাঁ মালিক রান্নাঘর চালু রাখতে বিকল্প উপায় খুঁজছেন।

কালোবাজারের আশঙ্কা ও আতঙ্কে কেনাকাটা
সরবরাহ সংকটের গুঞ্জনে দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্কে গ্যাস কেনার প্রবণতা দেখা গেছে। স্থানীয় এলাকায় গ্যাস সংস্থার সামনে দীর্ঘ লাইন পড়ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে কালোবাজারে সরকারি মূল্যের প্রায় দ্বিগুণ দামে সিলিন্ডার বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
একই সময়ে পাঞ্জাবের কিছু এলাকায় গ্যাস পরিবেশকরা জানিয়েছেন, গত দুই দিন ধরে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে এবং নতুন অর্ডার না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দাম বাড়ায় চাপ আরও বেড়েছে
এদিকে চলতি মাসের শুরুতেই গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম প্রায় ষাট রুপি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে রেস্তোরাঁয় ব্যবহৃত বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দামও প্রায় একশ পনেরো রুপি পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে ব্যবসায়ীদের ওপর খরচের চাপ আরও বাড়ছে।
তবে সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, সারাদেশে বড় ধরনের ঘাটতি নেই এবং মজুত যথেষ্ট রয়েছে। জনগণকে অযথা মজুত না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রেস্তোরাঁ মালিকদের বাড়তি উদ্বেগ
উত্তর ভারতের লখনউ শহরের এক রেস্তোরাঁ মালিক বলেন, গ্যাস সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপাতত কোনোভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় এমন অবস্থা চললে অনেক প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।
আরেকজন রেস্তোরাঁ উদ্যোক্তা জানান, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে অনেক খাবারের দোকানের সামনে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ থাকবে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















