রাজধানীর তুরাগের কামারপাড়া এলাকায় একটি বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধদের দ্রুত উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার ভোরে কামারপাড়ার ১০ নম্বর সেক্টরের কবরস্থান রোডে মেম্বার বাড়ির পাশের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিকট শব্দে আশপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং মুহূর্তেই এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
গ্যাস জমে থাকা থেকেই বিস্ফোরণের আশঙ্কা
স্থানীয়দের ধারণা, রাতে কোনোভাবে গ্যাসের পাইপ থেকে লিকেজ হয়ে ঘরের ভেতরে গ্যাস জমে ছিল। ভোরে আগুন জ্বালাতে গেলে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনের নিচতলা ও দ্বিতীয় তলার দেয়ালের অংশ ভেঙে যায়।

এনায়েতের আত্মীয় সাজেদ মাতব্বর জানান, দ্বিতীয় তলার ওই বাসায় থাকতেন রুবেল ও তার স্ত্রী সোনিয়া আক্তার। রুবেল পেশায় মোটরসাইকেল রাইড শেয়ার চালক। রুবেলের চাচাতো ভাই এনায়েত কিছুদিন আগে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেড়াতে এসেছিলেন। ভোরে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে সবাই বের হয়ে দেখেন ভবনের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত এবং বাসার ভেতরে আগুনে দগ্ধ হয়েছেন সবাই।
দগ্ধদের অবস্থা
এই ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন রুবেল, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সোনিয়া আক্তার, তাদের ছোট মেয়ে রোজা, সোনিয়ার বড় বোন রিয়া আক্তার, রুবেলের চাচাতো ভাই এনায়েত, তার স্ত্রী দেলেরা, ছেলে জুনায়েদ, এনায়েতের ছোট ভাই হাবিব, ভাগনি আয়েশা এবং আবুল কালাম রুবেল।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান জানান, আহত ১০ জনকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে গুরুতর দগ্ধ রয়েছে। বিশেষ করে সোনিয়া আক্তারের শরীর প্রায় শতভাগ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এছাড়া এনায়েতের শরীরের প্রায় ৪৫ শতাংশ, রুবেলের ৩২ শতাংশ, রিয়া আক্তারের ৩২ শতাংশ, জুনায়েদের ২৪ শতাংশ, হাবিবের ১৯ শতাংশ, রোজার ১৮ শতাংশসহ অন্যদের শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হয়েছে।
তদন্তের অপেক্ষা
তুরাগ থানার উপপরিদর্শক নুরে আলম সিদ্দিক জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গ্যাস লিকেজ থেকেই এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বিস্তারিত তদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা ভবনগুলোর গ্যাস সংযোগ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















