জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন সংশ্লিষ্ট সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে দেশে কমিশনের কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। নতুন অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় কমিশনের বর্তমান কাঠামো বিলুপ্ত হয়েছে, ফলে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দায়িত্বও স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে গেছে। এতে মানবাধিকার সুরক্ষায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অফিসে অনুপস্থিত চেয়ারম্যান ও সদস্যরা
সংসদে আইন বাতিলের পর থেকেই কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা অফিসে যাচ্ছেন না। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, যেহেতু তাদের নিয়োগ বাতিল হওয়া আইনের অধীনে হয়েছিল, তাই তাদের পদও আর বহাল নেই। ফলে পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না।
একজন বিদায়ী সদস্য জানান, আইন বাতিল হওয়ায় তাদের নিয়োগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে গেছে। তাই এটি কোনো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং আইনি প্রক্রিয়ার ফল।

কীভাবে তৈরি হলো এই পরিস্থিতি
গত ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে একটি বিল পাসের মাধ্যমে নতুন মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল করা হয় এবং পুরনো আইন পুনরায় চালু করা হয়। তবে এই পরিবর্তনের ফলে নতুন করে গঠিত কমিশনটি কার্যকারিতা হারায়।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী কমিশন পুনর্গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই অধ্যাদেশ স্থায়ী আইন হিসেবে অনুমোদন না পাওয়ায় পুরো কাঠামো ভেঙে পড়ে।
খোলা চিঠিতে বিদায়ী সদস্যদের বক্তব্য
বিদায়ী চেয়ারম্যানসহ সদস্যরা একটি খোলা চিঠিতে জানিয়েছেন, তারা ব্যক্তিস্বার্থে নয়, বরং মানবাধিকার সুরক্ষার দায়বদ্ধতা থেকেই তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তারা সংসদে উপস্থাপিত কিছু তথ্যকে ভুল দাবি করে সেগুলোর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন।
চিঠিতে বলা হয়, গুমসহ গুরুতর অপরাধের বিষয়ে আইন নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তদন্ত প্রক্রিয়া, শাস্তির বিধান এবং আইনের কার্যকারিতা সম্পর্কেও ভুল ধারণা ছড়ানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সরকারের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সরকার জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সব অধ্যাদেশ বাতিল হলেও নতুন আইন প্রণয়নের আগে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। যাচাই-বাছাই করে একটি শক্তিশালী আইন আনার কথাও বলা হয়েছে।
তবে বিদায়ী সদস্যদের মতে, সরকারের কিছু আপত্তি যদি বজায় থাকে, তাহলে ভবিষ্যতের আইনও দুর্বল হতে পারে এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হতে পারে।
মানবাধিকার সুরক্ষায় শূন্যতা নিয়ে উদ্বেগ
আইন বাতিলের ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—বর্তমানে নতুন কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে তার বিচার ও প্রতিকার কীভাবে হবে। বিশেষ করে গুমের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে আইনি শূন্যতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিদায়ী সদস্যরা মনে করছেন, শক্তিশালী ও স্বাধীন একটি কমিশন ছাড়া ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তাই দ্রুত কার্যকর ও স্বচ্ছ আইন প্রণয়নের দাবি উঠছে।
মানবাধিকার কমিশনের এই অচলাবস্থা এখন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















