মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায়। শনিবার সন্ধ্যায় কাতার, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও স্পষ্ট হয়েছে যে ইরানের ধর্মতান্ত্রিক নেতৃত্ব দেশের সব সামরিক কর্মকাণ্ডের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছে না। বিশেষ করে শক্তিশালী আধাসামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড অনেক ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

ইরানের প্রভাবশালী বাহিনীর ভূমিকা
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড ইরানের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক সংগঠন। দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বড় অংশ এই বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাত এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে এই বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশের দিকে লক্ষ্য করে যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়, তার বেশিরভাগই এই বাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। ফলে ইরানের বেসামরিক বা ধর্মীয় নেতৃত্ব অনেক সময় এসব অভিযানের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে না।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ
শনিবারের এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা দেখালেও একই সঙ্গে নতুন উদ্বেগও তৈরি করেছে। কারণ একাধিক দেশের আকাশসীমা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের অভ্যন্তরে সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার এই দ্বৈত কাঠামো ভবিষ্যতেও এমন অনিশ্চয়তার জন্ম দিতে পারে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















