মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সিরিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, লেবানন থেকে ছোড়া কয়েকটি কামানের গোলা রাজধানী দামেস্কের পশ্চিমে একটি শহরের কাছে এসে পড়েছে। ঘটনাটি মঙ্গলবার ভোরে ঘটে বলে জানানো হয়েছে। এই হামলার জন্য লেবাননের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহকে দায়ী করেছে সিরিয়ার সামরিক কর্তৃপক্ষ।
সেনাবাহিনীর অবস্থানে হামলার অভিযোগ
সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দামেগোলাগুলো স্ক থেকে প্রায় ২০ মাইল পশ্চিমে একটি শহরের কাছাকাছি এলাকায় এসে পড়ে। সেনাবাহিনীর দাবি, হিজবুল্লাহ ওই এলাকায় সিরিয়ার সেনা অবস্থান লক্ষ্য করেই এই গোলাবর্ষণ করেছে।
একই সঙ্গে সিরিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিরিয়া-লেবানন সীমান্ত এলাকায় হিজবুল্লাহর অতিরিক্ত সদস্য ও সরঞ্জাম জড়ো হওয়ার বিষয়টিও তারা লক্ষ্য করেছেন। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

হামলার জবাব দেওয়ার সতর্কবার্তা
সিরিয়ার সেনাবাহিনী স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেছে, দেশের ভূখণ্ডে যে কোনো ধরনের হামলার জবাব দেওয়া হবে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে এটিই সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া।
গত মাসের শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের ওপর হামলা এবং তার জবাবে ইরানের মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা পদক্ষেপের পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বেড়ে গেছে। সেই প্রেক্ষাপটে সিরিয়ার এই বিবৃতি পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ‘অস্তিত্বের হুমকি’
সোমবার সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাকে পুরো অঞ্চলের জন্য “অস্তিত্বের হুমকি” বলে মন্তব্য করেছেন। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, তিনি আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্ত প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার কথাও উল্লেখ করেন।
আল-শারা জানান, সিরিয়া লেবাননের পাশে রয়েছে এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখছে। আউন ইতোমধ্যেই হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

দীর্ঘ যুদ্ধের পর পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ
সিরিয়া বর্তমানে দীর্ঘ ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের মাধ্যমে সেই সংঘাতের অবসান ঘটে।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা সেই বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত আসাদ সরকারের পতন ঘটায়। এর আগে ২০২৪ সালের শেষদিকে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল।
তবে সীমান্ত এলাকায় নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হলে তা সিরিয়ার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ দেশটি এখনও যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থা থেকে পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















