যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা নিয়ে একদিনেই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার তিনি প্রথমে বলেন, এই সামরিক অভিযান প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই আবার সতর্ক করে জানান, ইরান যদি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
যুদ্ধের সময়কাল এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট নিয়ে তার বক্তব্যে স্পষ্টতা না থাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।
প্রথম বক্তব্যে যুদ্ধ প্রায় শেষের ইঙ্গিত
সোমবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এখন অনেকটাই শেষের দিকে।
তিনি মন্তব্য করেন, অভিযানটি “প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে গেছে” এবং পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের আশঙ্কা কিছুটা কমে যাওয়ায় দ্রুত বাড়তে থাকা তেলের দাম হঠাৎই কমে যায়।

পরবর্তী বক্তব্যে কঠোর সতর্কতা
তবে একই দিনে পরে আবার ভিন্ন সুরে কথা বলেন ট্রাম্প। ফ্লোরিডায় রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি আরও কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আগের চেয়ে আরও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এগোচ্ছে এবং এই দীর্ঘদিনের হুমকির স্থায়ী অবসান না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাবে।
ট্রাম্প আরও সতর্ক করে দেন, ইরান যদি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করার চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র আরও শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা
ট্রাম্পের দুই ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। একদিকে যুদ্ধ প্রায় শেষের দিকে—এমন ইঙ্গিত বাজারকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। অন্যদিকে, ইরান তেল সরবরাহ বন্ধ করতে পারে—এই আশঙ্কা আবারও বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল সামরিক সংঘর্ষ নয়; এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















