লিড
বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে রমজান উপলক্ষে তহবিল সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি। এ উদ্যোগে সাধারণ মানুষকে অংশ নিয়ে অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রমজান তহবিল সংগ্রহ অভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানায়, রমজান মাসকে সামনে রেখে তারা একটি বিশেষ তহবিল সংগ্রহ অভিযান পরিচালনা করছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকা পরিবারগুলোর সহায়তায় অর্থ সংগ্রহ করা হবে।
এই উদ্যোগে জনগণ সরাসরি বিকাশের মাধ্যমে অনুদান দিতে পারবেন। বিকাশ অ্যাপের ডোনেশন অপশন থেকে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির অফিসিয়াল বিকাশ নম্বরে অনুদান পাঠানো যাবে। পাশাপাশি অনলাইনের মাধ্যমেও অনুদান দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণ
এই প্রচারণায় বিভিন্ন পরিচিত ব্যক্তিত্বও যুক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন শেফ ও লেখক কিশোয়ার চৌধুরী। তিনি অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় রান্নার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার ত্রয়োদশ মৌসুমে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পান।
কিশোয়ার চৌধুরী বলেন, রমজানের এই সময়ে ক্ষুধায় আক্রান্ত এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত জরুরি। তিনি জানান, এই উদ্যোগে দেওয়া প্রতিটি অনুদান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কার্যক্রমকে সহায়তা করবে, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার চিত্র
বাংলাদেশে এখনও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৫ সালের সমন্বিত খাদ্য নিরাপত্তা পর্যায় শ্রেণিবিন্যাস বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশে প্রায় এক কোটি ষাট লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছেন। পর্যাপ্ত সহায়তা না পেলে তাদের অনেকেই আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারেন।
তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার অর্থ হলো অনেক পরিবার নিয়মিত খাবার খেতে পারে না, কম পুষ্টিকর খাবার খেতে বাধ্য হয় বা কখনও কখনও পুরো দিন না খেয়েই কাটাতে হয়, কারণ তাদের কাছে পর্যাপ্ত খাদ্য কেনা বা সংগ্রহ করার সামর্থ্য থাকে না।

সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির বাংলাদেশ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর সিমোন পার্চমেন্ট বলেন, রমজানের মানবিক চেতনা থেকেই সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে। যারা ন্যূনতম খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে সংগ্রাম করছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো এখন অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, মানুষের দেওয়া প্রতিটি টাকা সংকটে থাকা পরিবারগুলোকে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তা করবে এবং ধীরে ধীরে খাদ্য নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে তিনি এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়া কিশোয়ার চৌধুরীসহ অন্যান্য পরিচিত ব্যক্তিত্বকে ধন্যবাদ জানান এবং আরও ব্যক্তি ও অংশীদারদের এতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সবার সম্মিলিত উদ্যোগেই ক্ষুধামুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















