০২:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ড্রোন হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের বৃহত্তম তেল শোধনাগার বন্ধ করে দিয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলা বন্ধ না হলে উপসাগর অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না—এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। একই সময়ে ড্রোন হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের বৃহত্তম তেল শোধনাগার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।

যুদ্ধ, হামলা ও পাল্টা হুমকির মধ্যে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে।

উপসাগরে তেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি বলেছেন, উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হয় শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ হবে, নয়তো যুদ্ধপ্রিয় শক্তির জন্য হবে দুর্ভোগের পথ। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীও একই ধরনের কড়া বার্তা দিয়েছে। তাদের দাবি, যুদ্ধ থামানো না হলে শত্রুপক্ষ ও তাদের সহযোগীদের দিকে এক লিটার তেলও যেতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তারা বলেছে, যুদ্ধের শেষ কবে হবে তা নির্ধারণ করবে ইরানই।

Oil infrastructure hit in Gulf | THE DAILY TRIBUNE | KINGDOM OF BAHRAIN

তেল স্থাপনায় হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা

গত কয়েক দিনে উপসাগর অঞ্চলে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি আরব, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল অবকাঠামোতে আঘাত হানা হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রুওয়াইস শিল্প এলাকায় ড্রোন হামলার পর সেখানে আগুন লাগে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই অঞ্চলের বৃহত্তম তেল শোধনাগার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে কাতার জানিয়েছে, তাদের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপরও ইরানের হামলা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে তেহরানের ওপর নতুন করে হামলার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিরুদ্ধে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে।

কঠোর বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নেতৃত্ব জানিয়েছে, ইরানের ভেতরে হামলার মাত্রা আরও বাড়ানো হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন।

নেতানিয়াহু নিহত বা গুরুতর আহত হওয়ার দাবি ইরানের, 'গুজব' বলে উড়িয়ে  দিচ্ছে ইসরায়েল

তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, যদি ইরান তেল রপ্তানিতে বাধা দেয়, তাহলে এমন হামলা চালানো হবে যাতে দেশটি পুনর্গঠন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও বলেছেন, সংঘাত এখনো শেষ হয়নি এবং সামরিক অভিযান চলতে থাকবে।

বিশ্ববাজারে তেলের দামে তীব্র ওঠানামা

এই সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। এক পর্যায়ে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম একশ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যায় এবং একদিনেই প্রায় ত্রিশ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে।

পরে সামান্য কমলেও আবারও দাম বাড়তে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগর অঞ্চল থেকে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়। ফলে এই অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়লে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়।

যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত, এশিয়ার বাজারে জ্বালানি তেলের দামে পতন

নিরাপত্তা জোরদার করতে চায় কাতার

এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই কাতার জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে চায়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে নিরাপত্তা অংশীদারিত্বই তাদের জন্য বড় প্রতিরোধ শক্তি।

উল্লেখ্য, কাতারে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি অবস্থিত, যা সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় হামলার মুখেও পড়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই সংঘাত এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ড্রোন হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের বৃহত্তম তেল শোধনাগার বন্ধ করে দিয়েছে

০৬:১৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলা বন্ধ না হলে উপসাগর অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না—এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। একই সময়ে ড্রোন হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের বৃহত্তম তেল শোধনাগার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।

যুদ্ধ, হামলা ও পাল্টা হুমকির মধ্যে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে।

উপসাগরে তেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি বলেছেন, উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হয় শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ হবে, নয়তো যুদ্ধপ্রিয় শক্তির জন্য হবে দুর্ভোগের পথ। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীও একই ধরনের কড়া বার্তা দিয়েছে। তাদের দাবি, যুদ্ধ থামানো না হলে শত্রুপক্ষ ও তাদের সহযোগীদের দিকে এক লিটার তেলও যেতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তারা বলেছে, যুদ্ধের শেষ কবে হবে তা নির্ধারণ করবে ইরানই।

Oil infrastructure hit in Gulf | THE DAILY TRIBUNE | KINGDOM OF BAHRAIN

তেল স্থাপনায় হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা

গত কয়েক দিনে উপসাগর অঞ্চলে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি আরব, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল অবকাঠামোতে আঘাত হানা হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রুওয়াইস শিল্প এলাকায় ড্রোন হামলার পর সেখানে আগুন লাগে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই অঞ্চলের বৃহত্তম তেল শোধনাগার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে কাতার জানিয়েছে, তাদের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপরও ইরানের হামলা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে তেহরানের ওপর নতুন করে হামলার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিরুদ্ধে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে।

কঠোর বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নেতৃত্ব জানিয়েছে, ইরানের ভেতরে হামলার মাত্রা আরও বাড়ানো হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন।

নেতানিয়াহু নিহত বা গুরুতর আহত হওয়ার দাবি ইরানের, 'গুজব' বলে উড়িয়ে  দিচ্ছে ইসরায়েল

তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, যদি ইরান তেল রপ্তানিতে বাধা দেয়, তাহলে এমন হামলা চালানো হবে যাতে দেশটি পুনর্গঠন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও বলেছেন, সংঘাত এখনো শেষ হয়নি এবং সামরিক অভিযান চলতে থাকবে।

বিশ্ববাজারে তেলের দামে তীব্র ওঠানামা

এই সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। এক পর্যায়ে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম একশ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যায় এবং একদিনেই প্রায় ত্রিশ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে।

পরে সামান্য কমলেও আবারও দাম বাড়তে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগর অঞ্চল থেকে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়। ফলে এই অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়লে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়।

যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত, এশিয়ার বাজারে জ্বালানি তেলের দামে পতন

নিরাপত্তা জোরদার করতে চায় কাতার

এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই কাতার জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে চায়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে নিরাপত্তা অংশীদারিত্বই তাদের জন্য বড় প্রতিরোধ শক্তি।

উল্লেখ্য, কাতারে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি অবস্থিত, যা সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় হামলার মুখেও পড়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই সংঘাত এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।