০৭:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
ইরানপন্থী সমাবেশের আশঙ্কা, লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল নিষিদ্ধ করলেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমানিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর অনুমোদন হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ; তেল ছাড়তে প্রস্তুত জাপান ও জার্মানি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই থাইল্যান্ডের জাহাজে হরমুজ প্রণালীতে অজ্ঞাত হামলা, নিখোঁজ তিন নাবিক ইরান যুদ্ধে বেসামরিক ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ পোপ লিওর তেলের বাজারে অস্থিরতা: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার সুপারিশ আইইএর ইরানে নতুন করে ‘ব্যাপক হামলা’ শুরু করেছে ইসরাইল, একই সঙ্গে বৈরুতেও আঘাত ইরান যুদ্ধ: যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৭টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত প্রয়োজন হলে সৌদি আরবের পাশে থাকবে পাকিস্তান

ড্রোন হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের বৃহত্তম তেল শোধনাগার বন্ধ করে দিয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলা বন্ধ না হলে উপসাগর অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না—এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। একই সময়ে ড্রোন হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের বৃহত্তম তেল শোধনাগার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।

যুদ্ধ, হামলা ও পাল্টা হুমকির মধ্যে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে।

উপসাগরে তেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি বলেছেন, উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হয় শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ হবে, নয়তো যুদ্ধপ্রিয় শক্তির জন্য হবে দুর্ভোগের পথ। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীও একই ধরনের কড়া বার্তা দিয়েছে। তাদের দাবি, যুদ্ধ থামানো না হলে শত্রুপক্ষ ও তাদের সহযোগীদের দিকে এক লিটার তেলও যেতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তারা বলেছে, যুদ্ধের শেষ কবে হবে তা নির্ধারণ করবে ইরানই।

Oil infrastructure hit in Gulf | THE DAILY TRIBUNE | KINGDOM OF BAHRAIN

তেল স্থাপনায় হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা

গত কয়েক দিনে উপসাগর অঞ্চলে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি আরব, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল অবকাঠামোতে আঘাত হানা হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রুওয়াইস শিল্প এলাকায় ড্রোন হামলার পর সেখানে আগুন লাগে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই অঞ্চলের বৃহত্তম তেল শোধনাগার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে কাতার জানিয়েছে, তাদের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপরও ইরানের হামলা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে তেহরানের ওপর নতুন করে হামলার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিরুদ্ধে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে।

কঠোর বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নেতৃত্ব জানিয়েছে, ইরানের ভেতরে হামলার মাত্রা আরও বাড়ানো হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন।

নেতানিয়াহু নিহত বা গুরুতর আহত হওয়ার দাবি ইরানের, 'গুজব' বলে উড়িয়ে  দিচ্ছে ইসরায়েল

তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, যদি ইরান তেল রপ্তানিতে বাধা দেয়, তাহলে এমন হামলা চালানো হবে যাতে দেশটি পুনর্গঠন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও বলেছেন, সংঘাত এখনো শেষ হয়নি এবং সামরিক অভিযান চলতে থাকবে।

বিশ্ববাজারে তেলের দামে তীব্র ওঠানামা

এই সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। এক পর্যায়ে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম একশ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যায় এবং একদিনেই প্রায় ত্রিশ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে।

পরে সামান্য কমলেও আবারও দাম বাড়তে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগর অঞ্চল থেকে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়। ফলে এই অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়লে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়।

যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত, এশিয়ার বাজারে জ্বালানি তেলের দামে পতন

নিরাপত্তা জোরদার করতে চায় কাতার

এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই কাতার জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে চায়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে নিরাপত্তা অংশীদারিত্বই তাদের জন্য বড় প্রতিরোধ শক্তি।

উল্লেখ্য, কাতারে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি অবস্থিত, যা সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় হামলার মুখেও পড়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই সংঘাত এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানপন্থী সমাবেশের আশঙ্কা, লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল নিষিদ্ধ করলেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ড্রোন হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের বৃহত্তম তেল শোধনাগার বন্ধ করে দিয়েছে

০৬:১৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলা বন্ধ না হলে উপসাগর অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না—এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। একই সময়ে ড্রোন হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের বৃহত্তম তেল শোধনাগার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।

যুদ্ধ, হামলা ও পাল্টা হুমকির মধ্যে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে।

উপসাগরে তেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি বলেছেন, উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হয় শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ হবে, নয়তো যুদ্ধপ্রিয় শক্তির জন্য হবে দুর্ভোগের পথ। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীও একই ধরনের কড়া বার্তা দিয়েছে। তাদের দাবি, যুদ্ধ থামানো না হলে শত্রুপক্ষ ও তাদের সহযোগীদের দিকে এক লিটার তেলও যেতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তারা বলেছে, যুদ্ধের শেষ কবে হবে তা নির্ধারণ করবে ইরানই।

Oil infrastructure hit in Gulf | THE DAILY TRIBUNE | KINGDOM OF BAHRAIN

তেল স্থাপনায় হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা

গত কয়েক দিনে উপসাগর অঞ্চলে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি আরব, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল অবকাঠামোতে আঘাত হানা হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রুওয়াইস শিল্প এলাকায় ড্রোন হামলার পর সেখানে আগুন লাগে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই অঞ্চলের বৃহত্তম তেল শোধনাগার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে কাতার জানিয়েছে, তাদের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপরও ইরানের হামলা অব্যাহত রয়েছে। এদিকে তেহরানের ওপর নতুন করে হামলার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিরুদ্ধে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে।

কঠোর বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নেতৃত্ব জানিয়েছে, ইরানের ভেতরে হামলার মাত্রা আরও বাড়ানো হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন।

নেতানিয়াহু নিহত বা গুরুতর আহত হওয়ার দাবি ইরানের, 'গুজব' বলে উড়িয়ে  দিচ্ছে ইসরায়েল

তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, যদি ইরান তেল রপ্তানিতে বাধা দেয়, তাহলে এমন হামলা চালানো হবে যাতে দেশটি পুনর্গঠন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও বলেছেন, সংঘাত এখনো শেষ হয়নি এবং সামরিক অভিযান চলতে থাকবে।

বিশ্ববাজারে তেলের দামে তীব্র ওঠানামা

এই সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। এক পর্যায়ে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম একশ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যায় এবং একদিনেই প্রায় ত্রিশ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে।

পরে সামান্য কমলেও আবারও দাম বাড়তে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগর অঞ্চল থেকে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়। ফলে এই অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়লে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়।

যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত, এশিয়ার বাজারে জ্বালানি তেলের দামে পতন

নিরাপত্তা জোরদার করতে চায় কাতার

এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই কাতার জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে চায়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে নিরাপত্তা অংশীদারিত্বই তাদের জন্য বড় প্রতিরোধ শক্তি।

উল্লেখ্য, কাতারে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি অবস্থিত, যা সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় হামলার মুখেও পড়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই সংঘাত এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।