ঈদুল ফিতরের আগে রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দামে নতুন করে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে মুরগি ও ডিমের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। অন্যদিকে সেমাই ও চিনির দোকানে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। তবে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
মুরগির বাজারে নতুন চাপ
ঈদ সামনে রেখে মুরগির বাজারে আবারও দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা। একই সময়ে সোনালি জাতের মুরগির দামও কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকায়। অথচ গত সপ্তাহেও এর দাম ছিল ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা। রোজা শুরুর আগে ব্রয়লারের কেজি বিক্রি হয়েছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। পরে দাম কমে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায় নেমে এলেও কয়েকদিন পর আবার বাড়তে শুরু করে।
সোনালি মুরগির ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। এখন এ ধরনের মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায়।

ডিমের দামেও ঊর্ধ্বগতি
মুরগির পাশাপাশি ডিমের দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ফার্মের বাদামি ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছিল ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়। বর্তমানে সেই দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১০ টাকায়।
কারওয়ান বাজারের এক মুরগি বিক্রেতা জানান, সরবরাহে তেমন ঘাটতি না থাকলেও রোজার শেষভাগে চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। খামার ও পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারেও পড়ছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, চাহিদা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিক্রেতারা।

ভোজ্যতেলের সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক
কয়েকদিন ধরে ভোজ্যতেলের বাজারে সংকট দেখা দিলেও বর্তমানে সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। খোলা ও বোতলজাত দুই ধরনের তেলই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তবে গত সপ্তাহে সংকটের কারণে যে লিটারপ্রতি চার থেকে সাত টাকা দাম বেড়েছিল, তা এখনো কমেনি।
সেমাই–চিনির দোকানে বাড়তি ভিড়
ঈদের এখনো প্রায় আট থেকে নয় দিন বাকি থাকলেও অনেক ক্রেতা আগেভাগেই ঈদের কেনাকাটা শুরু করেছেন। বিশেষ করে সেমাই ও চিনির দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে।
বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই পাওয়া যাচ্ছে। খোলা লাচ্ছা সেমাই প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। ছোট প্যাকেটজাত লাচ্ছা সেমাইয়ের দাম ৪৫ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। সাধারণ মানের বাংলা সেমাই কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। চিনি বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়।
এক দোকানির ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণত ঈদের পাঁচ-ছয় দিন আগে এসব পণ্যের বিক্রি বাড়ে। কিন্তু এবার রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকেই বিক্রি বাড়তে শুরু করেছে। তবে দাম গত বছরের মতোই রয়েছে বলে জানান তিনি।

সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি
মাংস ও ডিমের দাম বাড়লেও সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। অনেক সবজির দাম কমেছে।
বর্তমানে বেগুন বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকায়, যা রোজার শুরুতে ছিল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা। এছাড়া উচ্ছে কেজি ৭০ থেকে ৮০, শিম ৪৫ থেকে ৫০, গাজর ৪০ থেকে ৫০, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ এবং শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর কেজি পাওয়া যাচ্ছে ২০ থেকে ২২ টাকায়।
পেঁয়াজের দাম আগের মতোই রয়েছে। বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















