ইরান-মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে অন্তত দুটি
তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরকবাহী নৌ-ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো
হয়েছে বলে সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ ও বিশ্লেষকরা নিশ্চিত করেছেন।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে কার্যকরভাবে ব্যবহৃত এই মানবহীন বিস্ফোরকবাহী
নৌযান বা ‘সী ড্রোন’য়ের প্রযুক্তি এখন হরমুজ প্রণালির জলপথে নতুন ও
বিপজ্জনক হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
প্রথম ঘটনা: এমকেডি ভ্যায়ম ট্যাংকারে হামলা
প্রথম নৌ-ড্রোন হামলাটি ঘটে ১ মার্চ। মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী
অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ‘এমকেডি ভ্যায়ম’ ওমানের উপকূল থেকে প্রায়
৪৪ নটিক্যাল মাইল দূরে আঘাতের শিকার হয়। ব্রিটিশ সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ
ইউকেএমটিও জানায়, একটি মানবহীন সারফেস ভেসেল ওয়াটারলাইনের উপরে
ট্যাংকারে আঘাত করে, ফলে ইঞ্জিন কক্ষে বিস্ফোরণ ও আগুন লাগে। একজন
ভারতীয় নাবিক নিহত হন, বাকি ২০ জনকে উদ্ধার করা হয়। দ্বিতীয় ঘটনায়
বাহামা-পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘সোনাঙ্গোল নামিবে’ ইরাকের খোর আল-জুবেইর
বন্দরের কাছে নোঙরে থাকা অবস্থায় আঘাতের মুখে পড়ে, তবে ২৩ জন নাবিক
নিরাপদে রয়েছেন।

সামুদ্রিক হুমকির নতুন মাত্রা
ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি ইরানের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হয়, এটি হবে
ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথমবার বাণিজ্যিক জাহাজে সরাসরি নৌ-ড্রোন
ব্যবহারের নজির। মেরিটাইম নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যাম্ব্রের রবার্ট
পিটার্স বলেন, সমুদ্র ড্রোন আকাশ ড্রোনের চেয়ে বেশি বিস্ফোরক বহন করতে
পারে এবং সঠিক জায়গায় আঘাত করলে একটি জাহাজকে সম্পূর্ণ অচল করে দিতে
পারে। ইরান-সমর্থিত হুতিরা আগে লোহিত সাগরে এই কৌশল ব্যবহার করেছে,
কিন্তু ইরানের নিজেদের হাতে এই অস্ত্রের ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ
করে তোলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















