বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কৌশলগত তেলের মজুত বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ছে, যার ফলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে এবং শেয়ারবাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার তেলের দাম আরও বাড়ে, একই সঙ্গে এশিয়ার বেশ কয়েকটি বড় শেয়ারবাজারে সূচক কমে যায়। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে তা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে।
তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে
বৃহস্পতিবার সিউলের সময় দুপুর প্রায় ১২টা ১৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০০ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁছায়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ছিল প্রায় ৯৪ ডলার প্রতি ব্যারেল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই বিশ্ব তেলের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। সোমবার একপর্যায়ে ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় ১২০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। যদিও পরে কিছুটা কমেছে, তবুও যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় দাম এখনও অনেক বেশি।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উদ্বেগ
বিশ্বের বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি এখন মূলত হরমুজ প্রণালির দিকে। ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়।
কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজে হামলার আশঙ্কা বাড়ায় পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালি হয়ে বের হওয়া জাহাজ চলাচল কার্যত থেমে গেছে। এতে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
বৈশ্বিক তেলের মজুত ছাড়ার সিদ্ধান্ত

পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা বুধবার কৌশলগত তেলের মজুত থেকে মোট ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একাই ছাড়বে ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা সমন্বিতভাবে এই উদ্যোগ নিয়েছে। পারস্য উপসাগরে জাহাজে হামলার ঘটনা বাড়তে থাকার খবরের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পেট্রোলের দাম ২০ শতাংশ বেড়েছে
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানির খরচও দ্রুত বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে বুধবার পেট্রোলের গড় মূল্য বেড়ে প্রতি গ্যালন ৩ দশমিক ৫৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
মোট হিসেবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পেট্রোলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। সাধারণত অপরিশোধিত তেলের দামের পরিবর্তনের কয়েক দিন পর পেট্রোলের দাম ওঠানামা করে।

এশিয়ার শেয়ারবাজারে পতন
তেলের দাম বাড়ার প্রভাব শেয়ারবাজারেও পড়েছে। বিশেষ করে যেসব দেশ প্রচুর তেল ও গ্যাস আমদানি করে, সেই এশীয় দেশগুলোর বাজারে পতন দেখা গেছে।
জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের প্রধান শেয়ার সূচকগুলো প্রায় দেড় শতাংশ করে কমেছে। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচকও এক শতাংশের বেশি কমে যায়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের ফিউচারও ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বাজার নিম্নমুখী হতে পারে। এর আগের দিন সূচকটি সামান্য কমে শূন্য দশমিক এক শতাংশ নিচে নেমে বন্ধ হয়েছিল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















