০৮:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
ইরান যুদ্ধের ছায়ায় তাইওয়ান সংকট: চীনের হামলার ঝুঁকি কি বাড়ছে? চীনের রাজনীতিতে জিয়াং শেংনানের দৃপ্ত কণ্ঠ, নারীর অধিকারের নতুন অধ্যায় শুরু ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানবপাচার মামলায় সাবেক এমপি মাসুদ উদ্দিনের ৬ দিনের নতুন রিমান্ড মমতার তোপে বিজেপি: বাংলা ধ্বংসের চক্রান্তের অভিযোগ, ভোটের আগে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ ভারতের জঙ্গলে দীর্ঘতম মাওবাদী বিদ্রোহ শেষের পথে? নিরাপত্তা অভিযানে বদলে যাচ্ছে বাস্তবতা জ্বালানি সংকটে বড় সিদ্ধান্ত: পিকেএসএফের জ্বালানি ব্যবহার অর্ধেকে নামানোর ঘোষণা সাইবার যুদ্ধে নতুন যুগ: আক্রমণাত্মক কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র, বাড়ছে বৈশ্বিক উত্তেজনা সিআইএতে অস্থিরতা: রাজনীতির ছায়ায় ভেঙে পড়ছে গোয়েন্দা সংস্থার মনোবল যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সফরে গেলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ডিএইচএসে নতুন মুখ, পুরনো সংকট: মুলিনের নরম ভাবমূর্তি কি পারবে উত্তপ্ত বাস্তব সামাল দিতে?

গ্যাসের অভাবে ভারতে কয়লা ও কেরোসিনের ব্যবহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব পড়েছে রান্নার গ্যাসের সরবরাহে। এলপিজি সরবরাহে চাপ বাড়তে থাকায় বাণিজ্যিক খাতে কেরোসিন, জ্বালানি তেল, বায়োমাস এবং কয়লার মতো বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর লক্ষ্য মূলত রেস্তোরাঁ, হোটেল ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এলপিজির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে গৃহস্থালি ব্যবহারকারীদের জন্য গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা।

এলপিজি সরবরাহে চাপ, বিকল্প জ্বালানির দিকে নজর

সরকার জানিয়েছে, গ্যাসের ওপর চাপ কমাতে কেরোসিন খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র এবং গণবণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি শিল্প ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের জন্য জ্বালানি তেল দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডগুলোকে সাময়িকভাবে বায়োমাস, বর্জ্যভিত্তিক জ্বালানি এবং কেরোসিন বা কয়লা ব্যবহারের অনুমতি দিতে বলেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আতিথেয়তা ও রেস্তোরাঁ খাতে এক মাসের জন্য বিকল্প জ্বালানিতে রান্নার সুযোগ তৈরি হবে এবং গৃহস্থালি খাতে এলপিজি সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে।

বাণিজ্যিক এলপিজি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ

সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, গড় মাসিক বাণিজ্যিক এলপিজি চাহিদার প্রায় বিশ শতাংশ সরাসরি বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ করা হবে। এই বরাদ্দ রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে কালোবাজারি ও মজুতদারি ঠেকাতে সরবরাহ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আতঙ্কে বুকিং বাড়ায় নতুন নিয়ম

গ্যাসের ঘাটতির আশঙ্কায় অনেক পরিবার দ্রুত সিলিন্ডার বুকিং করতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় গৃহস্থালি সিলিন্ডার বুকিংয়ের ন্যূনতম ব্যবধান বাড়িয়ে পঁয়তাল্লিশ দিন করা হয়েছে। শহরাঞ্চলে এটি পঁচিশ দিন রাখা হয়েছে। আগে এই ব্যবধান ছিল একুশ দিন। সরকার জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে অযথা বুকিং না করার আহ্বান জানিয়েছে।

কেরোসিন ও কয়লার অতিরিক্ত বরাদ্দ

সরকার জানিয়েছে, নিয়মিত ত্রৈমাসিক বরাদ্দের পাশাপাশি রাজ্যগুলোকে অতিরিক্ত বিপুল পরিমাণ কেরোসিন সরবরাহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছোট ও মাঝারি ভোক্তাদের ব্যবহারের জন্য কয়লার সরবরাহ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দেশজুড়ে গৃহস্থালি এলপিজি গ্রাহকের সংখ্যা তেত্রিশ কোটির বেশি। সংকটের মধ্যেও গ্যাস উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে এবং সেই অতিরিক্ত উৎপাদনের বেশিরভাগই গৃহস্থালি চাহিদা মেটাতে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কালোবাজারি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি

সরকারের মতে, বাণিজ্যিক এলপিজি বাজার সাধারণত উন্মুক্ত এবং বাজারদরে বিক্রি হয়। সেখানে কোনো ভর্তুকি, নিবন্ধন বা নির্দিষ্ট বুকিং পদ্ধতি নেই। ফলে সংকটের সময় এই ব্যবস্থায় মজুতদারি ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা বিভিন্ন অঞ্চল ও খাতের প্রকৃত চাহিদা বিশ্লেষণ করে এলপিজি সরবরাহের অগ্রাধিকার ঠিক করছে। লক্ষ্য হলো প্রকৃত ব্যবহারকারীদের কাছে গ্যাস পৌঁছানো এবং কালোবাজারি প্রতিরোধ করা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধের ছায়ায় তাইওয়ান সংকট: চীনের হামলার ঝুঁকি কি বাড়ছে?

গ্যাসের অভাবে ভারতে কয়লা ও কেরোসিনের ব্যবহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

০৫:১২:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব পড়েছে রান্নার গ্যাসের সরবরাহে। এলপিজি সরবরাহে চাপ বাড়তে থাকায় বাণিজ্যিক খাতে কেরোসিন, জ্বালানি তেল, বায়োমাস এবং কয়লার মতো বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর লক্ষ্য মূলত রেস্তোরাঁ, হোটেল ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এলপিজির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে গৃহস্থালি ব্যবহারকারীদের জন্য গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা।

এলপিজি সরবরাহে চাপ, বিকল্প জ্বালানির দিকে নজর

সরকার জানিয়েছে, গ্যাসের ওপর চাপ কমাতে কেরোসিন খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র এবং গণবণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি শিল্প ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের জন্য জ্বালানি তেল দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডগুলোকে সাময়িকভাবে বায়োমাস, বর্জ্যভিত্তিক জ্বালানি এবং কেরোসিন বা কয়লা ব্যবহারের অনুমতি দিতে বলেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আতিথেয়তা ও রেস্তোরাঁ খাতে এক মাসের জন্য বিকল্প জ্বালানিতে রান্নার সুযোগ তৈরি হবে এবং গৃহস্থালি খাতে এলপিজি সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে।

বাণিজ্যিক এলপিজি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ

সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, গড় মাসিক বাণিজ্যিক এলপিজি চাহিদার প্রায় বিশ শতাংশ সরাসরি বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ করা হবে। এই বরাদ্দ রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে কালোবাজারি ও মজুতদারি ঠেকাতে সরবরাহ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আতঙ্কে বুকিং বাড়ায় নতুন নিয়ম

গ্যাসের ঘাটতির আশঙ্কায় অনেক পরিবার দ্রুত সিলিন্ডার বুকিং করতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় গৃহস্থালি সিলিন্ডার বুকিংয়ের ন্যূনতম ব্যবধান বাড়িয়ে পঁয়তাল্লিশ দিন করা হয়েছে। শহরাঞ্চলে এটি পঁচিশ দিন রাখা হয়েছে। আগে এই ব্যবধান ছিল একুশ দিন। সরকার জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে অযথা বুকিং না করার আহ্বান জানিয়েছে।

কেরোসিন ও কয়লার অতিরিক্ত বরাদ্দ

সরকার জানিয়েছে, নিয়মিত ত্রৈমাসিক বরাদ্দের পাশাপাশি রাজ্যগুলোকে অতিরিক্ত বিপুল পরিমাণ কেরোসিন সরবরাহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছোট ও মাঝারি ভোক্তাদের ব্যবহারের জন্য কয়লার সরবরাহ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দেশজুড়ে গৃহস্থালি এলপিজি গ্রাহকের সংখ্যা তেত্রিশ কোটির বেশি। সংকটের মধ্যেও গ্যাস উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে এবং সেই অতিরিক্ত উৎপাদনের বেশিরভাগই গৃহস্থালি চাহিদা মেটাতে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কালোবাজারি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি

সরকারের মতে, বাণিজ্যিক এলপিজি বাজার সাধারণত উন্মুক্ত এবং বাজারদরে বিক্রি হয়। সেখানে কোনো ভর্তুকি, নিবন্ধন বা নির্দিষ্ট বুকিং পদ্ধতি নেই। ফলে সংকটের সময় এই ব্যবস্থায় মজুতদারি ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা বিভিন্ন অঞ্চল ও খাতের প্রকৃত চাহিদা বিশ্লেষণ করে এলপিজি সরবরাহের অগ্রাধিকার ঠিক করছে। লক্ষ্য হলো প্রকৃত ব্যবহারকারীদের কাছে গ্যাস পৌঁছানো এবং কালোবাজারি প্রতিরোধ করা।