০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
খাবারের নিশ্চয়তা থেকে শান্তির রাজনীতি: যুদ্ধের আড়ালে মানুষের আসল প্রয়োজন কক্সবাজারের পাঁচতারা হোটেল থেকে সুপ্রা, সিভিক ও মিয়াটা জব্দ, আমদানির পথ খতিয়ে দেখছে শুল্ক গোয়েন্দা কারাগারে ইমরান খানকে হত্যা করা হচ্ছে—বাবার জীবন নিয়ে চরম শঙ্কায় দুই ছেলে ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল, ইউক্রেনে বড় পদক্ষেপের সুযোগ দেখছে পুতিন: গোয়েন্দা রিপোর্ট বেসরকারি শিক্ষকদের অধিকার ও সুশাসনে নতুন উদ্যোগ, গঠিত হলো শিক্ষক অ্যালায়েন্স ভারতে প্যাকেটজাত খাবারে লাল সতর্কতা লেবেল, জনরোষের পর অবস্থান বদল সরকারের জলাশয়ের নাম বদলে ট্রাম্পের উদ্যোগে ধাক্কা, মার্কিনদের আগ্রহ নেই: সিএনএনের তথ্য বিশ্লেষক পেনসিলভানিয়ায় ভয়াবহ হাম ছড়িয়ে পড়ছে, ঝুঁকিতে টিকাদান-অযোগ্য শিশুরা নেপালে বন্যার দ্বিতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা:আগাম সতর্কতার সীমাবদ্ধতা ইরান ছয় মাস পরও অটুট, যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র

দিল্লিতে গ্যাস সিলিন্ডারের জন্য চলছে অন্যরকম যুদ্ধ , রান্নাঘর বন্ধ অনেকের

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ঘিরে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের জীবনে। ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এলপিজি সিলিন্ডার পেতে গ্যাস এজেন্সিগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, কয়েক দিন ধরে বুকিং করার পরও সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। আবার অনেকে ভবিষ্যতের আশঙ্কায় বাড়তি সিলিন্ডার জোগাড় করতে ছুটছেন এজেন্সিতে।

এজেন্সির সামনে ভিড় ও উদ্বেগ

বৃহস্পতিবার দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস এজেন্সি ও তাদের কার্যালয়ের সামনে মানুষের ভিড় দেখা যায়। কেউ অপেক্ষা করছেন বহু দিন আগে বুকিং করা সিলিন্ডারের জন্য, কেউ আবার পাইপলাইনের গ্যাস থাকা সত্ত্বেও বিকল্প হিসেবে এলপিজি রাখতে চাইছেন।

অনেকের পরিস্থিতি আরও কঠিন। গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় রান্নাঘর বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানান তারা। ফলে সিলিন্ডার পাওয়ার আশায় ভোর থেকেই এজেন্সির সামনে অপেক্ষা করতে দেখা যায় অসংখ্য মানুষকে।

বুকিং করেও মিলছে না সিলিন্ডার

পূর্ব দিল্লির খিচরিপুর এলাকার একটি গ্যাস এজেন্সির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ২৩ বছর বয়সী বিকাশ জানান, তিনি এক সপ্তাহ আগে অনলাইনে সিলিন্ডার বুক করেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী সোমবার বাড়িতে পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু নির্ধারিত দিনে না পাওয়ায় তিনি প্রতিদিন এজেন্সিতে এসে খোঁজ নিচ্ছিলেন। চার দিন পর দীর্ঘ তর্কের পরে অবশেষে একটি সিলিন্ডার পেতে সক্ষম হন।

একই ধরনের অভিযোগ করেন ৩৫ বছর বয়সী সীমা। তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে অনলাইনে বুকিং করার চেষ্টা করেও সফল হননি। ফোনে যোগাযোগের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এজেন্সিতে এসে জানতে পারেন, অনলাইনে বুকিং ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।

Gas finished': South Delhi restaurant shuts amid LPG shortage, owner says  cylinders being sold for ₹5,000 | Trending

সরবরাহ কমার দাবি

এজেন্সির এক কর্মকর্তা জানান, হোলি উৎসবের পর থেকেই প্রতিদিন আসা সিলিন্ডারের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। আগে যেখানে দৈনিক গড়ে প্রায় ৬০০ সিলিন্ডার আসত, এখন তা কমে প্রায় ৩৬০টিতে দাঁড়িয়েছে।

অন্য একজন কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজার বুকিং অপেক্ষমাণ রয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত সিলিন্ডার না থাকায় চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। বুকিংয়ের চাপ বাড়ায় অনলাইন সার্ভারও বারবার অচল হয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

সরকার বলছে সংকট নেই

যদিও দিল্লি সরকার জানিয়েছে, রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় এলপিজি, পেট্রোল, ডিজেল এবং পাইপলাইনের গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো জ্বালানি ঘাটতি নেই বলে আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।

তবে বাস্তবে গ্যাস এজেন্সিগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের উদ্বেগ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। অনেকেই বলছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় তারা আগে থেকেই সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে চাইছেন।

ধনী এলাকায় আতঙ্ক তুলনামূলক কম

দক্ষিণ দিল্লির অপেক্ষাকৃত সচ্ছল এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত। সেখানে বড় ধরনের লাইন দেখা যায়নি।

একটি গ্যাস এজেন্সির মালিক জানান, সাধারণ দিনে যেখানে প্রায় ১১৫টি বুকিং হয়, সেখানে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বুকিং সংখ্যা বেড়ে ৩১৫টিতে পৌঁছে গেছে। তার মতে, প্রকৃত ঘাটতির চেয়ে মানুষের আতঙ্কই বুকিং হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ।

অনিশ্চয়তার ভয়

গ্যাস সংযোগ নবায়নের জন্য লাইনে দাঁড়ানো অনেকেই বলছেন, পাইপলাইনের গ্যাস কখন বন্ধ হয়ে যাবে তা কেউ জানে না। তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তারা এখনই এলপিজি সংযোগ নিতে চাইছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

খাবারের নিশ্চয়তা থেকে শান্তির রাজনীতি: যুদ্ধের আড়ালে মানুষের আসল প্রয়োজন

দিল্লিতে গ্যাস সিলিন্ডারের জন্য চলছে অন্যরকম যুদ্ধ , রান্নাঘর বন্ধ অনেকের

০৫:২৯:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ঘিরে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের জীবনে। ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এলপিজি সিলিন্ডার পেতে গ্যাস এজেন্সিগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, কয়েক দিন ধরে বুকিং করার পরও সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। আবার অনেকে ভবিষ্যতের আশঙ্কায় বাড়তি সিলিন্ডার জোগাড় করতে ছুটছেন এজেন্সিতে।

এজেন্সির সামনে ভিড় ও উদ্বেগ

বৃহস্পতিবার দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস এজেন্সি ও তাদের কার্যালয়ের সামনে মানুষের ভিড় দেখা যায়। কেউ অপেক্ষা করছেন বহু দিন আগে বুকিং করা সিলিন্ডারের জন্য, কেউ আবার পাইপলাইনের গ্যাস থাকা সত্ত্বেও বিকল্প হিসেবে এলপিজি রাখতে চাইছেন।

অনেকের পরিস্থিতি আরও কঠিন। গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় রান্নাঘর বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানান তারা। ফলে সিলিন্ডার পাওয়ার আশায় ভোর থেকেই এজেন্সির সামনে অপেক্ষা করতে দেখা যায় অসংখ্য মানুষকে।

বুকিং করেও মিলছে না সিলিন্ডার

পূর্ব দিল্লির খিচরিপুর এলাকার একটি গ্যাস এজেন্সির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ২৩ বছর বয়সী বিকাশ জানান, তিনি এক সপ্তাহ আগে অনলাইনে সিলিন্ডার বুক করেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী সোমবার বাড়িতে পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু নির্ধারিত দিনে না পাওয়ায় তিনি প্রতিদিন এজেন্সিতে এসে খোঁজ নিচ্ছিলেন। চার দিন পর দীর্ঘ তর্কের পরে অবশেষে একটি সিলিন্ডার পেতে সক্ষম হন।

একই ধরনের অভিযোগ করেন ৩৫ বছর বয়সী সীমা। তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে অনলাইনে বুকিং করার চেষ্টা করেও সফল হননি। ফোনে যোগাযোগের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এজেন্সিতে এসে জানতে পারেন, অনলাইনে বুকিং ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।

Gas finished': South Delhi restaurant shuts amid LPG shortage, owner says  cylinders being sold for ₹5,000 | Trending

সরবরাহ কমার দাবি

এজেন্সির এক কর্মকর্তা জানান, হোলি উৎসবের পর থেকেই প্রতিদিন আসা সিলিন্ডারের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। আগে যেখানে দৈনিক গড়ে প্রায় ৬০০ সিলিন্ডার আসত, এখন তা কমে প্রায় ৩৬০টিতে দাঁড়িয়েছে।

অন্য একজন কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজার বুকিং অপেক্ষমাণ রয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত সিলিন্ডার না থাকায় চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। বুকিংয়ের চাপ বাড়ায় অনলাইন সার্ভারও বারবার অচল হয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

সরকার বলছে সংকট নেই

যদিও দিল্লি সরকার জানিয়েছে, রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় এলপিজি, পেট্রোল, ডিজেল এবং পাইপলাইনের গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো জ্বালানি ঘাটতি নেই বলে আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।

তবে বাস্তবে গ্যাস এজেন্সিগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের উদ্বেগ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। অনেকেই বলছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় তারা আগে থেকেই সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে চাইছেন।

ধনী এলাকায় আতঙ্ক তুলনামূলক কম

দক্ষিণ দিল্লির অপেক্ষাকৃত সচ্ছল এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত। সেখানে বড় ধরনের লাইন দেখা যায়নি।

একটি গ্যাস এজেন্সির মালিক জানান, সাধারণ দিনে যেখানে প্রায় ১১৫টি বুকিং হয়, সেখানে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বুকিং সংখ্যা বেড়ে ৩১৫টিতে পৌঁছে গেছে। তার মতে, প্রকৃত ঘাটতির চেয়ে মানুষের আতঙ্কই বুকিং হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ।

অনিশ্চয়তার ভয়

গ্যাস সংযোগ নবায়নের জন্য লাইনে দাঁড়ানো অনেকেই বলছেন, পাইপলাইনের গ্যাস কখন বন্ধ হয়ে যাবে তা কেউ জানে না। তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তারা এখনই এলপিজি সংযোগ নিতে চাইছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।