পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায়। বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহে ঘাটতির কারণে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ভর্তুকি ক্যান্টিন এবং সরকারি স্কুলের মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক জায়গায় রান্না বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
ক্যান্টিনে গ্যাসের সংকট
কর্নাটকে ভর্তুকি ক্যান্টিনগুলোতে এলপিজি সংকট তীব্র আকার নিয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের জন্য চালু থাকা ইন্দিরা ক্যান্টিনগুলোর কিছু ইউনিট বন্ধ হওয়ার মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। সরবরাহকারীরা দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার কথা জানিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট এলাকার একটি মা ক্যান্টিনের তত্ত্বাবধায়ক জানান, প্রতিদিন অন্তত তিনশ মানুষ এখানে খাবার নিতে আসেন। কিন্তু গ্যাস সিলিন্ডার না থাকায় বৃহস্পতিবার সকালে রান্নাঘর বন্ধ রাখতে হয়েছে।
![]()
স্কুলের মধ্যাহ্নভোজে প্রভাব
গ্যাস সরবরাহে অনিয়মের কারণে স্কুল এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের রান্না কার্যক্রমও বিপাকে পড়েছে। অনেক জেলায় সময়মতো সিলিন্ডার না পৌঁছানোয় খাবার প্রস্তুত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
কিছু স্কুল বাধ্য হয়ে মেনু সহজ করে খিচুড়ির মতো খাবার রান্না করছে। আবার কোথাও কাঠ জ্বালিয়ে মাটির চুলায় রান্না শুরু হয়েছে। একটি স্কুলের শিক্ষক জানান, গ্যাস প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় স্কুল প্রাঙ্গণেই অস্থায়ী চুলা বানিয়ে কাঠ দিয়ে রান্না করা হচ্ছে।
তবে উত্তর প্রদেশের শিক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, তাদের রাজ্যে এখনো বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়নি। সেখানে প্রায় এক কোটি আটচল্লিশ লক্ষ শিক্ষার্থীর জন্য মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচি চালু রয়েছে।
আতঙ্কে বাড়ছে সিলিন্ডার বুকিং
সরকার পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের আশ্বাস দিলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ফলে অনেকেই আগেভাগেই সিলিন্ডার বুকিং করছেন। এতে গ্যাস সংস্থাগুলোর অনলাইন বুকিং ব্যবস্থায় সাময়িক জট তৈরি হয়েছে।

গ্যাস বিক্রয় বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, একটি সিলিন্ডার বুকিংয়ের জন্য হাজারের বেশি মিসড কল আসছে। এত বিপুল কলের চাপের কারণে সার্ভার ধীর হয়ে পড়েছে।
এদিকে অতিরিক্ত মজুত ঠেকাতে কিছু গ্যাস এজেন্সি এক মাসের মধ্যে নতুন বুকিং বন্ধ করে দিয়েছে।
অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান
গ্যাস সংকটের সুযোগে অবৈধ মজুতের ঘটনাও সামনে এসেছে। মধ্যপ্রদেশে বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে শতাধিক অবৈধভাবে জমা রাখা সিলিন্ডার জব্দ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে স্বাভাবিক সরবরাহের মাত্র পনের শতাংশ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, যার বেশির ভাগই জরুরি প্রয়োজনে সংরক্ষিত রাখা হচ্ছে।
বৈদ্যুতিক চুলার চাহিদা বেড়েছে
গ্যাস সংকটের কারণে বৈদ্যুতিক ইন্ডাকশন চুলার চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। দোকানগুলোতে কয়েক দিনের মধ্যেই সব স্টক শেষ হয়ে গেছে। আগে যেখানে দিনে পঞ্চাশটি বিক্রি হতো, এখন সেখানে প্রতিদিন প্রায় এক হাজারের বেশি অর্ডার আসছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত নয় থেকে দশ হাজার টাকার চুলা এখন অনেক জায়গায় দ্বিগুণেরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকরাও গ্যাস না পাওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছেন।
গ্যাস সরবরাহে বিকল্প উৎসের আশ্বাস
ভারতের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটি এলপিজি সরবরাহের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহ করছে। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং ঘরোয়া ব্যবহারে বড় ধরনের সংকট হবে না বলে দাবি করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 
















