উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ড্রোন হামলায় নতুন করে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে। বাহরাইনের মুহাররাকে জ্বালানি ট্যাঙ্কে আঘাতের পর আকাশজুড়ে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। একই সময়ে ড্রোন হামলায় কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দুবাইয়ের শহরাঞ্চলেও ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে।
বাহরাইনের মুহাররাকে জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত
বাহরাইনের মুহাররাক এলাকায় একটি জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাঙ্কে ড্রোন আঘাত হানার পরপরই বড় ধরনের আগুন দেখা যায়। আঘাতের পর আকাশে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে থাকে এবং এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকতে এবং জানালা বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয়। জরুরি সেবা সংস্থাগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। এই হামলাকে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কুয়েত বিমানবন্দরেও ড্রোন হামলা
একই সময়ে ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয় কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সেখানে জ্বালানি সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে আঘাত হানার পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, বিমান চলাচল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাতের মধ্যে এই হামলাকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর সরাসরি চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দুবাইয়ের শহরাঞ্চলেও প্রভাব
ড্রোন হামলার প্রভাব পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতেও। শহরাঞ্চলের কাছাকাছি এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এতে কিছু স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো এবং নগর এলাকাকে লক্ষ্য করে হামলা বাড়তে থাকলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাজারেও এর বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















