মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল শিল্পকে কার্যত অচল করে দিয়েছে। একের পর এক হামলা, রপ্তানি ব্যাহত হওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শেষ হলেও এই তেল প্রবাহ দ্রুত স্বাভাবিক করা সহজ হবে না।
হামলার লক্ষ্য জ্বালানি অবকাঠামো
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর অন্তত তেত্রিশটি হামলা বা হামলার চেষ্টা হয়েছে। এসব হামলার বড় অংশ পড়েছে তেল ও গ্যাস ক্ষেত্র, শোধনাগার ও প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের ওপর।
সৌদি আরবের বিশাল রাস তানুরা শোধনাগার, কাতারের রাস লাফান গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের রুওয়াইস শোধনাগার কমপ্লেক্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও এই আঘাতের মধ্যে পড়েছে। কোথাও সরাসরি ক্ষতি হয়েছে, আবার কোথাও নিরাপত্তার কারণে উৎপাদন কমিয়ে বা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল
বিশ্বের তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সাধারণ সময়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
বর্তমানে সেই প্রবাহ যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় দশ শতাংশেরও নিচে নেমে এসেছে। ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল উৎপাদনও বড় ধাক্কা খেয়েছে।
উৎপাদনে বড় ধস
গত বছর যেখানে উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিদিন প্রায় তিন কোটি ব্যারেল তেল ও তেলজাত পণ্য উৎপাদিত হতো, এখন তা নেমে এসেছে প্রায় দুই কোটিতে। অর্থাৎ স্বল্প সময়েই উৎপাদনে ব্যাপক পতন ঘটেছে।
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত কিছু তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে অন্য পথে পাঠাতে পারলেও সেই সক্ষমতা সীমিত। ফলে উৎপাদিত তেল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
ভরে যাচ্ছে সংরক্ষণাগার
জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সংরক্ষণাগারের জায়গা। রপ্তানি কমে যাওয়ায় তেল জমতে জমতে অনেক সংরক্ষণাগার প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে।
পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে নতুন তেল উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগও কমে যাচ্ছে। জাহাজের ঘাটতি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সরবরাহ চক্র ভেঙে পড়েছে।
যুদ্ধ শেষে দ্রুত স্বাভাবিক হওয়া কঠিন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ শেষ হলেও তেল শিল্প দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসবে না। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত, সরবরাহ ব্যবস্থার পুনর্গঠন এবং পরিবহন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সময় লাগবে।
ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দীর্ঘ সময় ধরে অস্থিরতা থাকার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকেরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 
















