০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
হরমুজ বন্ধে জাপানে আসছে রাশিয়ার তেলের ট্যাংকার পুলিশ নেতৃত্বে বড় রদবদল, ১৬ ডিআইজি সহ ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে ৮ মাস পরে এপ্রিলে রফতানি কিছুটা বাড়লো ২৯ হাজার ফুটে বই পড়া—একজন নারী পাইলটের সহজ-সরল দিনের গল্প খিলক্ষেতে ফ্ল্যাটে একা থাকা বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার আসামি কি যুবদল নেতা? সবুজ নীতির নামে কাদের ওপর চাপ? নান্দাইলে পানির নীচে বোরো, কৃষকের চোখের পানি শুকিয়ে গেছে ১৭৭ দিন মৃত্যুফাঁদে বন্দি: স্ত্রীর কণ্ঠই ছিল ইউক্রেনীয় সৈনিকের বেঁচে থাকার ভরসা ভোটাধিকার আইন: সুরক্ষার সীমা কোথায়, সমতার প্রশ্ন কোথায়

পাকিস্তানের বস্ত্র রপ্তানিতে ধাক্কা, ফেব্রুয়ারিতে কমে ১.৩ বিলিয়ন ডলার

পাকিস্তানের বস্ত্র খাত বড় ধাক্কা খেয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশটির বস্ত্র রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৩ বিলিয়ন ডলারে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭.২ শতাংশ কম। একই সঙ্গে জানুয়ারির তুলনায় রপ্তানি কমেছে প্রায় ২৪.৬ শতাংশ। একাধিক প্রধান পণ্যের রপ্তানি কমে যাওয়ায় এই পতন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

প্রধান বস্ত্রপণ্যের রপ্তানিতে বড় পতন

ফেব্রুয়ারিতে নিট পোশাক রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১২.৫ মিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪.৫ শতাংশ কম। একই সময়ে বিছানার চাদরজাত পণ্যের রপ্তানি ১১.৫ শতাংশ কমে ২২০.৯ মিলিয়ন ডলার হয়েছে।

তোয়ালে রপ্তানি কমেছে ১৬.৩৭ শতাংশ এবং তুলার কাপড় রপ্তানি কমেছে ১০.৯ শতাংশ। তৈরি পোশাকের রপ্তানিও সামান্য কমে প্রায় ৩২৭.৩ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে তুলার সুতা রপ্তানিতে ব্যতিক্রমী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যা ৪৩.৬ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৭৩.৮৪ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

Pakistan's textile exports jump 25pc to $14.3bn - Profit by Pakistan Today

 

খাদ্য খাতেও রপ্তানি সংকোচন

পাকিস্তানের খাদ্যপণ্য রপ্তানিও ফেব্রুয়ারিতে বড় ধাক্কা খেয়েছে। মোট খাদ্য রপ্তানি কমে প্রায় ৪০৫.৯ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৭.৫ শতাংশ কম।

বিশেষ করে চাল রপ্তানিতে বড় পতন দেখা গেছে। মোট চাল রপ্তানি কমে ১৮৬.৭ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এর মধ্যে বাসমতি চালের রপ্তানি কমেছে ১৯.২ শতাংশ এবং অন্যান্য চালের রপ্তানি কমেছে প্রায় ৪২.৫ শতাংশ।

সবজি রপ্তানিতে সবচেয়ে বড় ধস নেমেছে, যা কমে প্রায় ১৫.১৫ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে ফল রপ্তানি সামান্য বেড়ে ২৬.৯ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে তেলবীজ ও বাদামজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৪০.৭ শতাংশ। মাংস রপ্তানি বেড়েছে ২২.১ শতাংশ এবং মাছ ও মাছজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১২.৯ শতাংশ।

খেলাধুলার পণ্য ও অন্যান্য খাতে মিশ্র চিত্র

খেলাধুলার পণ্যের রপ্তানি ৬.৬ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৩৩.২৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ফুটবল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার হয়েছে।

অন্যদিকে অস্ত্রোপচার সরঞ্জাম রপ্তানি কমে ৩৪ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সিমেন্ট রপ্তানিতে আবার ১১.২ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে।

আমদানি খাতে ভিন্ন প্রবণতা

ফেব্রুয়ারিতে জ্বালানি খাতের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মোট জ্বালানি আমদানি কমে প্রায় ৯৮২.৮ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে পেট্রোলিয়াম পণ্যের আমদানি কমেছে প্রায় ৩৯.৩ শতাংশ এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি কমেছে ২৫.২৫ শতাংশ।

তবে যন্ত্রপাতি খাতের আমদানি কিছুটা বেড়েছে। নির্মাণ ও খনন যন্ত্রপাতি, বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্রপাতি এবং টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতির আমদানি বেড়েছে। মোবাইল ফোন আমদানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

Statistics - Business & Finance - Business Recorder

পরিবহন ও খাদ্য আমদানিতে বৃদ্ধি

পরিবহন খাতের আমদানি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। মোট পরিবহন আমদানি প্রায় ৪৮.৮ শতাংশ বেড়ে ২৯৯ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে গাড়ির সম্পূর্ণ ইউনিট ও যন্ত্রাংশ আমদানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

খাদ্যপণ্যের আমদানিও বেড়েছে প্রায় ১৩.৬ শতাংশ। বিশেষ করে পাম তেল ও চা আমদানিতে বড় বৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে ডাল ও মসলার আমদানি কমেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ বন্ধে জাপানে আসছে রাশিয়ার তেলের ট্যাংকার

পাকিস্তানের বস্ত্র রপ্তানিতে ধাক্কা, ফেব্রুয়ারিতে কমে ১.৩ বিলিয়ন ডলার

১২:৪১:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

পাকিস্তানের বস্ত্র খাত বড় ধাক্কা খেয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশটির বস্ত্র রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৩ বিলিয়ন ডলারে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭.২ শতাংশ কম। একই সঙ্গে জানুয়ারির তুলনায় রপ্তানি কমেছে প্রায় ২৪.৬ শতাংশ। একাধিক প্রধান পণ্যের রপ্তানি কমে যাওয়ায় এই পতন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

প্রধান বস্ত্রপণ্যের রপ্তানিতে বড় পতন

ফেব্রুয়ারিতে নিট পোশাক রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১২.৫ মিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪.৫ শতাংশ কম। একই সময়ে বিছানার চাদরজাত পণ্যের রপ্তানি ১১.৫ শতাংশ কমে ২২০.৯ মিলিয়ন ডলার হয়েছে।

তোয়ালে রপ্তানি কমেছে ১৬.৩৭ শতাংশ এবং তুলার কাপড় রপ্তানি কমেছে ১০.৯ শতাংশ। তৈরি পোশাকের রপ্তানিও সামান্য কমে প্রায় ৩২৭.৩ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে তুলার সুতা রপ্তানিতে ব্যতিক্রমী প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যা ৪৩.৬ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৭৩.৮৪ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

Pakistan's textile exports jump 25pc to $14.3bn - Profit by Pakistan Today

 

খাদ্য খাতেও রপ্তানি সংকোচন

পাকিস্তানের খাদ্যপণ্য রপ্তানিও ফেব্রুয়ারিতে বড় ধাক্কা খেয়েছে। মোট খাদ্য রপ্তানি কমে প্রায় ৪০৫.৯ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৭.৫ শতাংশ কম।

বিশেষ করে চাল রপ্তানিতে বড় পতন দেখা গেছে। মোট চাল রপ্তানি কমে ১৮৬.৭ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এর মধ্যে বাসমতি চালের রপ্তানি কমেছে ১৯.২ শতাংশ এবং অন্যান্য চালের রপ্তানি কমেছে প্রায় ৪২.৫ শতাংশ।

সবজি রপ্তানিতে সবচেয়ে বড় ধস নেমেছে, যা কমে প্রায় ১৫.১৫ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে ফল রপ্তানি সামান্য বেড়ে ২৬.৯ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে তেলবীজ ও বাদামজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৪০.৭ শতাংশ। মাংস রপ্তানি বেড়েছে ২২.১ শতাংশ এবং মাছ ও মাছজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১২.৯ শতাংশ।

খেলাধুলার পণ্য ও অন্যান্য খাতে মিশ্র চিত্র

খেলাধুলার পণ্যের রপ্তানি ৬.৬ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৩৩.২৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ফুটবল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার হয়েছে।

অন্যদিকে অস্ত্রোপচার সরঞ্জাম রপ্তানি কমে ৩৪ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সিমেন্ট রপ্তানিতে আবার ১১.২ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে।

আমদানি খাতে ভিন্ন প্রবণতা

ফেব্রুয়ারিতে জ্বালানি খাতের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মোট জ্বালানি আমদানি কমে প্রায় ৯৮২.৮ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে পেট্রোলিয়াম পণ্যের আমদানি কমেছে প্রায় ৩৯.৩ শতাংশ এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি কমেছে ২৫.২৫ শতাংশ।

তবে যন্ত্রপাতি খাতের আমদানি কিছুটা বেড়েছে। নির্মাণ ও খনন যন্ত্রপাতি, বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্রপাতি এবং টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতির আমদানি বেড়েছে। মোবাইল ফোন আমদানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

Statistics - Business & Finance - Business Recorder

পরিবহন ও খাদ্য আমদানিতে বৃদ্ধি

পরিবহন খাতের আমদানি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। মোট পরিবহন আমদানি প্রায় ৪৮.৮ শতাংশ বেড়ে ২৯৯ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে গাড়ির সম্পূর্ণ ইউনিট ও যন্ত্রাংশ আমদানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

খাদ্যপণ্যের আমদানিও বেড়েছে প্রায় ১৩.৬ শতাংশ। বিশেষ করে পাম তেল ও চা আমদানিতে বড় বৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে ডাল ও মসলার আমদানি কমেছে।