মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব এখন শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই, তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী হয়ে উঠছে মার্কিন ডলার। অথচ এই পরিস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকেই বিপাকে ফেলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ বিক্রি করে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন। সেই সুযোগেই বাড়তে থাকে ডলারের চাহিদা, কারণ আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয় ডলারে।
তেলের দামের উল্লম্ফন
উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধাক্কা লাগে। বিশ্ববাজারে মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে এক তৃতীয়াংশের বেশি বেড়ে প্রায় প্রতি ব্যারেল একশ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তেল আমদানির জন্য বিশ্বজুড়ে বেশি ডলারের প্রয়োজন পড়ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে ডলারের মূল্যও বেড়েছে। প্রধান প্রধান মুদ্রার সঙ্গে তুলনায় ডলার সূচক অনুযায়ী সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ডলারের মূল্য প্রায় আড়াই শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কেন ডলারকে নিরাপদ বিনিয়োগ ধরা হয়
বিশ্ব অর্থনীতিতে ডলারকে সবচেয়ে তরল মুদ্রা হিসেবে ধরা হয়। সহজে পাওয়া যায় এবং দ্রুত লেনদেন করা যায় বলেই সংকটের সময় বিনিয়োগকারীরা ডলারের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও ডলারের ব্যবহার বেশি। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ হিসেবেও ডলার ধরে রাখে। এই কারণেও বৈশ্বিক অস্থিরতার সময় ডলারের চাহিদা দ্রুত বাড়ে।
তেলের দাম বাড়লে ডলারের লাভ
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিও কিছুটা সুবিধা পায়। কারণ দেশটি পরিশোধিত জ্বালানি ও গ্যাসের বড় রপ্তানিকারক। এতে তাদের বাণিজ্য ভারসাম্য শক্তিশালী হয়, যা ডলারের মূল্যকে আরও সমর্থন দেয়।
এছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেলে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকিও বাড়ে। ফলে সুদের হার দ্রুত কমানোর পরিকল্পনা ধীর হতে পারে, এমনকি স্বল্পমেয়াদে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার সম্ভাবনা ডলারকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

দীর্ঘ যুদ্ধ ডলারের জন্য ঝুঁকিও হতে পারে
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে ডলারের চাহিদা শক্ত অবস্থানে থাকলেও সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি ইতোমধ্যে বড় আকার ধারণ করেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সামরিক ব্যয় বাড়লে সেই ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।
তবে অনেক বিশ্লেষকের মতে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জন্য স্বল্পমেয়াদে মুদ্রাবাজারের প্রভাবের চেয়ে বড় অগ্রাধিকার হচ্ছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য সামরিক হুমকি মোকাবিলা করা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 
















