যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ ঘিরে বাংলাদেশসহ একাধিক দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। নতুন এই পদক্ষেপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য নতুন শুল্ক নীতির প্রেক্ষাপটেও বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
ওয়াশিংটন থেকে জানানো হয়েছে, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে কি না—তা যাচাই করতেই এই তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্তে দেখা হবে, এসব দেশের নীতি ও কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যকে অযৌক্তিকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে কি না।
জোরপূর্বক শ্রম নিয়ে উদ্বেগ
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে ঐকমত্য থাকলেও অনেক সরকার এখনো এমন পণ্য নিজেদের বাজারে ঢুকতে বাধা দিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এর ফলে মার্কিন শ্রমিক ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন বিদেশি উৎপাদকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে, যারা জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের মাধ্যমে কম খরচে উৎপাদনের সুবিধা পাচ্ছে।
তিনি বলেন, চলমান তদন্তের মাধ্যমে বোঝা যাবে বিদেশি সরকারগুলো জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি বন্ধে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে কি না এবং এসব ব্যর্থতা মার্কিন ব্যবসা ও শ্রমিকদের ওপর কী প্রভাব ফেলছে।

যেসব দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত
তদন্তের আওতায় থাকা অর্থনীতিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশসহ যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, সৌদি আরব, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম রয়েছে। এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার হিসেবেও পরিচিত।
এই তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শুনানি ও মতামত গ্রহণ
এই তদন্ত ঘিরে আগামী ২৮ এপ্রিল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে লিখিত মতামত ও শুনানিতে অংশ নেওয়ার আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। মতামতের সঙ্গে সম্ভাব্য বক্তব্যের সংক্ষিপ্তসারও জমা দিতে হবে।
মার্কিন আইনের ধারা অনুযায়ী তদন্ত
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আইনের ১৯৭৪ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারার অধীনে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে এমন বিদেশি নীতি বা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যকে অযৌক্তিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
এই ধারার অধীনে তদন্তে মূলত যাচাই করা হয়, কোনো দেশের নীতি বা পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের ওপর বৈষম্যমূলক বা অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করছে কি না। সংশ্লিষ্ট আন্তঃসংস্থার পরামর্শ ও বিশেষজ্ঞ মতামত বিবেচনা করেই তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বাণিজ্যে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, এই তদন্তের ফলাফল ভবিষ্যতে নতুন শুল্ক আরোপ বা বাণিজ্যিক চাপ তৈরির পথ খুলে দিতে পারে। ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্পর্কের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। বাংলাদেশের মতো রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য বিষয়টি তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 
















