মধ্যপ্রাচ্যের জলপথে নতুন হামলার আশঙ্কা এবং তেলের দাম দ্রুত বাড়ার প্রভাবে আবারও চাপে পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজার ও মুদ্রা। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় একশ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুদ্রাস্ফীতির ভয় আরও তীব্র হয়েছে। এর ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মার্কিন ডলারের দিকে ঝুঁকছেন অনেক বিনিয়োগকারী।
শুক্রবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো এশিয়ার বেশিরভাগ শেয়ারবাজার ও মুদ্রা নিম্নমুখী অবস্থানে ছিল। যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
উদীয়মান বাজারে বড় পতন
উদীয়মান অর্থনীতির শেয়ারবাজারের সূচক শুক্রবার প্রায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই সূচক প্রায় ৮ শতাংশ কমে গেছে। একই সময়ে উদীয়মান বাজারের মুদ্রার সূচকও প্রায় শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে এবং সামগ্রিকভাবে প্রায় ২ শতাংশ পতন হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন ডলারের সূচক নভেম্বরের শেষ সময়ের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। নিরাপদ মুদ্রা হিসেবে ডলারের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বড় জ্বালানি রপ্তানিকারক হওয়ায়ও এই শক্তি বেড়েছে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক পঞ্চমাংশ যে জলপথ দিয়ে যায়, সেই হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ রাখার হুমকি দিয়েছেন।

অন্যদিকে সরবরাহ সংকট কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ছায়া নৌবহরের ট্যাঙ্কারে আটকে থাকা রুশ তেলের ওপর ত্রিশ দিনের সাময়িক ছাড় দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তবুও যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
বিমান সংস্থাগুলোর জ্বালানি ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা, ফ্লাইট বিঘ্ন, জ্বালানির বিল বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের সমস্যায় পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দুটিই চাপের মুখে পড়ছে।
ইন্দোনেশিয়ার বাজারে বড় ধাক্কা
এশিয়ার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার শেয়ারবাজার সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে। শুক্রবার দেশটির শেয়ার সূচক ২ শতাংশের বেশি কমেছে, যা টানা তৃতীয় দিনের পতন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশটির বাজারে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৬ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা এই অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন সংস্থাগুলো সম্প্রতি দেশটির অর্থনৈতিক নীতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস নেতিবাচক করেছে। যদিও নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণার পর কিছুটা উদ্বেগ কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে এশিয়ার অর্থনীতি এবং বাজারে চাপ আরও বাড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 
















