মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের অভিযোগের জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তেহরান দাবি করেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী আমিরাতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের খার্গ দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। তবে আমিরাত এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ইরানের এমন বক্তব্য বিভ্রান্তিকর এবং এতে কোনো দূরদর্শিতা নেই।
খার্গ দ্বীপ ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র। দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল এই দ্বীপের টার্মিনালের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হয়। ফলে সেখানে হামলার ঘটনা নিয়ে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়ছে।

উত্তেজনার পটভূমি
ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র আমিরাতের কিছু বন্দর ও স্থাপনা ব্যবহার করে খার্গ দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। তেহরান এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ না দিলেও আমিরাতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের আশপাশের এলাকা খালি করার সতর্কতাও জারি করেছিল।
এই অভিযোগের পরই আমিরাত সরকার স্পষ্টভাবে জানায়, তাদের ভূখণ্ড কোনো হামলার জন্য ব্যবহার করা হয়নি। একই সঙ্গে তারা ইরানের বক্তব্যকে দায়িত্বহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করে।
আমিরাতের কড়া জবাব
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় বলেন, ইরানের এই অভিযোগ একটি বিভ্রান্ত নীতির প্রতিফলন, যেখানে যুক্তির চেয়ে অভিযোগকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমিরাত নিজের নিরাপত্তা রক্ষার অধিকার রাখে। তবে দেশটি এখনো যুক্তি, সংযম এবং বাস্তবতার পথেই এগোতে চায়। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা কমাতে সংলাপ ও সমঝোতাই হওয়া উচিত প্রধান পথ।

আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ছে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে। খার্গ দ্বীপে হামলা এবং তার জেরে পাল্টা হুমকি অঞ্চলটির তেল সরবরাহ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পারস্য উপসাগর ঘিরে এই উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















