আবুধাবি: প্রতিরক্ষা ও সামরিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে বিভিন্ন দেশের ২৫ জনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল ড. হামাদ সাইফ আল শামসি।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের ঘটনাকে প্রশংসা করার অভিযোগে তাদের দ্রুত বিচারের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নজরদারি জোরদার
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনলাইনে ভুয়া তথ্য ও কৃত্রিমভাবে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার প্রচেষ্টা ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছিল। সেই নজরদারির ফলেই এই অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়।
তদন্ত ও ইলেকট্রনিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অভিযুক্তরা তিনটি আলাদা দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ বাস্তব ভিডিও ব্যবহার করেছে, কেউ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও তৈরি করেছে, আবার কেউ একটি শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপকে প্রশংসা করে প্রচারণা চালিয়েছে।

প্রথম দলের কার্যক্রম
প্রথম দলের সদস্যরা বাস্তব ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ ও প্রচার করেছে। এসব ভিডিওতে দেশের আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও তা প্রতিহত করার দৃশ্য বা তার প্রভাবের চিত্র দেখা যায়।
তারা এসব ঘটনার সময় মানুষের জড়ো হওয়ার দৃশ্য ধারণ করে তাতে মন্তব্য ও শব্দপ্রভাব যোগ করেছে, যা দেখে মনে হতে পারে যে দেশে সক্রিয় হামলা চলছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হতে পারে।
কর্তৃপক্ষের মতে, এ ধরনের ভিডিও দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সম্পর্কে তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি তৈরি করে এবং শত্রুপক্ষকে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাতে সুযোগ দেয়।
দ্বিতীয় দলের কার্যক্রম
দ্বিতীয় দল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করেছে। এছাড়া দেশের বাইরে ঘটে যাওয়া ঘটনার ভিডিও নতুন করে ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছে যে সেগুলো আমিরাতের ভেতরে ঘটেছে।
এই ভিডিওগুলোর মধ্যে বিস্ফোরণ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কৃত্রিম দৃশ্য যোগ করা হয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে ভিডিওতে জাতীয় পতাকা বা নির্দিষ্ট তারিখ দেখিয়ে সেটিকে সত্য বলে বিশ্বাসযোগ্য করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তৃতীয় দলের কার্যক্রম
তৃতীয় দলের সদস্যরা একটি শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র ও তার রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের প্রশংসা করে কনটেন্ট প্রকাশ করেছে।
তারা ওই রাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডকে আঞ্চলিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে প্রচারণা চালিয়েছে এবং তাদের নেতাদের প্রশংসা করে বিভিন্ন প্রচারমূলক কনটেন্ট পুনরায় ছড়িয়ে দিয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, এসব কার্যক্রম শত্রুপক্ষের প্রচারণাকে শক্তিশালী করে এবং দেশের স্বার্থের ক্ষতি করে।

আইনি ব্যবস্থা ও সতর্কবার্তা
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পাবলিক প্রসিকিউশন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আটক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব কর্মকাণ্ড জনমতকে বিভ্রান্ত করে এবং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সাইবার জগৎ ব্যবহার করে এমন কোনো ভিডিও বা তথ্য ছড়ানো যা জননিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করে বা দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল করে—তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
বিশেষ করে বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন দেশ সামরিক আগ্রাসনের মুখোমুখি, তখন এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।
অবশেষে তিনি বলেন, তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে নির্ধারিত শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। কারণ দেশের নিরাপত্তা ও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা না করে মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত তথ্য ছড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















