মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে পড়েছে প্রবাসী শ্রমিকরা। ইরান ও তার প্রতিপক্ষদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ফলে বহু বিদেশি শ্রমিক এমন সব এলাকায় কাজ করছেন যেখানে প্রতিদিনই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা রয়েছে। তবুও তাদের অনেকেই দেশ ছাড়তে পারছেন না, কারণ পরিবারের জীবিকা পুরোপুরি তাদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল।

সংঘাতের মাঝখানে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে লাখ লাখ প্রবাসী শ্রমিক কাজ করেন। বিশেষ করে নির্মাণ, সেবা, পরিবহন ও গৃহকর্মের মতো খাতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার কারণে তাদের জীবন হঠাৎ করেই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে।
অনেক শ্রমিকের বাসস্থান বা কর্মস্থলের কাছাকাছি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা শোনা যাচ্ছে। ফলে তারা প্রায়ই আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক জীবনযাপন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ফিরে যেতে পারছেন না অনেকেই
যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলেও বেশিরভাগ শ্রমিকের জন্য নিজ দেশে ফিরে যাওয়া সহজ নয়। বিমান ভাড়া বেড়ে যাওয়া, সীমিত ফ্লাইট এবং কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কা তাদের সিদ্ধান্তকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
এর পাশাপাশি অনেকের পরিবার নিজ দেশে তাদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও অনেক শ্রমিক বাধ্য হয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কারণ তারা দেশে ফিরে গেলে পরিবারের আর্থিক সংকট আরও বাড়বে।
মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা
এই সংকট শুধু শারীরিক নিরাপত্তার প্রশ্নই নয়, মানসিক চাপও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিদিন হামলার সতর্কতা, অনিশ্চয়তা এবং পরিবার থেকে দূরে থাকার কষ্ট অনেক শ্রমিককে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
কিছু শ্রমিক জানিয়েছেন, মাঝরাতে সাইরেন বাজলে তারা দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হন। আবার অনেকে কর্মস্থল বা বাসা থেকে খুব কমই বের হচ্ছেন। এই পরিস্থিতি তাদের দৈনন্দিন জীবনে ভয় ও অনিশ্চয়তার ছাপ ফেলেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী শ্রমিকদের বড় উপস্থিতি
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কোটি কোটি বিদেশি শ্রমিক কাজ করেন। এর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমিকরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর নিজ দেশের লাখো পরিবার নির্ভরশীল।
ফলে এই যুদ্ধ পরিস্থিতি শুধু শ্রমিকদের নিরাপত্তা নয়, তাদের পরিবারের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গেও সরাসরি জড়িত।
ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘ হলে প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে। কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা—সব ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তবুও বাস্তবতা হলো, বহু শ্রমিকের কাছে বিদেশে কাজ চালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। পরিবারকে বাঁচাতে তারা ঝুঁকি নিয়েই বিদেশে থেকে যাচ্ছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















