মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে সামরিক অভিযান শুরু করেছে, তার স্পষ্ট কোনো লক্ষ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকেরা। এতে করে যুদ্ধের উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজের বিশ্লেষক ফিলিস বেনিস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তার মতে, এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য কী—সেটি এখনও পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেনি ওয়াশিংটন।
যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
ফিলিস বেনিসের মতে, হোয়াইট হাউস থেকে আসা বার্তাগুলোও পরস্পরবিরোধী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার সহকারীদের বক্তব্যে যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে একাধিক ভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় সাত বা আট ধরনের ব্যাখ্যা শোনা যাচ্ছে—কেউ বলছেন যুদ্ধের উদ্দেশ্য একরকম, আবার কেউ বলছেন অন্য কিছু। ফলে আসলে তারা কী অর্জন করতে চাইছে, তা স্পষ্ট নয়।

ট্রাম্পের বিজয় ঘোষণার বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন
ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন যে ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে এবং যুদ্ধ প্রায় শেষের পথে। তবে বেনিসের মতে, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা সেই দাবি সমর্থন করে না।
তিনি বলেন, ট্রাম্প একদিকে বলছেন ইরানকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে এবং যুদ্ধ শেষ। আবার একইসঙ্গে বলছেন হয়তো আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এর অর্থ কী—তা পরিষ্কার নয় এবং এতে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত কেবল ইরানের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র দেশগুলোকে ওই অঞ্চলে নৌবাহিনী মোতায়েনের জন্যও চাপ দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
বেনিস সতর্ক করে বলেন, দুই পক্ষই এখন এই সংঘাতকে আন্তর্জাতিক রূপ দিচ্ছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং ভবিষ্যতের জন্য তা ভালো কোনো ইঙ্গিত বহন করে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















