মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত নতুন মোড় নিতে পারে। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল মান্দেব প্রণালী অবরোধ করতে পারে। এমন পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
বিশ্বের প্রায় ১০ শতাংশ সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এই পথ বন্ধ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হুথিদের নৌ অবরোধের হুমকি
ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল অভিযানের জবাবে তারা সরাসরি পদক্ষেপ নিতে পারে। তার ভাষায়, যদি হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে প্রথম পদক্ষেপ হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলগামী জাহাজের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা।
এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রগামী বা ইসরায়েল-সংযুক্ত বাণিজ্যিক জাহাজ, এমনকি যুদ্ধজাহাজও আটকে দেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে
এদিকে সংঘাতের ১৬তম দিনে এসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরান দাবি করেছে, তারা ইরাক, বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস জানিয়েছে, তাদের ড্রোনগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সেনাদের অবস্থান শনাক্ত করছে। গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর সেসব স্থানে নির্ভুলভাবে হামলা চালানো হবে।
ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আতঙ্ক
ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। কয়েকটি এলাকায় জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে। আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস।

উপসাগরীয় অঞ্চলেও হামলা প্রতিহত
দুবাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেরিনা ও আল সুফুহ এলাকায় অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, রাতের মধ্যে রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলের আকাশে অন্তত ৩০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
মার্কিন হামলা ও ট্রাম্পের মন্তব্য
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বি–৫২ বোমারু বিমান ইরানের বিরুদ্ধে রাতের অভিযানে অংশ নিয়েছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড বলেছে, তাদের হামলা এখনো অনিশ্চিত, দ্রুতগতির এবং কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি থাকা মিত্র দেশগুলোর ওপর ইরানের পাল্টা হামলা তার কাছে বড় ধরনের বিস্ময় ছিল।
তিনি আরও দাবি করেছেন, ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রয়োজনে সেখানে আবারও হামলা চালানো হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন বিতর্ক
ট্রাম্প চীন, জাপানসহ যেসব দেশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল আমদানি করে তাদের নৌবাহিনী পাঠিয়ে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী এখনো খোলা রয়েছে এবং তা নিরাপদ। কিন্তু সেই পথ কেবল বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর জন্য নিরাপদ থাকবে বলে তারা ইঙ্গিত দিয়েছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্কবার্তা
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যেসব প্রতিবেশী দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তাদের উচিত বিদেশি বাহিনী সরিয়ে দেওয়া।
তার মতে, বিদেশি সেনাদের উপস্থিতি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বদলে বরং নতুন সংকটের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















