০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
ব্রেক্সিটের পর ইংল্যান্ডের কৃষিনীতি: অন্য দেশের জন্য নতুন দৃষ্টান্ত তাডোবায় ডোরাকাটা রোমাঞ্চ জিপ সাফারির বাইরে বনভ্রমণের নতুন ধারা, প্রকৃতিকে বুঝেই আবিষ্কার করছেন পর্যটকরা ফোনমুক্ত শৈশবের পথে এক শহরের লড়াই: শিশুদের মানসিক সুস্থতায় আয়ারল্যান্ডের অনন্য উদ্যোগ টমি শেলবির শেষ লড়াই—‘পিকি ব্লাইন্ডার্স: দ্য ইমমর্টাল ম্যান’-এ বিদায়ের গল্প জেমস বন্ডের শেষ গল্পসংগ্রহ: অক্টোপাসি ও দ্য লিভিং ডেলাইটসের অন্তর্গত রহস্য হরমুজ প্রণালী খুলতে সামরিক অভিযান কতটা কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ পাম তেল শ্রমিকদের জীবন ধ্বংস করছে বিপজ্জনক কীটনাশক বৃষ্টিতে ভেসে উঠল হারানো নাম্বার প্লেট, আমিরাতে আবারও ২০২৪ সালের স্মৃতি ডাটা সেন্টার ঘিরে বাড়ছে বাধা, থমকে যেতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়

ইরান–উপসাগর সম্পর্ক নতুন পর্যালোচনার দাবি, সৌদি তেল স্থাপনায় হামলার দায় অস্বীকার তেহরানের

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলার সঙ্গে নিজেদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে তেহরান। ইরানের সৌদি আরবস্থ রাষ্ট্রদূত আলিরেজা এনায়াতি বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করা জরুরি।

যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার আহ্বান

ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা এনায়াতি বলেন, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক বাস্তবতাকে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। তাঁর মতে, এই অঞ্চলের দেশগুলো পরস্পরের প্রতিবেশী এবং একে অপরকে ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

তিনি মনে করেন, গত কয়েক দশকে এই অঞ্চলের অস্থিরতার অন্যতম কারণ ছিল বাইরের শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ঘাটতি। তাই উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি ইরাক ও ইরানের মধ্যেও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

Iran wants 'serious review' of Arab Gulf ties, denies role in Saudi oil  attacks | The Times of Israel

ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তেজনা

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সংখ্যা দুই হাজারের বেশি ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে কূটনৈতিক মিশন, সামরিক ঘাঁটি, তেল স্থাপনা, বন্দর, বিমানবন্দর, হোটেল এবং আবাসিক ভবন।

বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত এসব হামলার বড় অংশের মুখোমুখি হয়েছে। তবে উপসাগরীয় সব দেশই কোনো না কোনোভাবে এই হামলার প্রভাব অনুভব করেছে এবং তারা ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে।

সৌদি তেল স্থাপনায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার

সৌদি আরবের তেল খাতের বিভিন্ন স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় ইরানের জড়িত থাকার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন রাষ্ট্রদূত এনায়াতি। তিনি বলেন, এসব হামলার জন্য ইরান দায়ী নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যদি ইরান এ ধরনের হামলা পরিচালনা করত, তাহলে সেটি গোপন রাখা হতো না।

তিনি আরও জানান, ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তু মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো, সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো নয়।

Exclusive: Iran wants 'serious review' of Gulf ties, denies role in Saudi  oil attacks | Reuters

সৌদি–ইরান সম্পর্ক স্বাভাবিক ধারায়

রাষ্ট্রদূত এনায়াতি দাবি করেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেও সৌদি আরবের সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক স্বাভাবিক গতিতেই এগোচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মীয় সফরে সৌদি আরবে থাকা ইরানিদের দেশে ফেরত পাঠানো এবং অসুস্থদের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে সৌদি কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করেছে। এছাড়া সৌদি আরবের ঘোষিত অবস্থান—তাদের ভূমি, আকাশ ও সমুদ্রপথ ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হবে না—এই বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।

যুদ্ধ বন্ধেই স্থিতিশীলতার পথ

এনায়াতি বলেন, বর্তমান যুদ্ধ এই অঞ্চলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, সংঘাতের সমাধান চাইলে প্রথমেই হামলা বন্ধ করতে হবে এবং আঞ্চলিক দেশগুলোকে এই সংঘাতে জড়ানো যাবে না।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন নিশ্চয়তা দরকার যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের যুদ্ধ আর শুরু না হয়। তখনই উপসাগরীয় অঞ্চল সত্যিকারের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগোতে পারবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রেক্সিটের পর ইংল্যান্ডের কৃষিনীতি: অন্য দেশের জন্য নতুন দৃষ্টান্ত

ইরান–উপসাগর সম্পর্ক নতুন পর্যালোচনার দাবি, সৌদি তেল স্থাপনায় হামলার দায় অস্বীকার তেহরানের

০১:০৩:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলার সঙ্গে নিজেদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে তেহরান। ইরানের সৌদি আরবস্থ রাষ্ট্রদূত আলিরেজা এনায়াতি বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করা জরুরি।

যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার আহ্বান

ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা এনায়াতি বলেন, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক বাস্তবতাকে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। তাঁর মতে, এই অঞ্চলের দেশগুলো পরস্পরের প্রতিবেশী এবং একে অপরকে ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

তিনি মনে করেন, গত কয়েক দশকে এই অঞ্চলের অস্থিরতার অন্যতম কারণ ছিল বাইরের শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ঘাটতি। তাই উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি ইরাক ও ইরানের মধ্যেও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

Iran wants 'serious review' of Arab Gulf ties, denies role in Saudi oil  attacks | The Times of Israel

ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তেজনা

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সংখ্যা দুই হাজারের বেশি ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে কূটনৈতিক মিশন, সামরিক ঘাঁটি, তেল স্থাপনা, বন্দর, বিমানবন্দর, হোটেল এবং আবাসিক ভবন।

বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত এসব হামলার বড় অংশের মুখোমুখি হয়েছে। তবে উপসাগরীয় সব দেশই কোনো না কোনোভাবে এই হামলার প্রভাব অনুভব করেছে এবং তারা ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে।

সৌদি তেল স্থাপনায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার

সৌদি আরবের তেল খাতের বিভিন্ন স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় ইরানের জড়িত থাকার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন রাষ্ট্রদূত এনায়াতি। তিনি বলেন, এসব হামলার জন্য ইরান দায়ী নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যদি ইরান এ ধরনের হামলা পরিচালনা করত, তাহলে সেটি গোপন রাখা হতো না।

তিনি আরও জানান, ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তু মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো, সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো নয়।

Exclusive: Iran wants 'serious review' of Gulf ties, denies role in Saudi  oil attacks | Reuters

সৌদি–ইরান সম্পর্ক স্বাভাবিক ধারায়

রাষ্ট্রদূত এনায়াতি দাবি করেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেও সৌদি আরবের সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক স্বাভাবিক গতিতেই এগোচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মীয় সফরে সৌদি আরবে থাকা ইরানিদের দেশে ফেরত পাঠানো এবং অসুস্থদের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে সৌদি কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করেছে। এছাড়া সৌদি আরবের ঘোষিত অবস্থান—তাদের ভূমি, আকাশ ও সমুদ্রপথ ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হবে না—এই বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।

যুদ্ধ বন্ধেই স্থিতিশীলতার পথ

এনায়াতি বলেন, বর্তমান যুদ্ধ এই অঞ্চলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, সংঘাতের সমাধান চাইলে প্রথমেই হামলা বন্ধ করতে হবে এবং আঞ্চলিক দেশগুলোকে এই সংঘাতে জড়ানো যাবে না।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন নিশ্চয়তা দরকার যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের যুদ্ধ আর শুরু না হয়। তখনই উপসাগরীয় অঞ্চল সত্যিকারের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগোতে পারবে।