মধ্য এশিয়ার জ্বালানি ও খনিজসম্পদসমৃদ্ধ দেশ কাজাখস্তানে নতুন সংবিধান নিয়ে অনুষ্ঠিত গণভোটে বিপুল সমর্থন পাওয়া গেছে। ভোট শেষে প্রকাশিত জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, অধিকাংশ ভোটার নতুন সংবিধানের পক্ষে মত দিয়েছেন। এই পরিবর্তনকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং রাষ্ট্রপতি কাসিম-জোমার্ত টোকায়েভের ক্ষমতার মেয়াদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
গণভোটে ব্যাপক সমর্থন
রোববার অনুষ্ঠিত গণভোটের পর প্রকাশিত প্রাথমিক জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৮৭ শতাংশ ভোটার নতুন সংবিধানের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটদানের হার ছিল প্রায় ৭৩ শতাংশ। ফলে নতুন সংবিধান অনুমোদনের বিষয়টি কার্যত নিশ্চিত হয়ে গেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

সংবিধানে বড় পরিবর্তন
নতুন সংবিধানের মাধ্যমে দেশের সংসদীয় কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি পুনরায় চালু করা হয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ, যা ১৯৯৬ সালে বাতিল করা হয়েছিল। নতুন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি ভাইস প্রেসিডেন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা পাবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কেউ কেউ ধারণা করছেন, রাষ্ট্রপতি চাইলে একজন উত্তরসূরি নির্ধারণ করতে পারেন বা নতুন সাংবিধানিক কাঠামোর কারণে তার রাজনৈতিক অবস্থান আরও দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকতে পারে।
টোকায়েভের প্রতিক্রিয়া
রাজধানী আস্তানায় ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপতি টোকায়েভ বলেন, তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হবে ২০২৯ সালে এবং তখনই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন কাজাখস্তানে ক্ষমতার প্রতিযোগিতা বাড়ছে এবং এতে উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এতে সমাজের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এমন আশঙ্কার কোনো ভিত্তি নেই।

রাজনীতিতে শক্ত নিয়ন্ত্রণ
১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতার পর থেকে কাজাখস্তানে রাজনীতির ওপর সরকারের দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। তাই নতুন সংবিধান নিয়ে বিরোধিতা তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল এবং অনেক জরিপেই এর পক্ষে বড় সমর্থনের ইঙ্গিত দেখা গেছে।
নাজারবায়েভের সমর্থন
দেশটির সাবেক রাষ্ট্রপতি নুরসুলতান নাজারবায়েভও নতুন সংবিধানের পক্ষে ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। নিজের বার্তায় তিনি বলেন, এক সময় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব টোকায়েভের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং সেই সিদ্ধান্তের প্রতি এখনও তিনি অটল।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সংবিধান কাজাখস্তানের মানুষের কল্যাণ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাজনৈতিক পটভূমি
নাজারবায়েভ ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কাজাখস্তানের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তবে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে সহিংস অস্থিরতার ঘটনার পর তার অনেক ক্ষমতা ও প্রভাব কমে যায়। সেই অস্থিরতায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং পরবর্তীতে নাজারবায়েভের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন মিত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সরকারের দাবি ছিল, ওই অস্থিরতা ছিল রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের একটি প্রচেষ্টা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















