যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে এবং খুব শিগগিরই দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা হতে পারে। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, কিউবা নিয়ে কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ইরান সংক্রান্ত পরিস্থিতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এতে বহুদিনের টানাপোড়েনপূর্ণ যুক্তরাষ্ট্র–কিউবা সম্পর্ক নতুন মোড় নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কিউবার সঙ্গে সমঝোতার ইঙ্গিত
রবিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, কিউবাও একটি সমঝোতা চায় এবং খুব শিগগিরই হয় কোনো চুক্তি হবে, নয়তো যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ চলছে, তবে আপাতত ইরান বিষয়টি আগে দেখা হবে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো যখন দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ও হাভানার সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক বিরোধ এবং অভিবাসন ইস্যু নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বহু বছর ধরে দ্বন্দ্ব চলছে।

অর্থনৈতিক সংকটে কিউবা
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল সম্প্রতি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে দেশটি, তাই দ্বিপক্ষীয় মতপার্থক্য সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিরোধ যেন সংঘাতের পথ ছেড়ে আলোচনার মাধ্যমে নতুন সমাধানের দিকে এগোয়, সেটাই তাদের লক্ষ্য।

জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত দ্বীপ রাষ্ট্র
কিউবার বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের বড় কারণ জ্বালানি ঘাটতি। আমদানি করা তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে সমস্যা হচ্ছে। এর ফলে দেশজুড়ে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে এবং অনেক জনসেবা সীমিত করে দিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এই পরিস্থিতি কিউবার অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলছে।
সম্ভাব্য চাপ ও রাজনৈতিক শর্ত
ট্রাম্প সম্প্রতি কয়েকবার বলেছেন, কিউবা বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় আগ্রহী। এক পর্যায়ে তিনি এমনও মন্তব্য করেন যে কিউবার ওপর ‘বন্ধুসুলভ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা হতে পারে, যদিও পরে তিনি বলেন সেটি বন্ধুসুলভ নাও হতে পারে।
তবে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, হাভানার কাছ থেকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কিছু ছাড় না পেলে চাপ কমানো কঠিন হবে। অন্যদিকে কিউবার নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যেকোনো আলোচনায় তাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়টি সম্মান করতে হবে।

নতুন মোড়ের অপেক্ষায় সম্পর্ক
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আলোচনার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক নতুন মোড় নিতে পারে। তবে ইরান পরিস্থিতি, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা—সবকিছু মিলিয়ে সামনে কী সিদ্ধান্ত আসে, তা নিয়েই এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















