০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
তাডোবায় ডোরাকাটা রোমাঞ্চ জিপ সাফারির বাইরে বনভ্রমণের নতুন ধারা, প্রকৃতিকে বুঝেই আবিষ্কার করছেন পর্যটকরা ফোনমুক্ত শৈশবের পথে এক শহরের লড়াই: শিশুদের মানসিক সুস্থতায় আয়ারল্যান্ডের অনন্য উদ্যোগ টমি শেলবির শেষ লড়াই—‘পিকি ব্লাইন্ডার্স: দ্য ইমমর্টাল ম্যান’-এ বিদায়ের গল্প জেমস বন্ডের শেষ গল্পসংগ্রহ: অক্টোপাসি ও দ্য লিভিং ডেলাইটসের অন্তর্গত রহস্য হরমুজ প্রণালী খুলতে সামরিক অভিযান কতটা কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ পাম তেল শ্রমিকদের জীবন ধ্বংস করছে বিপজ্জনক কীটনাশক বৃষ্টিতে ভেসে উঠল হারানো নাম্বার প্লেট, আমিরাতে আবারও ২০২৪ সালের স্মৃতি ডাটা সেন্টার ঘিরে বাড়ছে বাধা, থমকে যেতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড় খাগড়াছড়িতে অভিযান, সুপারি বাগান থেকে ১০ লাখ টাকার অবৈধ কাঠ জব্দ

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজে উত্তেজনা, নৌ মিশন জোরদার নিয়ে ইউরোপে আলোচনা

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সংকটের মধ্যে নৌ নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। যুদ্ধের উত্তেজনায় বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় ইউরোপের কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সোমবার ব্রাসেলসে বৈঠকে বসছেন। এই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ছোট নৌ মিশনকে শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আপাতত হরমুজ প্রণালি পর্যন্ত এই মিশনের কার্যক্রম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে।

EU foreign ministers to meet in Brussels to discuss current issues | Millet  News

লোহিত সাগরে নৌ মিশনের পটভূমি

মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন দুই বছর আগে একটি নৌ মিশন শুরু করে। এই মিশনের মূল লক্ষ্য ছিল লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে হামলা থেকে রক্ষা করা।

এই উদ্যোগের আওতায় বর্তমানে একটি ইতালীয় এবং একটি গ্রিক যুদ্ধজাহাজ সরাসরি মিশনে রয়েছে। প্রয়োজনে একটি ফরাসি এবং আরেকটি ইতালীয় জাহাজ সহায়তা দিতে পারে।

মূলত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা থেকে জাহাজ রক্ষার জন্য এই মিশন চালু করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতি ইউরোপকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত সীমিত হয়ে পড়েছে। এই প্রণালির মধ্য দিয়েই বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়।

এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে যদি দীর্ঘদিন বাধা তৈরি হয়, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় নৌ মিশনকে হরমুজ পর্যন্ত বিস্তৃত করা যায় কি না—সে বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

এক শর্তে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে দেবে ইরান

জাহাজ বাড়ানোর প্রস্তাব

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কাল্লাস মিশনে আরও বেশি সদস্য রাষ্ট্রকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

কূটনৈতিক সূত্রের মতে, বৈঠকে মূল আলোচনা হবে কীভাবে আরও যুদ্ধজাহাজ এবং সামরিক সক্ষমতা এই মিশনের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। ইউরোপের বিভিন্ন দেশকে অতিরিক্ত নৌ সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ করা হতে পারে।

জার্মানির সন্দেহ

তবে মিশনের কার্যকারিতা নিয়ে ইউরোপের ভেতরেই মতভেদ রয়েছে। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল মনে করেন, বর্তমান দায়িত্বেই মিশন পুরোপুরি সফল নয়।

তার মতে, বর্তমান অবস্থায় হরমুজ প্রণালিতে এই মিশনের পরিধি বাড়ানো হলে তা বাস্তবে খুব বেশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে কি না—তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।

ইউরোপকে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না রাশিয়া: জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী | ইনসাফ

আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনৈতিক সমীকরণ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে বিশ্ব শক্তিগুলোর ওপরও চাপ বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথটি আবার স্বাভাবিক করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কথাও উঠছে।

ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে সম্ভাব্য সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ মিশনের দায়িত্ব বাড়াতে হলে সব সদস্য রাষ্ট্রের সম্মতি প্রয়োজন।

এই কারণে কূটনৈতিক মহলের মতে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে এবং প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তাডোবায় ডোরাকাটা রোমাঞ্চ

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজে উত্তেজনা, নৌ মিশন জোরদার নিয়ে ইউরোপে আলোচনা

০১:৪২:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সংকটের মধ্যে নৌ নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। যুদ্ধের উত্তেজনায় বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় ইউরোপের কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সোমবার ব্রাসেলসে বৈঠকে বসছেন। এই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ছোট নৌ মিশনকে শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আপাতত হরমুজ প্রণালি পর্যন্ত এই মিশনের কার্যক্রম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে।

EU foreign ministers to meet in Brussels to discuss current issues | Millet  News

লোহিত সাগরে নৌ মিশনের পটভূমি

মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন দুই বছর আগে একটি নৌ মিশন শুরু করে। এই মিশনের মূল লক্ষ্য ছিল লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে হামলা থেকে রক্ষা করা।

এই উদ্যোগের আওতায় বর্তমানে একটি ইতালীয় এবং একটি গ্রিক যুদ্ধজাহাজ সরাসরি মিশনে রয়েছে। প্রয়োজনে একটি ফরাসি এবং আরেকটি ইতালীয় জাহাজ সহায়তা দিতে পারে।

মূলত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা থেকে জাহাজ রক্ষার জন্য এই মিশন চালু করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতি ইউরোপকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত সীমিত হয়ে পড়েছে। এই প্রণালির মধ্য দিয়েই বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়।

এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে যদি দীর্ঘদিন বাধা তৈরি হয়, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় নৌ মিশনকে হরমুজ পর্যন্ত বিস্তৃত করা যায় কি না—সে বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

এক শর্তে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে দেবে ইরান

জাহাজ বাড়ানোর প্রস্তাব

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কাল্লাস মিশনে আরও বেশি সদস্য রাষ্ট্রকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

কূটনৈতিক সূত্রের মতে, বৈঠকে মূল আলোচনা হবে কীভাবে আরও যুদ্ধজাহাজ এবং সামরিক সক্ষমতা এই মিশনের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। ইউরোপের বিভিন্ন দেশকে অতিরিক্ত নৌ সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ করা হতে পারে।

জার্মানির সন্দেহ

তবে মিশনের কার্যকারিতা নিয়ে ইউরোপের ভেতরেই মতভেদ রয়েছে। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল মনে করেন, বর্তমান দায়িত্বেই মিশন পুরোপুরি সফল নয়।

তার মতে, বর্তমান অবস্থায় হরমুজ প্রণালিতে এই মিশনের পরিধি বাড়ানো হলে তা বাস্তবে খুব বেশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে কি না—তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।

ইউরোপকে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না রাশিয়া: জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী | ইনসাফ

আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনৈতিক সমীকরণ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে বিশ্ব শক্তিগুলোর ওপরও চাপ বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথটি আবার স্বাভাবিক করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কথাও উঠছে।

ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে সম্ভাব্য সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ মিশনের দায়িত্ব বাড়াতে হলে সব সদস্য রাষ্ট্রের সম্মতি প্রয়োজন।

এই কারণে কূটনৈতিক মহলের মতে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে এবং প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নেওয়া হবে।