( ওয়াশিংটন পোস্টের সম্পাদকীয় বোর্ড লিখিত)
টেক্সাসে বেসরকারি স্কুলে পড়ার জন্য ভাউচার পেতে ইতিমধ্যে এক লাখ ষাট হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। কিন্তু স্কুল বাছাইয়ের সুযোগ বাড়ানোর এই বিশাল কর্মসূচি রাজ্য কর্মকর্তাদের এক সিদ্ধান্তে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। প্রায় দুই ডজন মুসলিম স্কুলকে এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গত বছর রাজ্যের আইনসভা এই ভাউচার কর্মসূচি চালু করে। এর আওতায় প্রতিটি শিক্ষার্থী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার জন্য দশ হাজার ডলারেরও বেশি সহায়তা পেতে পারে। টেক্সাস জুড়ে শত শত ধর্মীয় স্কুলসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে এই কর্মসূচির মাধ্যমে। এত বিপুল আবেদন প্রমাণ করে, রাজ্যজুড়ে বেসরকারি শিক্ষার প্রতি মানুষের আগ্রহ কতটা বেশি।

তবে ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার কেলি হ্যানকক এবং অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন নিজেদের এমন ক্ষমতা দিয়েছেন, যার মাধ্যমে তারা যেকোনো স্কুলকে বাদ দিতে পারেন যদি সেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো “বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন” বা “বিদেশি প্রতিপক্ষের” সম্পর্ক থাকার অভিযোগ ওঠে। করদাতাদের অর্থ দিয়ে সন্ত্রাসবাদ বা শত্রুভাবাপন্ন দেশের শিক্ষা কার্যক্রমে সহায়তা করা উচিত নয়—এ বিষয়ে সবাই একমত। কিন্তু সমস্যার শুরু তখনই হয়, যখন রাজনীতিকরা নিজেদের সিদ্ধান্তে নির্ধারণ করেন কোন প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিকভাবে এতটাই বিতর্কিত যে তাদের অর্থায়ন করা যাবে না।
হ্যানকক এবং প্যাক্সটন এমন সব স্কুলের জন্য অর্থায়ন বন্ধ করেছেন যেগুলো ‘কগনিয়া’ নামের একটি স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। এই প্রতিষ্ঠানটি আগে ‘কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস’ নামের সংগঠনের আয়োজিত কিছু অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। এর ফলে টেক্সাসের প্রায় সব মুসলিম স্কুল, পাশাপাশি কিছু খ্রিস্টান ও বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্কুলও এই কর্মসূচি থেকে কার্যত বাদ পড়েছে।
কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক নিহাদ আওয়াদ ইসলামি উগ্রবাদীদের প্রশংসা করেছেন এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন। সংগঠনের সাবেক বহু সদস্যও উগ্রপন্থী গোষ্ঠীকে সহায়তার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। তবে সংগঠনের নেতাদের এসব বক্তব্য আপত্তিকর হলেও তা আইনের দৃষ্টিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতায় পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার এখনো সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেনি। যদিও গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট তা করার চেষ্টা করেছেন এবং এই সিদ্ধান্ত ঠেকাতে সংগঠনটি আদালতে মামলা করেছে।

এই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠতেই পারে—কোনো স্কুল কেন এমন একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চাইবে। কিন্তু সংগঠনটি নিয়ে যার যা মতই থাকুক, কেবলমাত্র দূরবর্তী বা আংশিক সম্পর্ক থাকার অভিযোগে স্কুলগুলোকে শাস্তি দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। বাস্তবে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস নিজেই ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছে, নিষিদ্ধ হওয়া কয়েকটি স্কুলের সঙ্গে তাদের কখনোই কাজের সম্পর্ক ছিল না।
গভর্নর অ্যাবট যখন স্কুল বাছাই কর্মসূচির পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন, তখন তিনি বারবার বলেছিলেন—এটি পরিবারগুলোকে ক্ষমতায়নের একটি পথ। তাঁর ভাষায়, যদি অভিভাবকদের সন্তানদের জন্য সেরা স্কুল বেছে নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়, তবে তারা সন্তানদের লালন-পালনে আরও ভালো কাজ করতে পারবেন। এই কথাটি সঠিক। আইন মেনে পরিচালিত এবং যথাযথ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিটি স্কুলেরই এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত। যারা তাদের সন্তানদের এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠান, সেই অভিভাবকরাই বিচার করতে পারবেন স্কুলটি উপযুক্ত কি না।
রাজনীতিকরা অনেক সময় এমনভাবে সিদ্ধান্ত নেন যেন তাদের দল কখনো ক্ষমতা হারাবে না। কিন্তু যারা আজ এই অবিচারের প্রতি উদাসীন, তাদের ভেবে দেখা উচিত—যদি কোনো বিতর্কিত খ্রিস্টান বা ইহুদি স্কুলকে একইভাবে সরকার লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে শাস্তি দিত, তখন তাদের অনুভূতি কেমন হতো।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















