০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
জিপ সাফারির বাইরে বনভ্রমণের নতুন ধারা, প্রকৃতিকে বুঝেই আবিষ্কার করছেন পর্যটকরা ফোনমুক্ত শৈশবের পথে এক শহরের লড়াই: শিশুদের মানসিক সুস্থতায় আয়ারল্যান্ডের অনন্য উদ্যোগ টমি শেলবির শেষ লড়াই—‘পিকি ব্লাইন্ডার্স: দ্য ইমমর্টাল ম্যান’-এ বিদায়ের গল্প জেমস বন্ডের শেষ গল্পসংগ্রহ: অক্টোপাসি ও দ্য লিভিং ডেলাইটসের অন্তর্গত রহস্য হরমুজ প্রণালী খুলতে সামরিক অভিযান কতটা কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ পাম তেল শ্রমিকদের জীবন ধ্বংস করছে বিপজ্জনক কীটনাশক বৃষ্টিতে ভেসে উঠল হারানো নাম্বার প্লেট, আমিরাতে আবারও ২০২৪ সালের স্মৃতি ডাটা সেন্টার ঘিরে বাড়ছে বাধা, থমকে যেতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড় খাগড়াছড়িতে অভিযান, সুপারি বাগান থেকে ১০ লাখ টাকার অবৈধ কাঠ জব্দ ইরান যুদ্ধ ঘিরে হঠাৎ পদত্যাগ, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার বিস্ফোরক দাবি

এলপিজি সংকটে ভারতের জ্বালানি বাজার

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ ভারতের জ্বালানি আমদানির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। অপরিশোধিত তেল, এলএনজি এবং এলপিজি—সব ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুতর সংকট দেখা দিয়েছে রান্নার গ্যাস এলপিজিতে, যা কোটি কোটি ভারতীয় পরিবারের প্রধান জ্বালানি।

এলপিজিতে কেন সবচেয়ে বেশি সংকট

ভারতে বছরে প্রায় ৩৩ মিলিয়ন টন এলপিজি ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে দেশীয় উৎপাদন মাত্র প্রায় ১৩ মিলিয়ন টন, অর্থাৎ মোট চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ। বাকি প্রায় ৬০ শতাংশ এলপিজি আমদানি করতে হয়।

অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা আরও বেশি—প্রায় ৮৮ শতাংশ। তবুও তেল, পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। কিন্তু এলপিজি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে।

এর প্রধান কারণ হলো হরমুজ প্রণালী। ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত এই সংকীর্ণ সমুদ্রপথ পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

ভারতের অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে এই পথ দিয়ে। কিন্তু এলপিজির ক্ষেত্রে নির্ভরতা প্রায় ৯০ শতাংশ। ফলে এই পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতের মোট এলপিজি সরবরাহের অর্ধেকেরও বেশি হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে।

সরকারের জরুরি পদক্ষেপ

এলপিজি সংকট মোকাবিলায় ভারত সরকার কয়েকটি জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে। ঘরোয়া ব্যবহারের জন্য এলপিজিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

সরকার তেল শোধনাগারগুলোকে এলপিজি উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে ব্যবহৃত প্রোপেন, বিউটেনসহ বিভিন্ন উপাদান এলপিজি উৎপাদনে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য সিলিন্ডার বুকিংয়ের ব্যবধানও বাড়ানো হয়েছে। শহরে ২১ দিনের পরিবর্তে ২৫ দিন এবং গ্রামে ৪৫ দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

বাণিজ্যিক গ্রাহকদের সংকট এতটাই তীব্র হয়েছে যে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কেরোসিন, ফুয়েল অয়েল, বায়োমাস এমনকি কয়লা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি হলেও ঘাটতি রয়ে গেছে

সরকারি পদক্ষেপের ফলে দেশে এলপিজি উৎপাদন যুদ্ধের আগের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু মোট চাহিদার হিসেবে এটি মাত্র ১০ থেকে ১২ শতাংশ অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছে।

ফলে এখনো ভারতের মোট এলপিজি সরবরাহের প্রায় ৪২ থেকে ৪৪ শতাংশ কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে।

ভারতীয় সরকার ও তেল কোম্পানিগুলো হরমুজের বাইরে থেকে এলপিজি আমদানির চেষ্টা করছে, বিশেষ করে উত্তর আমেরিকা থেকে। তবে এসব জাহাজ ভারতে পৌঁছাতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। পশ্চিম এশিয়া থেকে সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যেই এলপিজি পৌঁছে যায়।

অপরিশোধিত তেলে কেন আতঙ্ক নেই

এলপিজির মতো অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এতটা সংকটজনক নয়। পশ্চিম এশিয়ার বাইরে থেকেও অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করা তুলনামূলক সহজ হয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে, যুদ্ধ শুরুর আগে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতে আসার অপেক্ষায় থাকা বিপুল পরিমাণ রুশ তেলবাহী জাহাজ কয়েক দিনের মধ্যেই ভারতীয় বন্দরে পৌঁছে যাচ্ছে।

এছাড়া ভারতের কাছে অপরিশোধিত তেল, পেট্রোল ও ডিজেলের মজুত তুলনামূলকভাবে বেশি। কিন্তু এলপিজি ও এলএনজির ক্ষেত্রে সরবরাহ শৃঙ্খলের বাইরে অতিরিক্ত মজুত খুবই কম।

গত সপ্তাহে এক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারতের কাছে বর্তমানে ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোল ও ডিজেলের মজুত রয়েছে। এতে বাণিজ্যিক মজুত এবং কৌশলগত রিজার্ভ উভয়ই অন্তর্ভুক্ত।

পশ্চিম এশিয়ার বাইরে থেকেও নিয়মিত তেল আমদানি অব্যাহত থাকায় ভবিষ্যতেও পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতি

প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রেও কিছু চাপ তৈরি হয়েছে, যদিও তা এলপিজির মতো গুরুতর নয়। ভারতের মোট গ্যাস চাহিদার প্রায় অর্ধেকই আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়। এর প্রায় ৬০ শতাংশ আসে হরমুজ প্রণালী হয়ে, মূলত কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে।

এর ফলে এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতের মোট প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যাহত হয়েছে।

সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেসব খাতে সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে সেসব খাতে গ্যাস সরবরাহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেওয়া হবে।

গ্যাস সরবরাহের অগ্রাধিকার তালিকা

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী চারটি অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে গ্যাস সরবরাহ করা হবে।

প্রথম অগ্রাধিকার খাতে রয়েছে গৃহস্থালির পাইপলাইন গ্যাস, পরিবহনের জন্য সিএনজি, এলপিজি উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত গ্যাস এবং অপরিহার্য পাইপলাইন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস। এই খাতে গত ছয় মাসের গড় ব্যবহারের শতভাগ গ্যাস সরবরাহ করা হবে।

দ্বিতীয় অগ্রাধিকার খাতে রয়েছে সার কারখানা। তারা গত ছয় মাসের গড় ব্যবহারের প্রায় ৭০ শতাংশ গ্যাস পাবে।

তৃতীয় খাতে রয়েছে চা শিল্প, উৎপাদনশিল্প এবং জাতীয় গ্যাস গ্রিডের মাধ্যমে গ্যাস পাওয়া অন্যান্য শিল্প। তাদের জন্য সরবরাহ থাকবে গড় ব্যবহারের প্রায় ৮০ শতাংশ।

চতুর্থ অগ্রাধিকার খাতে রয়েছে সিটি গ্যাস বিতরণ কোম্পানির বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকরা। তারাও গত ছয় মাসের গড় ব্যবহারের প্রায় ৮০ শতাংশ গ্যাস পাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জিপ সাফারির বাইরে বনভ্রমণের নতুন ধারা, প্রকৃতিকে বুঝেই আবিষ্কার করছেন পর্যটকরা

এলপিজি সংকটে ভারতের জ্বালানি বাজার

০৭:২৩:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ ভারতের জ্বালানি আমদানির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। অপরিশোধিত তেল, এলএনজি এবং এলপিজি—সব ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুতর সংকট দেখা দিয়েছে রান্নার গ্যাস এলপিজিতে, যা কোটি কোটি ভারতীয় পরিবারের প্রধান জ্বালানি।

এলপিজিতে কেন সবচেয়ে বেশি সংকট

ভারতে বছরে প্রায় ৩৩ মিলিয়ন টন এলপিজি ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে দেশীয় উৎপাদন মাত্র প্রায় ১৩ মিলিয়ন টন, অর্থাৎ মোট চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ। বাকি প্রায় ৬০ শতাংশ এলপিজি আমদানি করতে হয়।

অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা আরও বেশি—প্রায় ৮৮ শতাংশ। তবুও তেল, পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। কিন্তু এলপিজি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে।

এর প্রধান কারণ হলো হরমুজ প্রণালী। ইরান ও ওমানের মাঝখানে অবস্থিত এই সংকীর্ণ সমুদ্রপথ পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

ভারতের অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে এই পথ দিয়ে। কিন্তু এলপিজির ক্ষেত্রে নির্ভরতা প্রায় ৯০ শতাংশ। ফলে এই পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতের মোট এলপিজি সরবরাহের অর্ধেকেরও বেশি হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে।

সরকারের জরুরি পদক্ষেপ

এলপিজি সংকট মোকাবিলায় ভারত সরকার কয়েকটি জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে। ঘরোয়া ব্যবহারের জন্য এলপিজিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

সরকার তেল শোধনাগারগুলোকে এলপিজি উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে ব্যবহৃত প্রোপেন, বিউটেনসহ বিভিন্ন উপাদান এলপিজি উৎপাদনে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য সিলিন্ডার বুকিংয়ের ব্যবধানও বাড়ানো হয়েছে। শহরে ২১ দিনের পরিবর্তে ২৫ দিন এবং গ্রামে ৪৫ দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

বাণিজ্যিক গ্রাহকদের সংকট এতটাই তীব্র হয়েছে যে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কেরোসিন, ফুয়েল অয়েল, বায়োমাস এমনকি কয়লা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি হলেও ঘাটতি রয়ে গেছে

সরকারি পদক্ষেপের ফলে দেশে এলপিজি উৎপাদন যুদ্ধের আগের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু মোট চাহিদার হিসেবে এটি মাত্র ১০ থেকে ১২ শতাংশ অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছে।

ফলে এখনো ভারতের মোট এলপিজি সরবরাহের প্রায় ৪২ থেকে ৪৪ শতাংশ কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে।

ভারতীয় সরকার ও তেল কোম্পানিগুলো হরমুজের বাইরে থেকে এলপিজি আমদানির চেষ্টা করছে, বিশেষ করে উত্তর আমেরিকা থেকে। তবে এসব জাহাজ ভারতে পৌঁছাতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। পশ্চিম এশিয়া থেকে সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যেই এলপিজি পৌঁছে যায়।

অপরিশোধিত তেলে কেন আতঙ্ক নেই

এলপিজির মতো অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এতটা সংকটজনক নয়। পশ্চিম এশিয়ার বাইরে থেকেও অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করা তুলনামূলক সহজ হয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে, যুদ্ধ শুরুর আগে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতে আসার অপেক্ষায় থাকা বিপুল পরিমাণ রুশ তেলবাহী জাহাজ কয়েক দিনের মধ্যেই ভারতীয় বন্দরে পৌঁছে যাচ্ছে।

এছাড়া ভারতের কাছে অপরিশোধিত তেল, পেট্রোল ও ডিজেলের মজুত তুলনামূলকভাবে বেশি। কিন্তু এলপিজি ও এলএনজির ক্ষেত্রে সরবরাহ শৃঙ্খলের বাইরে অতিরিক্ত মজুত খুবই কম।

গত সপ্তাহে এক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারতের কাছে বর্তমানে ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোল ও ডিজেলের মজুত রয়েছে। এতে বাণিজ্যিক মজুত এবং কৌশলগত রিজার্ভ উভয়ই অন্তর্ভুক্ত।

পশ্চিম এশিয়ার বাইরে থেকেও নিয়মিত তেল আমদানি অব্যাহত থাকায় ভবিষ্যতেও পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতি

প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রেও কিছু চাপ তৈরি হয়েছে, যদিও তা এলপিজির মতো গুরুতর নয়। ভারতের মোট গ্যাস চাহিদার প্রায় অর্ধেকই আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়। এর প্রায় ৬০ শতাংশ আসে হরমুজ প্রণালী হয়ে, মূলত কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে।

এর ফলে এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতের মোট প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যাহত হয়েছে।

সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেসব খাতে সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে সেসব খাতে গ্যাস সরবরাহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেওয়া হবে।

গ্যাস সরবরাহের অগ্রাধিকার তালিকা

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী চারটি অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে গ্যাস সরবরাহ করা হবে।

প্রথম অগ্রাধিকার খাতে রয়েছে গৃহস্থালির পাইপলাইন গ্যাস, পরিবহনের জন্য সিএনজি, এলপিজি উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত গ্যাস এবং অপরিহার্য পাইপলাইন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস। এই খাতে গত ছয় মাসের গড় ব্যবহারের শতভাগ গ্যাস সরবরাহ করা হবে।

দ্বিতীয় অগ্রাধিকার খাতে রয়েছে সার কারখানা। তারা গত ছয় মাসের গড় ব্যবহারের প্রায় ৭০ শতাংশ গ্যাস পাবে।

তৃতীয় খাতে রয়েছে চা শিল্প, উৎপাদনশিল্প এবং জাতীয় গ্যাস গ্রিডের মাধ্যমে গ্যাস পাওয়া অন্যান্য শিল্প। তাদের জন্য সরবরাহ থাকবে গড় ব্যবহারের প্রায় ৮০ শতাংশ।

চতুর্থ অগ্রাধিকার খাতে রয়েছে সিটি গ্যাস বিতরণ কোম্পানির বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকরা। তারাও গত ছয় মাসের গড় ব্যবহারের প্রায় ৮০ শতাংশ গ্যাস পাবে।