ভারতের নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের সূচি ঘোষণা করেছে। ঘোষণার অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে দুই ধাপে—২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল।
এই ঘোষণা সামনে আসার পর রাজ্যের প্রায় ৬০ লাখ ভোটারের জন্য শুরু হয়েছে সময়ের বিরুদ্ধে এক দৌড়। তাদের ভোটার হিসেবে যোগ্যতা এখনও বিচারাধীন থাকায় আপাতত তারা চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নন। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না এলে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না।
কতজন ভোটার ভোট দিতে পারবেন
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে মোট যোগ্য ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৪ লাখ।
তবে বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমের মাধ্যমে ২৮ ফেব্রুয়ারি যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৪ লাখ। এর মধ্যে ৬০ লাখ ৬ হাজার ভোটারের নাম রাখা হয়েছে বিচারাধীন তালিকায়।
বিচারাধীন ভোটারদের অবস্থান
প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যেসব ভোটারের নাম বিচারাধীন রয়েছে তারা বিচারিক অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন না।
তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কলকাতা হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে বিচারকরা এই বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছেন। বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করা হবে। ওই তালিকায় যাদের নাম থাকবে, তাদের বর্তমান ভোটার তালিকায় যুক্ত করা হবে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারিক প্রক্রিয়া
নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে একটি আইনি চ্যালেঞ্জ সুপ্রিম কোর্টে শুনানির অধীনে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ২০ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট প্রায় ৫০০ জন বিচারিক কর্মকর্তাকে এসব মামলার পর্যালোচনার দায়িত্ব দেয়।
বিচারিক কর্মকর্তারা পর্যায়ক্রমে মামলাগুলোর নিষ্পত্তি করছেন। এরপর সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করার কথা রয়েছে। আদালতকে জানানো হয়েছে যে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ লাখ মামলার নিষ্পত্তি সম্পন্ন হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
মনোনয়ন শেষ হওয়ার সময়সীমা
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় নতুন নাম যুক্ত করার সুযোগ থাকে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত। পশ্চিমবঙ্গের দুই ধাপের নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ৬ এপ্রিল এবং ৯ এপ্রিল।
তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। কারণ ভোটারদের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য বিচারকদের সরাসরি নিয়োগ দেওয়ার এমন নজির আগে কখনও দেখা যায়নি।
মাইক্রো অবজারভার ও নতুন নজির
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন কমিশন প্রথমবারের মতো ৮ হাজার ১০০ জন মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ দেয়। তারা সবাই ছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারী।
এই মাইক্রো অবজারভাররা নির্বাচন নিবন্ধন কর্মকর্তা ও সহকারী নিবন্ধন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করেন এবং যেসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে সেগুলো চিহ্নিত করেন।
পরবর্তীতে এসব চিহ্নিত মামলাই এখন বিচারিক কর্মকর্তারা পরীক্ষা করে দেখছেন। নির্বাচন কমিশনের মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা এই প্রথম নেওয়া হয়েছে এবং এটি বিশেষভাবে পশ্চিমবঙ্গের জন্য প্রযোজ্য।
বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার বিস্তার
বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম যদিও আরও আটটি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিচালিত হয়েছে, কিন্তু মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ করা হয়েছিল কেবল পশ্চিমবঙ্গেই।
এই কারণেই পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা নিয়ে এবার তৈরি হয়েছে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতি, যেখানে লাখো ভোটারের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















