সামাজিক বন্ধন থেকে বুদ্বুদ-জাল শিকার ছড়িয়ে পড়ছে
প্রোসিডিংস অব দ্য রয়্যাল সোসাইটি বি জার্নালে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, হাম্পব্যাক তিমিরা সক্রিয়ভাবে সামাজিক শিক্ষার মাধ্যমে জটিল শিকার কৌশল একে অপরকে শেখাচ্ছে। এটি কোনো বৃহৎ সামুদ্রিক প্রাণীর মধ্যে এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত প্রাণী সংস্কৃতির সবচেয়ে স্পষ্ট বাস্তব উদাহরণগুলোর একটি। ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট অ্যান্ড্রুজের গবেষকরা কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার কিটিমাত ফিওর্ড এলাকার একটি হাম্পব্যাক তিমি দলের উপর দুই দশক ধরে গবেষণা পরিচালনা করেছেন। দলটি ৫০০টিরও বেশি পৃথক তিমি শনাক্ত করেছে এবং তাদের মধ্যে সামাজিক সংযোগ নথিভুক্ত করেছে। গবেষণার বিষয় ছিল “বাবল-নেট ফিডিং” বা বুদ্বুদ-জাল শিকার পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে একটি বা একাধিক তিমি মাছের দলের নিচে ডুব দেয় এবং আস্তে আস্তে বৃত্তাকারে সাঁতরে শ্বাস ছিদ্র থেকে বাতাস ছেড়ে একটি ঊর্ধ্বমুখী বুদ্বুদের দেওয়াল তৈরি করে। বুদ্বুদগুলো মাছকে বিভ্রান্ত ও কেন্দ্রীভূত করে এবং একই সময়ে অন্য তিমিরা গভীর থেকে শব্দ করে মাছকে উপরের দিকে তাড়ায়। এই অত্যন্ত জটিল সমবায় শিকার কৌশলটি সব হাম্পব্যাক করে না।

সংস্কৃতি বাঁচলে প্রজাতি বাঁচবে: সংরক্ষণ নীতিতে নতুন ভাবনা
গবেষণায় দেখা গেছে, যে তিমিরা আগে কখনো এই পদ্ধতিতে শিকার করেনি, তারা এই কৌশল জানা তিমিদের সাথে সময় কাটানোর পর নিজেরাও তা আয়ত্ত করেছে। সামাজিক নৈকট্য ও দক্ষতা হস্তান্তরের মধ্যে সম্পর্ক পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধান গবেষক ইডিন ও’মেহানি বলেছেন, তিমিরা পরিবেশগত চাপের মুখে বিশুদ্ধ জিনগত প্রবৃত্তির উপর নির্ভর না করে সামাজিক নেটওয়ার্ক থেকে শিখে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের মেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী ফিলিপ্পা ব্রেকস বলেছেন, গবেষণাটি সংরক্ষণনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে, একটি প্রজাতির জনসংখ্যা রক্ষার পাশাপাশি সেই জনগোষ্ঠীর ভেতরে থাকা সাংস্কৃতিক জ্ঞানও রক্ষা করতে হবে। ব্যাপক তিমি শিকারের সময় এই জ্ঞান অনেকটাই হারিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বুদ্বুদ-জাল শিকার পুনরায় ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ ইঙ্গিত দেয় যে এই প্রাণীদের প্রজন্মের পর প্রজন্মে সমষ্টিগত জ্ঞান পুনর্গঠনের সক্ষমতা রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন এই সামাজিক অভিযোজনশীলতাই হাম্পব্যাকের অভূতপূর্ব পুনরুদ্ধারের অন্যতম কারণ।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















