পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্ক চলছে। নতুন এক গবেষণা সেই বিতর্কে যুক্ত করল চমকপ্রদ সম্ভাবনা—প্রাণের সূচনা হয়তো পৃথিবীতে নয়, বরং মঙ্গল গ্রহ থেকে আসা অণুজীবের মাধ্যমেও হতে পারে।
মহাকাশে টিকে থাকতে পারে অণুজীব
সাম্প্রতিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, অত্যন্ত ভয়াবহ চাপের মধ্যেও কিছু ব্যাকটেরিয়া বেঁচে থাকতে সক্ষম। গবেষকেরা ধাতব পাতের মাধ্যমে অণুজীবের ওপর প্রচণ্ড আঘাত সৃষ্টি করেন, যা গ্রহাণুর আঘাতের সমতুল্য চাপ তৈরি করে। আশ্চর্যের বিষয়, চাপ যতই বাড়ানো হয়েছে, তবুও অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া টিকে থাকে।

এই ফলাফল বিজ্ঞানীদের সামনে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো গ্রহে গ্রহাণুর আঘাতে ছিটকে যাওয়া শিলা বা ধূলিকণার সঙ্গে অণুজীব মহাকাশে ভেসে অন্য গ্রহে পৌঁছাতে পারে।
মঙ্গল গ্রহ থেকে পৃথিবীতে জীবনের সম্ভাবনা
বিজ্ঞানীদের মতে, অতীতে মঙ্গল গ্রহে পানি, নদী এমনকি সাগরের অস্তিত্ব ছিল। সেই সময় সেখানে অণুজীবের জন্ম হয়ে থাকতে পারে। গ্রহাণুর আঘাতে সেই অণুজীব বহনকারী শিলা মহাকাশে ছিটকে পড়ে এবং পরবর্তীতে পৃথিবীতে এসে পৌঁছাতে পারে।

এই তত্ত্বকে বলা হয় ‘লিথোপ্যানস্পার্মিয়া’। যদিও এখনো মঙ্গলে প্রাণের সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে গবেষণাটি দেখাচ্ছে যে এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
পরীক্ষায় অবাক করা ফলাফল
গবেষণায় ব্যবহৃত ব্যাকটেরিয়াটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী প্রকৃতির, যা তীব্র বিকিরণ, শুষ্কতা এবং রাসায়নিক আঘাত সহ্য করতে পারে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট মাত্রার চাপেও প্রায় ৯৫ শতাংশ অণুজীব টিকে ছিল। চাপ আরও বাড়ালে সংখ্যাটি কমলেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জীবিত থাকে।

গবেষকেরা জানান, পরীক্ষার যন্ত্র ভেঙে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ব্যাকটেরিয়ার সম্পূর্ণ ধ্বংস ঘটানো সম্ভব হয়নি। অর্থাৎ, জীবনের সহনশীলতা বিজ্ঞানীদের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি।
জীবনের সীমা নতুন করে ভাবার সময়
এই গবেষণা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—জীবন কতটা শক্তিশালী এবং কোথা থেকে তার সূচনা হতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জীবনের সীমা আমরা প্রতিনিয়ত নতুনভাবে আবিষ্কার করছি।
ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন ধরনের অণুজীব নিয়ে গবেষণা চালানো হবে, যাতে বোঝা যায় মহাকাশে প্রাণের বিস্তার কতটা সম্ভব।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















