পৃথিবীর অর্ধেকেরও বেশি ম্যানগ্রোভ বন ইতিমধ্যে হারিয়ে গেছে। এই ক্ষতি শুধু গাছপালা বা বন্যপ্রাণীর জন্য নয়, বরং মানুষের জীবন ও পরিবেশের জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপকূলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই জলমগ্ন বনগুলো প্রকৃতির এক অনন্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা নীরবে রক্ষা করে জলবায়ু, মাটি এবং মানুষের বসতি।
কার্বন ধরে রাখার প্রাকৃতিক শক্তি
ম্যানগ্রোভ বন মাটির নিচে বিপুল পরিমাণ কার্বন আটকে রাখতে সক্ষম। ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ কমাতে এদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে ম্যানগ্রোভ যেন এক প্রাকৃতিক ঢাল, যা পৃথিবীকে অতিরিক্ত উষ্ণতা থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

উপকূল রক্ষায় অদৃশ্য প্রহরী
ম্যানগ্রোভ গাছের জটিল শিকড় মাটিকে শক্তভাবে ধরে রাখে। এই শিকড়ের জাল উপকূলকে ঢেউয়ের আঘাত থেকে বাঁচায় এবং ভাঙন প্রতিরোধ করে। ফলে ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের সময় এসব বন মানুষের বসতি ও কৃষিজমিকে বড় ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।
প্রকৃতি ও মানুষের জন্য একসঙ্গে জরুরি
ম্যানগ্রোভ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, বরং বহু প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবেও কাজ করে। একই সঙ্গে উপকূলবর্তী মানুষের জীবিকা ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত এই বন। কিন্তু দ্রুত বন উজাড় ও উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।

ছবিতে উঠে এলো সৌন্দর্য ও সংকট
সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় ইন্দোনেশিয়ার একটি ম্যানগ্রোভ বনের ছবি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। ছবিটি যেমন এই বনের সৌন্দর্য তুলে ধরেছে, তেমনি এর অস্তিত্ব সংকটের বিষয়টিও সামনে এনেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















