১১:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
ওয়ার্শ যুগের সূচনা: এশিয়ার মুদ্রাগুলোর সামনে নতুন বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষা ইরানের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি নতুন এশিয়ার ভ্রমণ মানচিত্র: বালির গল্পে দেখা যাচ্ছে আঞ্চলিক অর্থনীতির নতুন শক্তি বার্নিং ম্যান উৎসবের ইতিহাস নিয়ে আসছে এইচবিও ডকুসিরিজ সিনেমা হলকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে সাংহাই মেলনের বৈশ্বিক কে-পপ তালিকায় আলোচনায় রাইজ ও বয় নেক্সট ডোর হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্টকে অপসারণে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ, রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে ট্রাম্পের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রায়, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরানোর পথ খুলল রাশিয়ার যুব ফুটবল দলের ফেরার ইঙ্গিত, নতুন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পথ খুলছে ফিফা ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক পদ বাতিল, বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশ

ব্যাকটেরিয়ার তৈরি কাগজসদৃশ উপাদান, ইস্পাতকেও ছাড়িয়ে শক্তি—প্লাস্টিক দূষণ রোধে নতুন আশা

প্লাস্টিক দূষণ আজ বৈশ্বিক পরিবেশের অন্যতম বড় সংকট। এই সংকট মোকাবিলায় এক চমকপ্রদ সম্ভাবনা তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা। ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে তৈরি হয়েছে এমন এক নতুন জৈব উপাদান, যা দেখতে কাগজের মতো হলেও শক্তিতে ইস্পাতকেও টেক্কা দিতে পারে।

নতুন এই উপাদানটি শুধু শক্তিশালীই নয়, বরং নমনীয়, ভাঁজ করা যায় এবং সম্পূর্ণভাবে জৈবভাবে পচনশীল। ফলে এটি পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে প্লাস্টিকের জায়গা নিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

কাগজের মতো, কিন্তু ধাতুর শক্তি

গবেষকদের তৈরি এই উপাদানটি প্রথম দেখায় সাধারণ কাগজের মতো মনে হলেও এর বৈশিষ্ট্য একেবারেই ভিন্ন। এটি উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে এবং শক্তির দিক থেকে ধাতু কিংবা কাঁচের সঙ্গে তুলনীয়। একই সঙ্গে এটি নমনীয় হওয়ায় বিভিন্ন আকারে সহজেই ব্যবহারযোগ্য।

Plastic-eating bacteria boost growing business of bioremediation | Nature  Biotechnology

গবেষণার নেতৃত্বদানকারী বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই উপাদান ভবিষ্যতে বহু পণ্যে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, যা পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ব্যাকটেরিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে তৈরি সুপার ফাইবার

এই উদ্ভাবনের মূল রহস্য লুকিয়ে আছে ব্যাকটেরিয়ার আচরণ নিয়ন্ত্রণে। সাধারণত ব্যাকটেরিয়া এলোমেলোভাবে বৃদ্ধি পায়, কিন্তু এখানে বিজ্ঞানীরা তাদের নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় চালিত করেছেন।

নিয়ন্ত্রিত ঘূর্ণনের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করিয়ে তাদের এমনভাবে পরিচালিত করা হয়েছে, যাতে তারা নির্দিষ্ট বিন্যাসে অত্যন্ত শক্তিশালী তন্তু তৈরি করে। এই বিশেষ বিন্যাসই উপাদানটির অসাধারণ শক্তির মূল কারণ।

ন্যানো উপাদানে আরও শক্তিশালী

We are just getting started': the plastic-eating bacteria that could change  the world | Plastics | The Guardian

গবেষণায় দেখা গেছে, একটি বিশেষ ন্যানো উপাদান যুক্ত করার ফলে এই জৈব উপাদানের শক্তি আরও বেড়েছে। পাশাপাশি তাপ পরিবাহিতার ক্ষমতা উন্নত হওয়ায় এটি উচ্চ তাপমাত্রাতেও স্থিতিশীল থাকে।

চূড়ান্তভাবে তৈরি উপাদানটির শক্তি প্রায় ৫৫৩ মেগাপাস্কাল, যা সাধারণ নিম্ন-কার্বন ইস্পাতের চেয়েও বেশি। একই সঙ্গে এর নমনীয়তা এটিকে প্রায় যেকোনো আকারে রূপ দেওয়ার সুযোগ দেয়।

প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে ভবিষ্যৎ

বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই নতুন উপাদানটি ভবিষ্যতে ইলেকট্রনিক্স থেকে শুরু করে প্যাকেজিং—বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এতে কোনো বিষাক্ত রাসায়নিক নেই এবং এটি মাইক্রোপ্লাস্টিক তৈরি করে না।

ফলে পরিবেশ দূষণ কমাতে এটি হতে পারে এক যুগান্তকারী সমাধান।

How microbes could help solve the world's plastic pollution crisis

জনপ্রিয় সংবাদ

ওয়ার্শ যুগের সূচনা: এশিয়ার মুদ্রাগুলোর সামনে নতুন বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষা

ব্যাকটেরিয়ার তৈরি কাগজসদৃশ উপাদান, ইস্পাতকেও ছাড়িয়ে শক্তি—প্লাস্টিক দূষণ রোধে নতুন আশা

০২:৩৮:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

প্লাস্টিক দূষণ আজ বৈশ্বিক পরিবেশের অন্যতম বড় সংকট। এই সংকট মোকাবিলায় এক চমকপ্রদ সম্ভাবনা তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা। ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে তৈরি হয়েছে এমন এক নতুন জৈব উপাদান, যা দেখতে কাগজের মতো হলেও শক্তিতে ইস্পাতকেও টেক্কা দিতে পারে।

নতুন এই উপাদানটি শুধু শক্তিশালীই নয়, বরং নমনীয়, ভাঁজ করা যায় এবং সম্পূর্ণভাবে জৈবভাবে পচনশীল। ফলে এটি পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে প্লাস্টিকের জায়গা নিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

কাগজের মতো, কিন্তু ধাতুর শক্তি

গবেষকদের তৈরি এই উপাদানটি প্রথম দেখায় সাধারণ কাগজের মতো মনে হলেও এর বৈশিষ্ট্য একেবারেই ভিন্ন। এটি উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে এবং শক্তির দিক থেকে ধাতু কিংবা কাঁচের সঙ্গে তুলনীয়। একই সঙ্গে এটি নমনীয় হওয়ায় বিভিন্ন আকারে সহজেই ব্যবহারযোগ্য।

Plastic-eating bacteria boost growing business of bioremediation | Nature  Biotechnology

গবেষণার নেতৃত্বদানকারী বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই উপাদান ভবিষ্যতে বহু পণ্যে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, যা পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ব্যাকটেরিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে তৈরি সুপার ফাইবার

এই উদ্ভাবনের মূল রহস্য লুকিয়ে আছে ব্যাকটেরিয়ার আচরণ নিয়ন্ত্রণে। সাধারণত ব্যাকটেরিয়া এলোমেলোভাবে বৃদ্ধি পায়, কিন্তু এখানে বিজ্ঞানীরা তাদের নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় চালিত করেছেন।

নিয়ন্ত্রিত ঘূর্ণনের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করিয়ে তাদের এমনভাবে পরিচালিত করা হয়েছে, যাতে তারা নির্দিষ্ট বিন্যাসে অত্যন্ত শক্তিশালী তন্তু তৈরি করে। এই বিশেষ বিন্যাসই উপাদানটির অসাধারণ শক্তির মূল কারণ।

ন্যানো উপাদানে আরও শক্তিশালী

We are just getting started': the plastic-eating bacteria that could change  the world | Plastics | The Guardian

গবেষণায় দেখা গেছে, একটি বিশেষ ন্যানো উপাদান যুক্ত করার ফলে এই জৈব উপাদানের শক্তি আরও বেড়েছে। পাশাপাশি তাপ পরিবাহিতার ক্ষমতা উন্নত হওয়ায় এটি উচ্চ তাপমাত্রাতেও স্থিতিশীল থাকে।

চূড়ান্তভাবে তৈরি উপাদানটির শক্তি প্রায় ৫৫৩ মেগাপাস্কাল, যা সাধারণ নিম্ন-কার্বন ইস্পাতের চেয়েও বেশি। একই সঙ্গে এর নমনীয়তা এটিকে প্রায় যেকোনো আকারে রূপ দেওয়ার সুযোগ দেয়।

প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে ভবিষ্যৎ

বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই নতুন উপাদানটি ভবিষ্যতে ইলেকট্রনিক্স থেকে শুরু করে প্যাকেজিং—বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এতে কোনো বিষাক্ত রাসায়নিক নেই এবং এটি মাইক্রোপ্লাস্টিক তৈরি করে না।

ফলে পরিবেশ দূষণ কমাতে এটি হতে পারে এক যুগান্তকারী সমাধান।

How microbes could help solve the world's plastic pollution crisis